বাসস্ট্যান্ড এ দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ করে পেছন থেকে কে যেন আমার নাম ধরে ডাকলো। পেছনে ফিরে তাকাতেই চমকে উঠলাম, একটা শব্দ ভেসে এলো, " নিতু, চিনতে পারছো আমায়?"
অনিন্দ্যকে এখানে এত ভিড়ের মধ্যে, এতগুলো বছর পর আবার দেখতে পাবো কখনো ভাবিনি। ওকে দেখে কিছুটা অন্যমনস্ক হতেই, সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। সেই প্রাণবন্ত, চঞ্চল ছেলেটা একদম বদলে গেছে। এখন অনেকটা শান্ত স্বভাবের হয়ে গেছে। চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। মুখের দিকে ভালো করে না তাকালে চেনায় যায় না এটা অনিন্দ্য। আবার ও একটা শব্দে ঘোর কাটলো। ওর দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম যে ও কিছু একটা বলতে চাইছে আমাকে।
কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "মনে আছে আমাকে?"
"অনিন্দ্য কিছুটা হেসে উঠে বললো, কি যে বলোনা তুমি! তোমাকে কি ভোলা যায়? সেই কলেজ থেকে এখনো যাকে পাগলের মত খুঁজে বেড়াচ্ছি, কিভাবে ভুলবো তাকে?"
"আসলে কলেজ থেকেই অনিন্দ্যকে আমার ভীষন ভালো লাগতো। ওকে প্রথম ভালোলাগার কথা বলতেই ও না করে দিয়েছিল। পরে অবশ্য একরকম ভীষণ খারাপ লাগা কাজ করাই ওর থেকে দূরে সরে এসেছিলাম। এরপর যদিও অনিন্দ্য অনেক চেষ্টা করেছিল যোগাযোগ করার। কিন্তু আমিই দূরে সরে এসেছিলাম। কেউ যদি একবার নিজে থেকে দূরে সরে আসে তবে হয়তো তাকে আর ফেরানো যায় না।"
এরপর অনিন্দকে কেমন আছো, জিজ্ঞেস করতেই ও বলে উঠলো, সব কথা কি এখানেই বলবে নাকি! কোথাও বসা যাক?
পাশেই একটা কফি শপ ছিলো, না চাইতেও ওর কথা ফেলতে
পারলাম না, যেতেই হলো। এরপর সেখানে গিয়ে দুজনই বেশ অনেকটা সময় চুপচাপ বসে ছিলাম। কিছুক্ষন পর নিরবতা ভেঙে ও হুট করে বলে উঠলো, "সবকিছু কি আবার নতুন করে শুরু করা যায়না?" সেদিন আমি তোমার গুরুত্বটা ঠিক বুঝতে না পারলেও, তুমি চলে যাবার পর বেশ ভালো মত উপলব্ধি করেছি যে তোমার গুরুত্বটা কতখানি ছিলো আমার জীবনে। বন্ধুদের সামনে তোমায় নিয়ে মজা করা একদম উচিৎ হয়নি আমার। সবকিছু কি আবার আগের মত শুরু করা যায়না নিতু? বলতে বলতেই গলা শুকিয়ে এলো অনিন্দের। কিছুটা উদগ্রীব হয়ে ছিলো আমার উত্তরের অপেক্ষায়।
কিন্তু কিছুই করার ছিল না আমার। অনিন্দ্যের কথা শুনে টেবিল থেকে উঠে পড়লাম আর বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম। অনিন্দ্য হয়তো ভাবছে আমি সেদিনের জন্য প্রতিশোধ নিলাম। একটা সময়ে যাকে অসম্ভব পছন্দ করতাম আজ সে নিজেই আমার জীবনে ফিরতে চাইছে, কিন্তু সে তো জানে না আমার বর্তমান।
অনুগল্প: পূর্বতন
লেখায়: জেবা আনিকা
