নন ফিকশন

Get rid of over thinking

Over thinking বা কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবন দূর্বিষহ করার অন্যতম হাতিয়ার। চাইলেও আমরা অনেক সময় নিজেদের মাত্রাতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা। কিন্তু আমরা চাইলেই অন্তত চেষ্টা করতে পারি নিজেদের দুঃশ্চিন্তাগুলো থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলোতে মনোনিবেশ করতে!

Over thinking is like the hell to ourselves

Over thinking বা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার ১০ টি উপায়-

১. Put things into a wider perspective:

       যখনই কোনো বিষয় নিয়ে আমরা অতিরিক্ত চিন্তার মাঝে ডুবে থাকি তখন আমরা নিজেরা নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি আমরা নিজেই নিজেকে করতে পারি সেটি হলো- “আমি যে বিষয়টি নিয়ে এত বেশি চিন্তা করছি, আসলেই কি সেটি আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ? আগামী ৫ বছর কিংবা ৫ মাস কিংবা আগামী ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত এটি কি আমার কাছে সমান গুরুত্ব নিয়ে থাকবে?” প্রশ্নের উত্তরগুলো পজিটিভ হলে অবশ্যই সে বিষয়টি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত চিন্তা না করে বিষয়টি নিয়ে কাজে লেগে পড়াই উত্তম।

২.Set short time-limits for decisions-

      একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও যখন ঐ বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা শুরু করা হয়, সেটি কিন্তু সবসময় ভালো ফল না এনে খারাপ ফলও বয়ে আনতে পারে! তাই প্রয়োজনীয় সব বিষয়গুলো নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেয়ার, তাতে যতটুকু সময় প্রয়োজন সেটুকু সময় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া ভালো। নয়তো কখনো হয়তো আরো ভালো, আরো ভালো এবং আরো ভালো কোনো সুরাহা করতে গিয়ে শেষমেশ কাজটাই করা হয়ে উঠলো না! তাই প্রয়োজনীয় কাজে দুঃশ্চিন্তা না করে কাজটা যথাসময়ে সঠিকভাবে শেষ করাই যথার্থ 

৩. Stop setting your day up for stress and overthinking-

     যদি আপনি আপনার দিনের শুরুটাই করেন Stress আর Tension দিয়ে তাহলে দিনের শেষ পর্যন্ত এটা আপনার উপর প্রভাব ফেলবে এবং এটাই তো স্বাভাবিক। তাই নিজের দিনের শুরুটা ভালোভাবে করুন। পাশাপাশি সারাদিনের ঝামেলা এড়াতে প্রতিটা কাজের পর যথেষ্ট বিশ্রাম নিন নিজের Focus ঠিক রাখতে। Toxic যে বিষয়গুলো আপনাকে খারাপভাবে প্রভাবিত করে সেসব বিষয় এড়িয়ে চলুন অথবা সেসবের মোকাবেলা করুন।

৪. Become a person of action-

     একজন মানুষ যখন কাজের মধ্যে থাকে তখনই সে সবচেয়ে ভালো থাকে। কাজ ছাড়া থাকলেই মনে যত বাজে চিন্তার উদ্ভব হয়। তাই কাজ করুন। অনেক সময় হয়তো কোনো কাজ অনেক কঠিন প্রতীয়মান হয়। তাই কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য প্রথমে ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আপনার ছোট পদক্ষেপ আপনার কাজ শুরু করতে সহায়তা করবে এবং সম্পূর্ণ কাজটা এরকম ছোট ছোট ধাপে শেষ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠবে আপনার জন্য। আর কাজ শুরু করলেই তো তা শেষ হবে! তাতে আপনার কাজের মধ্যে থেকে ভালো থাকাটাও হয়ে যাবে সহজে!

Focusing only to our work make ourselves active

৫. Realize that you cannot control everything-

      পৃথিবীর কোনো মানুষের হাতে তার চারপাশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার যথেষ্ট সুযোগ আমাদের আছে। তাই যখন চারপাশের ঘটে যাওয়া যে ঘটনাগুলোর সাথে আপনি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পাচ্ছেন না কিংবা কোনো জিনিস আপনি যেভাবে চাচ্ছেন কিন্তু সেভাবে পাচ্ছেন না তখন সেসবকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও আপনি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারেন। হয়তো সাময়িক কষ্ট হবে আপনার, কিন্তু এর থেকে উপকার ভালোই পাওয়া যাবে। অন্তত মানসিক শান্তির উপায় হবে এতে।

৬. Get plenty of good quality sleep-

     একটা মানুষের ঘুমই যদি ঠিকঠাক না হয়, তাহলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঠিকভাবে না করতে পারায় সেখানে থেকে  হতাশা এবং এই হতাশা থেকে বিষয়টি নিয়ে অধিক দুঃশ্চিন্তায় ডুবে থাকাটাও স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই, একজন মানুষের জন্য ঘুম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

৭. Spend more of your time with people who do not overthink things-

     কথায় আছে, “সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।” আমরা যদি নিজেদের চারপাশ এমন মানুষ দিয়েই পূরণ করে রাখি যারা কিনা নিজেরাই হতাশাগ্রস্ত, নিজেরাই দুঃশ্চিন্তায় নিমগ্ন, তাহলে আমরা কীভাবে নিজেকে অধিক দুঃশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখতে পারবো? তাই নিজের আশেপাশে এমনসব মানুষ থাকা দরকার কিংবা এমন মানুষের সাথে মেশা দরকার যারা নিজেদের মধ্যে পজিটিভিটি ধারণ করে এবং পজিটিভিটি ছড়িয়ে দেয়।

৮. Spend more of your time in the present moment- 

     আমরা নিজেদের অতীতকে অতীতেই ফেলে রেখে এসেছি। আবার আমরা কেউই জানিনা আমাদের ভবিষ্যতে কি হবে। কিন্তু নিজের বর্তমান সময়টা জুড়ে আমরা সবসময়ই আছি। তাই বর্তমানটাকে কাজে লাগানো জরুরি। অতীত ঘেটে সেখানে পরে না থেকে, কিংবা ভবিষ্যতে কি হবে সে চিন্তায় নিজের হাতে থাকা সময়গুলোকে নষ্ট করে বরং অতীতকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে নিজের কাজে ডুবে নিজের বর্তমানকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার মাধ্যমে আমরা নিজের বর্তমান সময়টাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারি। আর এভাবে ভবিষ্যৎটাও ভালো করে নিতে পারি আমরা।

A perfect plan can make a day perfect

৯. Change your view of life-

আমাদের মানসিক কোনো অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য আমাদের চারপাশের অবস্থারও পরিবর্তন করা জরুরি। কারণ চারপাশের পরিবেশ আমাদের মন, আমাদের চিন্তাভাবনার উপর দারুণ প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু আমরা চাইলেই আমাদের চারপাশের পরিবেশের অবস্থা নিজের মনের মত করে পরিবর্তন করতে পারিনা। তাই নিজের দিক থেকেই প্রথম পরিবর্তন আনা জরুরি। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন কিংবা নিজের চিন্তার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা আমাদের জন্য সম্ভব। তাই নিজের মধ্যে পরিবর্তন এনে, জীবনকে ইতিবাচক দিক থেকে দেখার শুরু করাটা জরুরি।

১০. Be Grateful-

একজন মানুষ কখনোই এক সাথে অনুশোচনা ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে বাঁচতে পারেনা। 

এখন নিজেই নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা যায়, “এ দুটো দিকের মধ্যে কোনোটাকে আমরা বেছে নিবো? আমরা কি নিজেদের সময়টা ইতিবাচকতার সাথে কাটাতে পারিনা?” ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন থেকে উত্তর ইতিবাচক কিছুই চলে আসে আমাদের ভিতর থেকে। তাই, রোজ সকালে অনুশোচনা নিয়ে দিন শুরু করার পরিবর্তে একটা লিস্ট করে ফেলুন না সেসব বিষয়গুলো নিয়ে, যা আপনাকে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করায়, যে বিষয়গুলো আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। এবং এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে সময় কাটানো শুরু করুন। এতে সময়গুলো নিজে থেকেই ভালো যেতে বাধ্য। 

Let’s make our live to live happily

Sushama Roy

Content Writer

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close