বইয়ের নাম: চাঁদের পাহাড়
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: ১৯৩৭
চাঁদের পাহাড় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং অভিযানমূলক উপন্যাস। এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু শংকর, একজন সাধারণ ছেলেকে ঘিরে, যার বেড়ে ওঠা অজপাড়া গাঁয়ে। শংকরের মধ্যে ছিল অদম্য সাহস এবং দুর্লভ কিছু অর্জনের ইচ্ছা। তার সেই ইচ্ছা তাকে নিয়ে যায় আফ্রিকার গহীন অরণ্যে, যেখানে সে মুখোমুখি হয় এক অজানা স্বপ্নের।
এই অভিযানে শংকরের সহযাত্রী ছিল ডিয়াগো আলভারেজ, একজন অভিজ্ঞ অভিযাত্রী, যিনি ইতোমধ্যেই তার জীবনে অনেক সাহসিক অভিযান সম্পন্ন করেছেন। আফ্রিকার গভীর অরণ্যে, অচেনা-অজানা পথে, জীবন ও মৃত্যুর হাতের মুঠোয় নিয়ে তাদের পথচলা যেন এক চিরন্তন সাহসিকতার উদাহরণ। এই অভিযানে তাদের সঙ্গী হয়ে উঠে এক স্বপ্ন, যা তাদেরকে প্রতিকূল পরিবেশেও এগিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করে। যেন সেই স্বপ্ন তাদের কানে কানে বলে, "আর কিছু পথ, তারপর আমি তোমাদের দখলে!"
অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে, জীবন-মরণের সাথে লড়াই করে শংকর একদিন পৌঁছে যায় সেই "চাঁদের" পাহাড়ে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শৈলী খুবই সাবলীল, তবে তার লেখায় গভীর অর্থ এবং আবেগ মিশে থাকে। উপন্যাসটির প্রতিটি অংশে পাঠক এক দুঃসাহসিক অভিযানের অংশীদার হয়ে ওঠে, যেখানে আফ্রিকার অজানা পথের বর্ণনায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং ভয়াবহতাও ফুটে ওঠে।
লেখকের বর্ণনা এতটাই জীবন্ত যে, পাঠক যেন নিজেকে সেই আফ্রিকার জঙ্গলে অনুভব করতে পারেন। শংকরের সাহসিকতা, সংগ্রাম এবং তার পথচলা শুধু গল্পের সীমা ছাড়িয়ে পাঠককে অনুপ্রাণিত করে, এক অদম্য আত্মবিশ্বাসের পাঠ শেখায়। এই উপন্যাসটি কেবল রোমাঞ্চের নয়, বরং মানবিক সাহসের এক মঞ্চ, যা পাঠককে উৎসাহিত করবে নতুন দিগন্তে পা রাখার জন্য।
