রিভিউ

মেঘ বলেছে যাবো যাবো হুমায়ূন আহমেদ

বইঃমেঘ বলেছে যাবো যাবো

রিভিউঃ রুদ্র ফারাবী

মেঘ বলেছে যাবো যাবো বইটি বলতে গেলে এক কথায় অসাধারণ। পারফেক্ট একটা উপন্যাস। কিছু বই আছে না যে বইগুলো শুধু একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা। কিন্তু এই উপন্যাসটি ঠিক সেরকম বই নয়। এ বইয়ের সমস্ত কিছু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ধরতে গেলে মানুষের জীবনের হাসি, কান্না, আনন্দ মুহূর্ত, কষ্টের মুহূর্ত সমস্ত কিছু। হুমায়ূন আহমেদের অসাধারণ একটি লেখা। আপনি যদি হুমায়ূন আহমেদের ফ্যান হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বইটা অবশ্যই পড়া উচিত। এই বইটা আপনাকে মাতিয়ে রাখবে আনন্দের মুহুর্ত গুলি তে। আবার আপনাকে কাঁদিয়েও তুলবে। আপনি যদি উপন্যাসটির ভিতরে ঢুকে পড়তে পারেন। তাহলে পড়া শেষ হলে আপনি প্রথম একদিন দুই দিন ওই চরিত্র গুলি থেকে নিজে আলাদা করতে পারবেন না। আমার উপদেশ ওই এক দুই দিনের মধ্যে আপনি নতুন কোন উপন্যাস পড়া শুরু করবেন না। আর ৯০% কিশোর কিশোরীরা এই উপন্যাসটা পড়ার পর বলবে এটা আমার পড়া শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

মেঘ বলেছে যাব যাব উপন্যাসটি মূলত মধ্যবিত্ত জীবনের উপর লেখা। এই জীবনঘনিষ্ঠ সামাজিক উপন্যাসটিতে লেখক তুলে ধরেছেন মধবিত্তের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া, ভালবাসা, ব্যর্থতা, সুখ দুখ কষ্ট। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাসান এই বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র যার আশেপাশের চেনা মানুষদের জীবন কাহিনীই, আর প্রতিটি ঘটনায় হাসানের সম্পৃক্ততা চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসটিতে। অন্যভাবে ভাবলে হাসানের কাহিনীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে একেকটা ঘটনা। অন্য এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তিতলির সাথে বেকার যুবক হাসানের ব্যর্থ প্রেমের গল্প, তিতলির সাথে তার মা সুরাইয়া ও বোন নাবিলার সম্পর্ক, তিতলির বাবার সাথে তার কন্যাদের সম্পর্ক, হাসানের সাথে তার ভাবি রিনার সম্পর্ক, হাসানের মার সাথে হাসানের বাবার সম্পর্ক, তারেকের সাথে তার স্ত্রী রিনার সম্পর্ক, তারেকের সাথে তার কলিগ লাবণীর অবৈধ সম্পর্ক, মূলত মধ্যবিত্তের জীবনে যতধরণের সম্পর্কের দেখা যায়, তার সবই উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। একসময় তিতলির বিয়ে হয় বিত্তশালী এক ছেলের সাথে, অন্যদিকে এক সাধারন মধ্যবিত্ত যুবকের মতো হাসান এর মৃত্যু হয়। হুমায়ূন আহমেদ খুব চমৎকার ভাবে মানুষের জীবন, মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ও বাস্তবতাকে তুলে এনেছেন সহজভাবে, নাটকীয়তা ছাড়াই।

টপিকঃ

Rudro Farabi

আমি একজন পাঠক

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close