মানুষের কল্পনার জগৎ বিশাল আর সেই কল্পনার জগতে মানুষের দেখা হয়ে যায় সেই মানুষের সাথে, যাকে সে লালন করে নিজের ভেতরে । যার সাথে চলে দিবানিশির অসংখ্য কথামালা, আবেগ আর অনুভূতি।
রাতুল গ্রামের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ২১ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে শহরে আসে রাতুল। বাবার ২য় বিয়ের পর তার বাবাও আর তার খোঁজ নেয়না। এই বড় পৃথিবীতে রাতুলের আপন বলতে তেমন কেউ নেই। তার মায়ের চাচাতো ভাই শহরে আছেন বেশ কয়েকবছর বছর যাবৎ। তার সেই দূরসম্পর্কের মামার বাসার চিলেকোঠার ঘরে আশ্রয় পেয়েছে। রাতুল বেশ গোছালো স্বভাবের।
রাতুল বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছে। তার মায়ের দোয়া ছাড়া তার কাছে আর কিছু নেই। চারটি টিউশনি করে কোনভাবে সে তার নিজের খরচ বহন করে।
রাতুল স্বপ্নময় একটা জীবন পার করছিলো। হয়তো এটার জন্য দায়ি তার একাকিত্বতা। রাতুলের মনে আঁকা, নীল রংয়ে ঘেরা এক কল্পনার জগৎ। সেখানেই তার স্বপ্নেরা বাস করে। রাতুলের স্বপ্নের নীল ঘরে বসবাস করে তার নীল পরি।তার সাথে স্বপ্নে সে রোজ সময় কাঁটায়। সে ভাবে তার স্বপ্নের মানুষটার নামও হয়তো নীলা হবে। সে তার ছোট্ট ঘরটি সাজিয়েছে নীল রংয়ের আসবাবপত্র দিয়ে। নীল রং তার যেন খুব বেশিই ভালো লাগে।
রাতুলের মন জুড়ে নীলাকে নিয়ে একবুক স্বপ্ন। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে খাটে শুয়ে শুয়ে হঠাৎ তার চোখটা লেগে যায়। দরজায় করাঘাতের শব্দ।রাতুল এগিয়ে দরজাটা খুলে দেখে, নীলা এসেছে। পড়নে নীল শাড়ী , হাতে নীল চুড়ি, কপালে নীল টিপ... নীলা রাগান্বিত হয়ে বলল, সেকি রাতুল তুমি এখনো তৈরি না হয়ে ঘুমোচ্ছ? তাড়াতাড়ি আমার দেওয়া নীল পাঞ্জাবিটা পড়ে আসো।নীলাকে দেখে রাতুল কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তারপর রাতুল ঝটপট তৈরি হয়ে গেল।
রাতুলের বরাবরের মতোই একটা স্বপ্নের জায়গা আছে। সে চায় নীলার সাথে সে কিছু সময় সেখানে কাটাবে। অবাক করা বিষয় হলো, নীলা তাকে ঠিক তার স্বপ্নের সেই জায়গাতেই নিয়ে গিয়েছে। রাতুল তো অসম্ভব খুশি। নীলা মুচকি হেসে বলছে কেমন চমকে দিলাম তোমায়?
নীল আকাশের নীচে বিশাল নদী, সেখানে ভাসছে নীল অর্কিডে সাজানো নীল তরী।তরীতে বসে মাঝ নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে দুজনে । নীলা রাতুলের কাঁধে মাথা রেখে মনের কত, না বলা জমা কথা বলছে। এমন ভালো অনুভূতি রাতুলের আগে কখনই হয়নি। যে তার স্বপ্নের মতো করে, এতো সাজানো সব কিছু হবে।
আকাশে মেঘ করেছে,, মেঘের গুড়গুড় শব্দে ঘুম ভাঙ্গে রাতুলের। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে, তার নীলাভ অনুভূতি সব তার স্বপ্ন ছিলো, ভেবে হাসছে রাতুল।
এর মাঝেই বৃষ্টির ফোটা নামতে শুরু করলো।রাতুল জানালার শিক ধরে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে আর ভাবছে, চিলেকোঠার জানালার ধারে, এমন বৃষ্টিভেজা রাতে, দুজনে একসাথে বৃষ্টি দেখবো।দুহাত বাড়িয়ে তুমি আমি বৃষ্টি ছোঁব। এঁকে দেব কপোলে তোমায় চুম্বনরেখা। তোমায় রেখেছি কাব্য জালেবন্দী করে। সেই স্বপ্নীল আশা।
চলে যাব একসাথে, কোনো এক নিশি ফুলের রাজ্যবাগে।যেখানে ফুলের গন্ধে নৃত্য করে নীল পরিরা।বৃষ্টির মতো ঝরে পরে নীল জোছনা। নীলাবরনের স্বপ্নগুলো কি অধরাই রয়ে যাবে। স্বপ্নগুলো কি নীল স্মৃতি হয়েই থাকবে নাকি পাবে পূর্ণতা। নীলা কি আদৌও আসবে আমার স্বপ্নের মতো করে?
আজ দুচোখ বড্ড হয়রান
তোমায় দেখার অপেক্ষায়
কবে আসবে তুমি?
জড়িয়ে ধরবে আমায়?
বলবে, ভালোবাসি রাতুল।
ভালোবাসি তোমার স্বপ্নের নীল রং।
চলো সাজাই আমাদের নীলে ঘেরা ছোট্ট সংসার।
মোছাঃ-আফসানা
ভলেন্টিয়ার কন্টেন্ট রাইটার
