স্যারের রুমে যাওয়াটা কি ঠিক হবে এখন ?
যদি স্যার কিছু বলেন, রাগ করেন আবার যদি উল্টা পাল্টা কিছু হয়ে যায় তখন ?
কিন্তু এইদিকে অংকের এই টপিকটা বুঝতে পারছি না….
স্যারের রুমে দাঁড়িয়ে এমন দুশ্চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে ছেলেটি।
বেতন বাড়ানোর কথাটি কি করে যে বলি বসকে
যদি বেতন বাড়ানোর কথা বলতে গেলে অন্য কিছু হয় ?
বসের রুমে দাঁড়িয়ে এমন দুশ্চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছে অফিসের কোন এক লোক
উক্ত ঘটনার মতো এমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কম বেশী আমাদের সবারই হয় তবে এমন অতিরিক্ত চিন্তা ক্ষতিকরই বটে। এমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা কে ওভার থিংকিং বলা হয়।
এই ওভার থিংকিং ব্যাপারটি মূলত কি ?
প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করাকে বলা হয় ওভার থিংকিং (over thinking)। বলা বাহুল্য, চিন্তা করার প্রবণতা আমাদের সকলের সহতজাত প্রবৃত্তি হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা আমাদের মধ্যে এক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন একজন মানুষের মধ্যে ওভার থিংকিং হয় ?
বিভিন্ন কারণে ওভার থিংকিং হতে পারে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয়, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, নিজের অতীত নিয়ে পড়ে থাকা, সবকিছু নিখুঁত হতে হবে এমন চিন্তা করা। এক বাক্যে বলতে গেলে জীবনের নেতিবাচকতা আর কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ততা থেকেই ওভার থিংকিং এর সূত্রপাত হয়ে থাকে আর ওভার থিংকিং এর কুফল কিন্তু কম নয় যেমনঃ কাজের ফোকাস কমিয়ে দেয়া, অলসতা, ঘুম কমে যাওয়া,নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা, এমনকি ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ হতে পারে ওভার থিংকিং এর ফলে।
তাহলে কীভাবে ওভার থিংকিং থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায় ?
সহজ ভাবে বলতে গেলে ওভার থিংকিং থেকে এক দিনেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব না, তবে কিছু জিনিস মেনে চললে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব যেমনঃ ইতিবাচক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা, ইতিবাচক মানুষের সাথে মেশা, লেখার অভ্যাস তৈরি করা অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, নিজেকে অন্যের সাথে অহেতুক তুলনা করা বন্ধ করা, মাঝে মাঝে প্রাণ খুলে হাসা এই গুলো হতে পারে ওভার থিংকিং থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার কিছু টিপস।
সব শেষ এটাই বলতে হয় জীবনে চলার পথে চিন্তা কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা থাকবেই তবে ইতিবাচক মনোভাব, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখাটাই আসল এই ওভার থিংকিং নামক চিন্তার নৈরাজ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য
