রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

Sandeep Maheshwari

আজ আমরা যাকে নিয়ে কথা বলব তিনি হচ্ছে আমার একজন পছন্দের মোটিভেশনাল স্পিকার ” Sandeep Maheshwari ” । সন্ধিপ মহেশ্বরী এর জন্মস্থান ভারত । তবে তার জনপ্রিয়তা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার জন্য অনেক মানুষ নতুনভাবে বাঁচতে শিখেছে । আমরা সাধারনত কিছু করলে আশা ছেড়ে দেই । কিন্তু তিনি বারবার সফল না হয়েও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন । এডিসনের কথাটা মনে আছে তো ? যিনি লাইট আবিস্কার করতে গিয়ে হাজার বার চেষ্টা করেও হাল ছাড়েন নি । সন্ধিপেরও একটা উক্তি আছেঃ “Never give up ” মানে ” কখনো হাল ছেড়ো না ” তিনি অত্যন্ত সাধারন পরিবার থেকে এসেছেন । ১৯৮০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এ তার জন্ম । তার বাবা ছিলেন একজন অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাবসায়ি । ১০ ম শ্রেনি পর্যন্ত সন্দ্বীপ অনেক চুপচাপ আর একা ছিলেন । মানে বর্তমান চরিত্রের সম্পূর্ণ আলাদা । তার মাত্র একজন বুন্ধ ছিল , আর তিনি এতোটাই ইনসিকিউর ছিলেন যে সেই বন্ধুটি না আসলে তিনি কেম্পাসের এক কোনায় গিয়ে লাঞ্চ টাইমে লাঞ্চ করতেন । তবে উনি অনেক দুষ্টু ও ছিলেন । স্কুল থেকে তার নামে বাসায় কমপ্লেইন যেত । তবে তিনি ভালো মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণও হতেন । ১০ম শ্রেনিতে পড়াকালীন সময়ে তার বাবার ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যায় । তাই তিনি পিসি ও এর মতো ছোটখাট কাজ করা শুরু করেন । তিনি খেলাধুলা , এনজয় করার বয়সে নিজের ফ্যামিলি চালিয়েছেন । ১১দশ শ্রেনিতে উঠার পর তিনি নিহা নামের একজন মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেন । পরবর্তীতে তিনি তাকে বিয়েও করেন । তিনি পয়সা উপার্জনের জন্য লিকুইড সাবান , বিক্রি করেন । ক্ররিমাল কলেজ থেকে বিএ করার সাথে তিনি মডেলিং ও করতেন । তার ফটোগ্রাফি করার শখ ছিল । তিনি আর্থিক সমস্যার কারনে কলেজ লাইফের পড়াশুনা কমপ্লিট করতে পারেন নি । তিনি মডেলিং ছেড়ে দিয়ে “Mash audio visual ” নামে কোম্পানি খুলেন । কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেটা অফ হয়ে যায় । তারপর তিনি” মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ” অফিসে কাজ শুরু করেন । কিন্তু সেটাতেও বেশিদিন কাজ করতে পারলেন না । এরপর ২০০২ সালে ৩ বন্ধুদের সাথে একটা কোম্পানি খুলেন । কিন্তু সেটাও ৬ মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় । তারপর তার অসফল হওয়ার কারণগুলো নিয়ে একটি বই লিখে ফেলেন । সেটাও কাজে দেয়নি । তাই তিনি আবার হাতে ক্যামেরা হাতে নেন । আর শেষে ২০০৩ সালে ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে তিনি ১২২ জন মডেলের ১০ হাজার টা ফটো তুলে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন । আর এটাকে লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে অন্তর্গত করা হয় । তারপর তিনি এই ছবি তুলার কাজ আগে বাড়ানোর জন্য একটা ওয়েবসাইট তৈরি করেন । যার নাম হচ্ছে ” IMAGEBAZAR” কিন্তু সেটাও তেমন সুবিধা আনল না । তাই তিনি ওয়েবসাইটটিতে কিছু পরিবর্তন আনেন । তারপর তার জীবনে সফলতা আসতে শুরু করে ।সেই ওয়েবসাইট টি অনেক বড় হতে শুরু করে । আর তিনি চাইলে ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নিতে পারতেন । কিন্তু তিনি চেয়েছেন যেন মানুষ তার মতো চেষ্টার পর ভেঙ্গে না পড়ে । তাই তিনি তার ভুলগুলো দেখিয়ে মানুষকে শিক্ষা দেন ।বর্তমানে তিনি একজন ব্যাবসায়ি এবং মোটিভেশনাল স্পিকার । এখন তিনি ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মোটিভেশনাল ভিডিও বানান । তার ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে , তার কাজকে মানুষ ভালোবাসে , তাকে মানুষ তার কাজের জন্য ভালোবাসে ।কয়েক মাস আগে তিনি ইউটিউব থেকে “Diamond play button ” পেয়েছেন ।

আপনারা চাইলে ইউটিউব চ্যানেল থেকে তার মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতে পারেন ।


উনার বক্তব্যের একটি ঘটনা আমি নিচে উল্লেখ করছিঃ ১৯৩৮ সালের ক্যারেলি নামের একজন মানুষ ছিলেন । উনি ছিলেন একজন হাঙ্গেরিয়ান আর্মি । ক্যারেলি তার দেশের বেস্ট পিস্তল শুটার ছিল । ঐ দেশে যত ধরনের ন্যাশনাল কম্পিটিশন ছিল সবগুলোতে সে ফার্স্ট হতো । সবাই কনফিরম ছিল অলিম্পিকে সেই বিজয়ী হবে। আর সেখাএন গোল্ড মেডেল ক্যারেলি ই পেয়েছিল । সে বহু সাল ধরে ট্রেনিং নিচ্ছিল তার হাতকে সে বেস্ট বানাবে । আর সে সময় আসতে আর ২ বছর বাকি ছিল । ১৯৩৮ সালে আর্মির এক ট্রেনিং এ এক্সিডেন্ট এ সে তার ডান হাত হারায় । যে হাতটা নিয়ে তার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল তা মাটিতে মিশে গেল । তার কাছে তখন ২ টা অপশন ছিলঃ হয় এভাবে ধুকে ধুকে মরা আর নয়ত আবার বেঁচে উঠা । তাই ক্যারেলি ফোকাস করেছে । সে ফোকাস করেছিল যেটা তার কাছে ছিল , তার বাম হাত ।এমন একটা হাত যে হাতে সে লিখতে পর্যন্ত পারত না । সে এক মাস পড়ে তার ট্রেনিং শুরু করে দেয় । এক সাল পরে সে যখন অলিম্পিকে যায় তখন মানুষ তাকে বলে” এটাকেই মনোবল বলে , তোমার উপর এতকিছু হওয়ার পরেও তুমি এসেছ আমাদের সাহস দিতে ” কিন্তু ক্যারেলি তখন বলেছিল ” আমি তোমাদের সাহস দিতে নয় , তোমাদের সাথে কম্পিটিশন করতে এসেছি । তৈরি হয়ে যাও । ” কেউ জানতো না সে এক বছর ধরে ট্রেনিং নিচ্ছিল ।বাকি সবাই তাদের বেস্ট হাত দিয়ে কম্পিটিশন করছিল , কিন্তু ক্যারএ লি তার ” একমাত্র হাত ” দিয়ে স্যুট করে .
কে জিতল ? The person with only hand সে এখানেই থেমে গেল না । তার গোল ক্লিয়ার ছিল । তার উদ্দেশ্য ছিল তার হাতটাকে দেশের বেস্ট হ্যান্ড না , ওয়ার্ল্ড এর বেস্ট হ্যান্ড বানাতে হবে । সে ১৯৪০ সালের অলিম্পিকে নজর দেয় । কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪০ এর অলিপমিক কেন্সেল হয় , তারপর ১৯৪৪ এর দিকে নজর দিলে সেটাও বিশ্বযুদ্ধের কারনে কেন্সেল হয়ে যায় । সে তারপর ১৯৪৮ এর অলিম্পিক এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে । ১৯৩৮ সালে তার বয়স ছিল ২৮ । আর ১৯৪৮ এর তার বয়স হয় ৩৮ । ইয়ং প্লেয়ারদের সাথে টক্কর দেওয়া মুশকিল । কিন্তু “মুশকিল ” নামের কোন শব্দ তার ডিকশনারিতে ছিল ই না । সে টা একমাত্র হাত দিয়ে স্যুট করল । আর কে জিতল ? The man with his only hand সে তবুও থামল না , ১৯৫২ সালে আবার সে যোগদান করল । কে জিতল ?Karoly !! সে পুরো হিস্টোরি বদলে দিল । সে পরপর ২ বার গোল্ড মেডেল জিতে নেয় । এরপর ও কি তোমাদের কাছে বাহানা থাকবে ? এক্সকিউজ থাকবে কোন কিছু না পারার ?

তুমি যদি লুসারের কাছে এর কাছে যাও , তার কাছে বাহানার লিস্ট থাকবে কাজ টা না করার । আর তুমি যদি উইনার এর কাছে এর কাছে যাও , তার কাছে ১০০০ টা কারন থাকবে কাজ টা না করার আর ১ টা কারন থাকবে কাজটা করার । আর সে ঐ ১ টা কারনে হলেও কাজটি করবে =) Sandeep maheshwari বলেন ” aasaan hai ” মানে সহজ । কোন কাজকে কঠিন মনে করলেই সেটি কঠিন , তবে সহজ মনে করলেই সহজ । অযুহাত দেখিয়ে কাজ না করে বসে থেকে বরং সহজ ভেবে প্রচুর মনোবল নিয়ে কাজ টা সেরে ফেলাই উত্তম ।
কলমেঃ সাইফা আক্তার

Angelica Saifa

Ex-SHKSCian DMRCian Junior content writer at writer's club bd Member of BSK CA at Suhash Silpangon

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close