রকমারি শব্দটি একটি বিশেষণ পদ যার অর্থ নানাপ্রকার। ইতোমধ্যেই রকমারি তার নামের যথার্থ মূল্যায়ন করেছে। ২০১২ সালের ১৯ শে জানুয়ারি মাহমুদুল হাসান সোহাগ — আবুল হাসান লিটন, এহতেশামুল শামস রাকিব, জুবায়ের বিন আমিন এবং মো: খায়রুল অনাসকে নিয়ে এই সাইটটি চালু করেন।
ইতিহাস:
দীর্ঘ ১৩ বছর কঠোর পরিশ্রম, আলোচনা-সমালোচনা, বাঁধা-বিপত্তি কাটিয়ে সমৃদ্ধির ঘরে পা বাড়িয়েছে। মাত্র ১০০ টি বই নিয়ে এই অনলাইন বইয়ের দোকানের পথ চলা শুরু হয়েছেছিল; দেড় লক্ষাধিক বই স্টোকে রাখার মাধ্যমে অসম্ভব কে সম্ভবের দুয়ারে এনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন বাণিজ্য মেলা শুরু করে রকমারি যা সাইটটিকে সফলতার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রাপ্ত সামগ্রী:
সাইটটি শুধুমাত্র বই নিয়ে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় ভিন্ন ধাঁচের জিনিস পত্র পাওয়া যায়। সাহিত্যের সকল বিভাগের বই – উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, কবিতা, ফিকশনাল, নন-ফিকশনাল, একাডেমিক, নিয়োগ প্রস্তুতি, আত্ম-উন্নয়ন, রাজনীতি, ইসলামিক সহ বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষার বই পাওয়া যায়। এছাড়া ক্রীড়া সামগ্রী এবং ষ্টেশনারী জিনিসপত্রও উল্লেখযোগ্য। রকমারি কে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা ই-বুক এর অংশগ্রহণকে স্মরণ না করলেই নয়।
উপকারিতা:
বর্তমানে প্রায় ১৫০ কর্মী এই সাইটে কর্মরত আছেন। এছাড়াও এফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে অনেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। ই-বুক এর মাধ্যমে সহজেই সাহিত্যের চাদরে নিজেকে মোড়াতে পারেন বই প্রেমিকগণ । লাইব্রেরীতে গিয়ে বই কেনার মতো সময় বর্তমান দিনে অত্যন্ত জটিল সমীকরণ। এই জটিল সমস্যা নিমিষেই সমাধান দিয়েছে রকমারি। ঘরে কিংবা কর্মক্ষেত্রে বসে নির্দ্ধিধায় পছন্দের বই অর্ডার করা যায়।
উদ্দেশ্য:
রকমারি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের কোণায় কোণায় বই প্রেমিক তৈরি করা সাথে বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞানের আলো বিকশিত করা। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হোক বা থানচি থেকে শিবগঞ্জ – বই প্রেমিকদের হাতে বই তুলে দেয়ার যে অনবদ্য চেষ্টা কয়েক বছর আগে আরম্ভ করেছিল; এখন সেটি সর্বকুল মানুষের নিকট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর পিছনে লুকিয়ে আছে কিছু পরিশ্রমী মানুষের ঘামে আবৃত নিঃশ্বাস; যা শুধু মাত্র সাফল্যের অপেক্ষায় দিন গুনেছিল।
কার্যক্রম:
রাজধানীর ভিতরে প্রায় ৩-৫ দিন, রাজধানীর বাইরে প্রায় ৭-১০ দিন এবং ডাকযোগে ৫-৭ দিনের মতো সময় লাগে অর্ডারকৃত বই অথবা সামগ্রী গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে। হোম ডেলিভারি সিস্টেমকে আরো বিশ্বাসযোগ্য ও প্রচলিত ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করার পিছনে রকমারি এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ; টাকা পেইমেন্ট সিস্টেমকে উন্নত করেছে মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক কার্ড এবং রকমারি নিজস্ব ওয়ালেট পদ্ধতিকে যুক্ত করে।
এফিলিয়েট প্রোগ্রাম:
ভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয় এই প্রোগ্রাম; এর মাধ্যমে সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। যা পরবর্তীতে অর্থ উপার্জন করতে সহযোগিতা করে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট বই অথবা পণ্য খুব সাবলীল ভাবে উপস্থাপিত হয়। কেননা যিনি এফিলিয়েট লিংক তৈরী করে জনগণের সুবিধার্থে ভাগধেয় করেন,যেনো সেই বই অথবা পণ্যটি চেনা পরিচিত মানুষ অর্ডার করতে পারেন। এতে রকমারির সুবিধা হলো পণ্যটি বা বইটির প্রচারণা চলে, যা তাদের ব্যবসা ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব রাখে।
পণ্য অথবা বই রিভিউ এবং রেটিং:
বই অথবা পণ্য রিভিউ ও রেটিং হচ্ছে কাস্টমার কতৃক ব্যবহৃত পণ্যের গুনগতমান, কর্মক্ষমতা এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মতামত। একটি পণ্য ব্যবহার করার পর ঐ পণ্য সম্পর্কে প্রকৃত গ্রাহকের নিরপেক্ষ মতামত বা ফিডব্যাকের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি অন্য কাস্টমারকে পণ্যের কর্মক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য, এবং গুনগতমান সম্পর্কে পূর্ব ধারনা দিয়ে থাকে। ফলে উক্ত পণ্যটি আরেকজন গ্রাহক কিনবে কি না সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসা সহজতর হয়।
প্রোমোকোড:
প্রোমোকোড হলো একটি বিশেষ কোড যা অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় ব্যবহার করা হলে কিছুটা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। রকমারি বিভিন্ন ধরনের প্রোমোশনের সময় প্রোমোকোড অফার করে থাকে।
গিফট ভাউচার:
গিফট ভাউচার হলো একটি প্রিপেইড ভাউচার যা বই অথবা অন্য যেকোনো পণ্য কেনার সময় ব্যবহার করা যায়। রকমারিতে সাধারণত ৫০০-১০,০০০ টাকার মধ্যে গিফট ভাউচার পাওয়া যায়। এই ভাউচার গুলো এক প্রকার পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে।
রকমারি এমন একটি দায়িত্বশীল এবং বিশ্বাসযোগ্য সাইট – যা বই প্রেমীদের বইয়ের প্রতি নেশা বাড়িয়েই চলেছে দিন দিন। সর্বদা জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশে প্রাপ্ত ই-বাণিজ্য সাইট গুলোর মধ্যে এটি অত্যন্ত নান্দনিক, মার্জিত এবং সাইটে বই অথবা পণ্য উপস্থাপনা গ্রাহকদের মন কেড়েছেন বারে বারে। দেশী-বিদেশী লেখকদের বইয়ের সংমিশ্রণ আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে এই ই-বাণিজ্য সাইটটিকে। বই পড়ার প্রতি উৎসাহ প্রেরণ করে প্রতিনিয়ত; যা আগামী প্রজন্মতে একটি নতুন প্রয়াস জাগিয়ে তুলবে বলে আশা করি।
