এদিকের দিনগুলি

এদিকের দিনগুলি

সোওরাব মামার দোকানের চা টাই আগে নিলো দিকা। একটা আধভাঙ্গা ছাউনি দেওয়া চট প্যাচানো দেয়াল এর পাশে রঙচটা ধোঁয়া ওঠা চা এর সেই পুরনো লোহার কেটলি টা বসানো। এসেই দোকানের পাশের ব্রেঞ্চটায় বসতেই সোওরাব মামা একগাল হেসে জিজ্ঞাসা করল -"আরে মামা।বহুত দিন পর আইলা। হেই মামা কই তোমার লগে?" প্রশ্নের উত্তরে কিছু না বলে শাড়ির আঁচলটা মুড়িয়ে নিয়ে হাতে ধরে দিকা বলে উঠল - "দাও মামা তোমার সেই ঝাক্কাস চা টা।" সোওরাব মামা চা বানাতে মনোযোগ দিলো। দিকার মনে ভেসে উঠলো বন্ধুদের আড্ডা মানেই ছিলো সোওরাব মামার দোকান। চা খেয়ে বিল চুকিয়ে হেঁটে চললো চারুকলা অনুষদের দিকে। ইশ কত রাত এই রাস্তার চত্ত্বর গুলোতে গান গেয়ে কাটিয়েছিলো! মনে পড়ে সেই ধুম বৃষ্টির রাতের কথা। রুপোসের জোরেই সারাটা রাত বৃষ্টিতে ভিজে আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছিলো সে, রুপোস, অনামিকা আর শুভ্র। এরপর সেই যে জ্বর এলো! এক সপ্তাহ ক্লাস মিস। সুস্থ হয়ে যেদিন এক সপ্তাহ পর চারজনে প্রথম ক্লাসে গেলো, সেবার স্যার সবগুলোকে ক্লাসের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলো পুরো ক্লাস জুড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নাম করা কিছু পাবলিকের কিছু নাম করা স্যার অবশ্যই আছেন। এনারা বেতনটাকে একটু বেশিই হালাল করার চেতনায় স্টুডেন্টদের জীবনটাকেই হারাম করে দেন। মনের অজান্তেই এসব দিনগুলি ভাবতে ভাবতে পথ ভুলে দোয়েল চত্বরের রাস্তায় চলে এসেছে দিকা। আহ কি শান্তি! মন খারাপে দিকার প্রিয় জায়গা ছিলো এই দোয়েল চত্বর। এরকমই বিষাদগ্রস্ত এক বিকেলে সেই যে মেঘের গর্জনময় ডাক আর শুভ্রর সাথে দিকার দোয়েল চত্বরে বসে আড্ডা তা আজও দিকার মনে দাগ কেটে যায়। প্রেমিক হিসেবে শুভ্র বরাবরই অযোগ্যভাবে যোগ্য পুরুষ। যাই হোক, এবার যেতে হবে দিকাকে। কাল রাতের ফ্লাইটে শুভ্র আর দিকার সাদাবাবুদের দেশের যাত্রা। রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে একটা অচেতন মুচকি হাসি হেসে চলে যাচ্ছে দিকা। এই হল, সেই রাত, এই বিকেল, কিছু প্রতিঘাত আজ দিকার পদচারণার সাথী। কবে হল ছাড়বো? কবে একটা সংসার সাজাবো শুভ্র? আজ আইলটস কাল জিআরই! কবে যে মাস্টার্স টা শেষ হয়! এতো এতো প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে যখন মাস্টার্স শেষ হওয়ার এক মাসের মাথায় শুভ্রকে বিয়ে করে টুপিওয়ালা সাদাবাবুদের দেশে যাওয়ার সময় হয়ে এলো ঠিক তখনি সেই অপরিচ্ছন্ন অভিযোগ ভর্তি হলের জন্য মন কেনো কাঁদছে? কেন অনামিকা, রুপোস আর ইরার সাথে দেওয়া আড্ডাগুলোই সেরা সময় মনে হচ্ছে?
দিকার চোখ দিয়ে দু এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ছে।এদিকের দিনগুলি কি তবে সেদিকের রাতগুলির চেয়ে বেশি স্মৃতিময়? এটাই হয়তো সাফারিং ফ্রম সাকসেস।

নাম : সাবাইতা জান্নাত। 
ডেজিগনেশন : জুনিয়র কন্টেন্ট রাইটার।