রিদ্য ঢাকা শহরে চলে যাওয়ার সময় অনেক কেঁদেছিলো মেয়েটা। এই দুই বছরে কখনো দেখা না করে থাকেনি তারা কিন্তু এখন ঢাকায় পড়ার জন্য প্রমা কে ছেড়ে বাধ্য হয়েই চলে যেতে হচ্ছে রিদ্যর। প্রমার জোরেই সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা টা দিয়েছিলো তবুও আজ যাওয়ার ক্ষনে প্রমা নিজেকে আটকে রাখতে পারছে নাহ কান্নার উপচে পড়া স্রোত থেকে। তাদের প্রিয় কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে দেখা করল সকাল ৭টায়। ৯ টায় তো বাস রিদ্যর! লুকিয়ে লুকিয়ে বাসা থেকে খাবার এনেছে প্রমা।চলে গেলো রিদ্য! রোজ বাটন ফোনে কথা হতো তাদের। নতুন ক্লাসে খুব ভালোই লাগছে রিদ্যর। কিছু বন্ধু হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওয়া শরীরে লাগতেই স্টাইলেও পরিবর্তন এসেছে রিদ্যর। নতুন হওয়া কিছু বন্ধুর মাঝে জারা নামের একজন মেয়ে ও আছে। মেয়েটির রিদ্য কে খুব ভালো লাগে। সহজ সরল ছেলেটিকে ভালোবেসে ফেলে জারা। ইতিমধ্যে প্রেজেন্টেশন টিম বানিয়ে দেন স্যার যেখানে জারা,রিদ্য ও হামিদ একটি টিম। এবার প্রতিনিয়ত একসাথে কাজ করতে করতে জারার প্রতি অজানা এক দূর্বলতা কাজ করে রিদ্যর। কমতে থাকে প্রমার কাছে যাওয়া ফোনকলের সংখ্যা।পড়ালেখার ব্যস্ততা ভেবে প্রমাও মানিয়ে নেয়। হঠাৎ একদিন প্রমার বাবা শহরে প্রমার ফুফুর বাসায় আসতে চাইলে প্রমাও জেদ করে আসার জন্য। প্রমার বাবা কদিনের জন্য তাকে রেখে আসে ফুফুর বাসায়। রিদ্য কে সারপ্রাইজ দিতে প্রমা যায় তার বিশ্ববিদ্যালয়ে। কথায় কথায় ফোনে একবার শুনেছিলো কত নম্বর রুমে ক্লাস হয়। সেই হিসেবেই গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো প্রমা। ক্লাস শেষে সবাই এলেও রিদ্যকে না দেখতে পাওয়া প্রমা ক্লাসে ঢুকে রিদ্যকে জারা হাত ধরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চোখের পানি আস্তে করে জানান দেয় প্রমার দুনিয়ায় কতটুকু বন্যা হয়ে যাচ্ছে। রিদ্য বোঝায় হাত ধরা সিম্পল ব্যাপার এ যুগে কিন্তু ওই যে! প্রিয় মানুষের অন্যের দিকে তাকানোর ধরণ বুঝতে পারে মেয়েরা! চোখের পানি মুছে একটা শব্দও না বলে হেঁটে চলেছে প্রমা। আর ফিরে তাকাবে নাহ কখনো হয়তো। সোজা বাসে উঠে যায় প্রমা। বাসা ফেরার পথ ও যেন আজ তার বিরুদ্ধে ছিলো! মাঝরাস্তায় বিপরীতমুখি এক ট্রাকের ধাক্কা ঝলসে দেয় প্রমার শরীর।
সব শান্ত। শুধু চিৎকার করে কাঁদছে রিদ্য। সে নিজেকে কোনদিন ক্ষমা করবে নাহ। কোনদিনই নাহ! আজ এই গ্রামে সব আছে শুধু প্রমা নেই। নেই কৃষ্ণচূড়াকে ভালোবাসা সেই মেয়েটি। কৃষ্ণচূড়ার সেই গাছটির নিচে প্রমার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে রিদ্যর মনে হতে লাগলো কৃষ্ণচূড়া প্রেমি প্রমা যেন তাকে বলছে-"কৃষ্ণচূড়ার আমি তার কাছেই রয়ে গেলাম।তোমার কেন হতে পারলাম নাহ বলো তো?"
Contributor
Writers' Club BD
