কেমন হতো যদি আপনি রোগাক্রান্ত হওয়ার আগেই আপনার রোগ সনাক্ত করতে পারতেন ? এইতো সম্প্রতি এক ব্যক্তি নিউরালিংক ব্যবহার করে নিজের মস্তিষ্কে সিগন্যালের মাধ্যমে হাত নাড়াচাড়া না করেই গেম খেলেছে , শুধু তাই না, হাঁটতে চলতে না পারা এক প্যারালাইস ব্যক্তি হাঁটতে শুরু করেছে, কথা না বলতে পারা এক প্যারালাইজড মহিলা কথা বলতে শুরু করেছে। ইলন মাস্ক শুকর এবং নিরীহ বানরদের উপর চালাচ্ছে পাশবিক নির্যাতন।
আপনি কি হলিউডের 'The Matrix 'সিনেমা দেখেছেন? যেখানে ' Neo' তার মস্তিষ্কে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম রেখে যুদ্ধের কৌশল অধ্যায়ন করে ।
আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না 'Neuralink' কি কি করতে পারে ।
১. নিউরালিংক অন্ধ মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে পারে। এটির মাধ্যমে একজন অন্ধ ব্যক্তি পৃথিবীকে বিভিন্ন ধরনের রঙে দেখতে পাওয়া সুযোগ পাবেন।তবে অল্প রেজুলেশনের আলো অন্ধ ব্যক্তি দেখতে পাবে।
৩. Infrasound সাউন্ড এর মত 20 Hz এর নিচের শব্দোও শুনতে পারবেন । আপনি জেনে অবাক হবেন পাঁচটি প্রাণী এই ইনফ্রাসাউন্ড এর মাধ্যমে কথোপকথন করে:
* তিমি মাছ, হাতি , গন্ডার, কুমির , ওকাপি ।
আমরা জানি মানুষের শ্রাব্যসীমা 20- 2000Hz । সুতরাং এ থেকে বোঝা যায় ধীরে ধীরে এটি মানবীয় সৃষ্টি ও টেলিযোগাযোগের এক বিশাল দার উন্মোচন করবে।
আমাদের এই দৃষ্টির বাইরেও একটি জগৎ আছে , আমাদের শোনার বাইরেও একাধিক শব্দ আছে । ওই যে কথায় আছে আমরা থ্রি ডাইমেনশন ( 3D) পর্যন্ত দেখতে পারি কিন্তু ফোর ডাইমেনশন(4D) অনুভব করতে পারি। হতেও পারে এমন কোন দিন আসবে যখন গবেষণা আরো উন্নত হবে এবং আমরা ফোর্থ ডাইমেনশন এবং আরো উচ্চতর মাত্রায় সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে পারব ।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনি চোখ বন্ধ করেই একটি অবিশ্বাস্য দৃশ্য জাগিয়ে তুলতে জানেন?
একটা ভালো সিনেমা বানাতে বছর লেগে যায় সেখানে যদি আপনি শুধুমাত্র আপনার কল্পনা করা দৃশ্যটাকেই সিনেমায় রূপদান করতে পারতেন তাহলে কেমন হতো?
নিউরালিংক কিন্তু সেই কাজটাও করতে পারবে এখনো গবেষণা চলমান ।
'Neuralink 'মানবজাতির ভবিষ্যৎ নাকি হুমকি ?জানতে পড়তে থাকুন। তাছাড়া Nuralink কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে সেটি সম্পর্কেও জানতে পারবেন ।
কল্পনা করুন একটি অসুস্থ মুক্ত বিশ্ব যেখানে আপনি রোগাক্রান্ত হওয়ার আগেই আপনার রোগকে শনাক্ত করতে পারবেন । Dementia এর মত রোগ যেগুলো্র কোন চিকিৎসা নাই , সেই রোগগুলোও ঠিক হয়ে যাবে। Dementia হলে আপনি সবকিছু ভুলতে শুরু করবেন,
জায়গার নাম ,আপনার পূর্বের স্মৃতি ভুলতে শুরু করবেন ,এমনকি আপনারআত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব
কাউ কেউ চিনতে পারবেন না ।
Momento সিনেমায় যেমন স্মৃতিতে ফিরে যেয়ে মনের অবস্থা পরিবর্তন করার ঘটনা দেখিয়েছে নির্মাতা ঠিক তেমনি Neuralink এর মাধ্যমে রোগ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা নির্ণয় করতে পারবেন।
এখন নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে যে এগুলো কিভাবে সম্ভব?
জাদুর চিপ 'নিউরালিক'। নিউরালিংক কর্পোরেশন হলো একটি আমেরিকার নিউরোটেকনোলজি কোম্পানি , Implant করা মস্তিষ্ক কম্পিউটার ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করছে । কোম্পানিটি ইলন মার্কস এবং সাতজন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলির একটি দল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
নিউরালিংক এর ভেতর প্রায় ১০২৪টি ' Electrodes' আছে । যেগুলো মানুষের চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম । একটি বিশেষ রোবটের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অতি সূক্ষ্ম 2mm ছিদ্র করে 'Neuralink 'বসানো হয়। এখন প্রশ্ন আসতে পারে Electrodes আবার কি ?
ইলেক্ট্রোড হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিবহন এবং ইলেক্ট্রকেমিক্যাল প্রতিক্রিয়া সহজতর করার জন্য ডিজাইন করা। N1 Chip Neuralink এ যে ১০২৪ টি ইলেকট্রোড আছে এগুলো আমাদের দেহের কোষ ও টিস্যু গুলির মধ্যে হতে বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ করে ।আমাদের দেহের কোষ ও টিস্যুতে বিদ্যমান আয়ন গুলোর চলাচলের ফলে এ ধরনের বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়, এই সংকেত গুলোই মূলত Neuralink গ্রহণ করে কম্পিউটারের ভাষায় অনুবাদ করে রোগ নির্ণয় করে,এবং ডিজিটাল ডিভাইসের সাথে Wearless সংযোগ
স্থাপন করে এবং আপনার মস্তিষ্ককের ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে খুব সহজেই আপনি বিভিন্ন স্কিলে দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন।শুধু আপনার রোগ নির্ণয় নয়, আপনার 'Mental illness ' দূর করবে ডিপ্রেশন থেকে শুরু করে সকল ধরনের নেশা হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এটির মাধ্যমে ।
আপনারা শুনে অবাক হবেন Paralysis এবং Autism ঠিক হবে , সম্প্রতি কিছু রোগী এটা থেকে পজিটিভ ফিডব্যাক পেয়েছেন।
কি মনে হচ্ছে নিউরালিংক মানবজাতির ভবিষ্যৎ নাকি হুমকি? আমি যদি এখন আপনাদের বলি 6 লক্ষ টাকা ব্যয় করে আপনি নিউরালিংক কিনুন আপনি কিনবেন? নিশ্চয়ই আপনার উত্তর হবে-'' না''
হ্যাঁ আপনি যদি সামর্থ্যশালী ব্যক্তি হন তাহলে আপনার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। ভবিষ্যতে হয়তো এমন সময়ও আসতে পারে যখন নিউরালিংক শুধুমাত্র ধনী ব্যক্তিদের কাছেই থাকবে গরিব বা মধ্যবিত্তরা 'Afford 'করতে পারবে না, এতে করে একটা সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে গবেষকরা চিন্তিত। সাইন্স ফিকশন মুভিতে আমরা যেরকম আধা মানুষ -আধা রোবট ( সাইবার্গ) গুলোকে দেখি যারা এডভান্স হিউম্যান ,যারা পৃথিবীর জন্য অভিশাপ বয়ে আনে পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় , কিন্তু নিউরালিংক এর প্রতিষ্ঠার পিছনের উদ্দেশ্য মানব সেবা। স্বয়ং 'Elon musk' নিজেই এটা নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেছেন-" 'Ai' যখন আমাদের পুরো মস্তিষ্কের ক্ষমতার প্রতিলিপি তৈরি করতে পারবে তখন যে কোন ব্যক্তির বুদ্ধিই তার থেকে কম হতে পারে। এজন্য আমাদের কে মানবতার সাথে নিজেদেরকে আরও বেশি সক্ষম করে তুলতে হবে।"
এতকিছুর ভিতরেও মানব সেবার জন্য হুমকির মধ্যে পড়ছে পশু সমাজ Elon musk এর কোম্পানি মানুষের
মাথায় নিউরালিংক লাগানোর আগে প্রায় ১৫০০ পশুর উপর চালিয়েছে রিসার্চ , তার মধ্যে বানর এবং শুকর অন্যতম। এই Brain Computer Interface( BCI) এর রিসার্চ করতে যেয়ে হুমকির মুখে পড়ছে পশু সমাজ , যা নিয়ে সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এম,ডি অনিরুদ্ধ রাহী
কনট্রিবিউটার
রাইটারস ক্লাব বিডি
