ঠিক বছর শেষের আগের দিন, একদম ভালো লাগছে না। ভীষণ কথা বলতে ইচ্ছে করছে। ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকতেই একটা আইডি চোখে পড়ল,
-এটা আবার কে? কই আগে তো দেখিনি! মেসেজ দিয়ে দেখব? বলতে বলতেই হূট করে দিয়ে দিলাম মেসেজ আর সাথে সাথেই উত্তর এলো," কিভাবে আপনায় সাহায্য করতে পারি?" ভীষণ অদ্ভুত লাগছিল! একরকম রাগেই উত্তর দিলাম কোন ভাবেই না।
ছেলেটিও নাছোড়বান্দা মেসেজ দিয়েই যাচ্ছে। ঠিক এভাবেই শুরু হয়েছিল একটি মিষ্টি গল্প...
কতশত হাসি-আনন্দ, অভিযোগ-অভিমান সবকিছু পেরিয়ে কতগুলো দিন ও মাস পেরিয়ে আমাদের বর্ষপূর্তি হলো। ভাবতেই অবাক লাগে যে দেখতে দেখতে একসাথে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও মনে হয় এই তো সেদিন আমাদের পরিচয় হলো; কি অদ্ভুত! সময় কত তাড়াতাড়ি চলে যায়। তবে তোমার হূট করে ফোন দিয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে বলা, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা, প্রতি মাসে মাসে আমায় চমকে দেয়া টা কে ভীষণ মিস করি আবার আমার মন খারাপ এর সময় না বলতেই বুঝতে পারার তোমার অসীম ক্ষমতাটাকে আজও আবিষ্কার করতে পারলাম না!
ভীষণ অনন্য তুমি, কোন তুলনাই হয় না তোমার। সেই শুরু থেকে এখনও অবধি তোমাতেই মুগ্ধ আমি। তোমার মায়াতে আসক্ত না হয়ে কোন উপায় আর পেলাম না। পুরো ব্যাপারটাই কত অসাধারণ! একদম অপরিচিত থেকে অতিপ্রিয়তে জায়গা করে নিয়েছো। মনে আছে সে বছর আমরা একসাথে ফানুস উড়িয়ে ছিলাম। সে সময় তুমি কত বিস্মিত হয়ে চেয়ে ছিলে আমার দিকে! সেই বার এর বর্ষপূর্তিতে আমায় কত গল্প বলেছিলে, আমরা সারাদিন ঘুরেছিলাম। বিকেল বেলায় সবুজ প্রান্তরে বসে আকাশের গোধূলি দেখেছিলাম। সন্ধে বেলায় মেঘ ভেঙে বৃষ্টি এসেছিল অঝোরে,আমরা ভিজেছিলাম। শহরের বুকে কত যে অজস্র স্মৃতি মেখে আছে।
আবারও কোন এক বর্ষপূর্তিতে ঘুরব আমরা। বহুদূর যাবো। এখনও তো অনেকটা পথ চলা বাকি রয়ে গেছে। কতশত ইচ্ছেরা ভীড় করে রয়েছে সবটা যে একসাথে পূর্ণ করতেই হবে। মনে থাকবে তো?
অনুগল্প: বর্ষপূর্তি
লেখায়: জেবা আনিকা
