সত্য ঘটনাহরর

ব্ল্যাক ম্যাজিক এবং আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ( পর্ব -১)

(সতর্কতা – এখানে প্রচুর সেন্সিটিভ এবং ডিরেক্ট কথাবার্তা থাকবে। যারা স্পর্শকাতর, তাদের এই পোস্টগুলো ইগনোর করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। আর হ্যাঁ, কুফরি কালাম, ব্ল্যাক ম্যাজিক জঘন্য রকমের একটা জিনিস। এই পোস্টের মাধ্যমে আমি কোন মানুষকে উৎসাহিত করছি না, বরং সাবধান করতে চাচ্ছি।)

পর্ব -১

আজ আমি আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর একটা ঘটনার কথা বলবো৷ ব্ল্যাক ম্যাজিক, ভয়ঙ্কর অবসেশন,জীবন উথাল- পাথাল করা ভালোবাসা, প্রতারণ, ভয় এবং কিছু ডিস্টার্বিং ব্যাপার সবকিছু মিলেমিশে একাকার এই ঘটনার মধ্যে।অনেকের কাছে শুনতে ব্যাপারটা বেশ ফিল্মি টাইপ কিছু একটা মনে হতে পারে। বাট ট্রাস্ট মি, এই লেখার প্রতিটি ঘটনা সত্য এবং আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা।বেশ ডিস্টার্বিং ছিলো ব্যাপারগুলো। টানা একবছর সময় লেগেছে আমার ঐ ঘটনার ট্রমা থেকে রিকোভার হতে। এখনও মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। ব্যাপারটা নিয়ে আমি অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি, অনেক ভেবেছি আর রিসার্চ করেছি৷ তারপর দু’টো ব্যাথা বের করেছি। একটা প্যারানরমাল ব্যাখ্যা, আর একটা সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা৷ ব্যাখ্যা দু’টো আমি সম্পূর্ন কাহিনী শেষ হবার পরে বলবো। আর হ্যাঁ,কাহিনীটা বেশ বড়, তাই আপনাদের একটু ধৈর্য্য ধরে পড়তে হবে।

যাই হোক, ঘটনাটার সূত্রপাত ঘটেছিল গতবছরের এপ্রিল মাসে। আমি তখন হোস্টেলে থাকতাম।আমার খুব কাছের এক বান্ধবী আমার পাশের রুমে উঠলো। মেয়েটা জঘন্য রকমের একাকীত্ব আর ডিপ্রেশনে ভুগছিলো। সারাদিন খালি দিশেহারাভাবে এদিক সেদিক তাকিয়ে থাকতো আর বলতো সুইসাইড করবো। মেয়েটার দীর্ঘ দু’বছরের সংসার ভেঙ্গে গিয়েছিল। তার ধারণা ছেলের মা তাদের সম্পর্ক ভাঙ্গার জন্য নাকি কুফরি করেছে৷ কুফরির পদ্ধতিটাও বেশ জঘন্য আর নোংরা ছিলো।মহিলা কোন এক কুফরি এক্সপার্টের সাথে প্রথমে শারীরিকভাবে মিলিত হয়েছিলেন, তারপর তার মাসিকের রক্ত এবং ঐ মানুষটার স্পার্ম, শরীরের রক্ত আর ছেলে -মেয়ের ব্যবহার্য কাপড় একত্র করে, মন্ত্র -তন্ত্র ফুঁকে দূরে কোথাও ফেলে দেয়া হয়েছিল। ( আরও অন্য কিছুও থাকতে পারে৷ আমি এতটুকু শুনেছি।) পাশাপাশি খাবারের সাথেও নাকি কীসব মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছিলো।আর তাকে সাহায্য করছিলো ছেলেটির ছোটভাই।

কুফরি করার পরপরই মেয়েটা ভয়ঙ্কর রকমের অসুস্থ হয়ে যায়, তার হ্যালুসিনেশন হওয়া শুরু করে৷ বেচারি সব জায়গাতেই নাকি সাপ দেখতে পেতো। তার বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়, স্বামী পাত্তা দেয়া বন্ধ করে দেয় এবং একসময় ডিভোর্স ও হয়ে যায়।

আমার সাথে যখন তার দেখা হয়, তখন সে মোটামুটি আধপাগল হয়েছিল। সারাদিন খালি মরতে চাইতো আর ডেস্পারেটের মতো ঐ ছেলেকে আবার আগের মতো পেতে চাইতো। আমাকে সারাদিন বলতো – ” আমি ঐ ছেলেকে বশীকরণ করে আবার আগের মতো আমার কাছে নিয়ে আসবো। “
আমি শান্তনা দিতাম, সে কিছুতেই আমার কথা বুঝতো না।সারাদিন ইউটিউবে কেকা বাবার মন্ত্র, বেল পাতা -লেবুপাতা দিয়ে বশীকরণ করার ভিডিও দেখতো আর ট্রাই করতো৷ কিন্তু কিছুতেই কোন লাভ হতো না। অবস্থা একদিন এতোটাই খারাপ হয় যে, সে আমাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো পুরান ঢাকার রাস্তাঘাটে। কোথায় নাকি শুনেছে পুরান ঢাকায় অনেক ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান থাকে।সারাদিন লালবাগ, শ্মশান, নানান পুরাতন কালী মন্দির ঘেঁটে ঘুঁটে অবশেষে এক সাধুর সন্ধান পাই আমরা। পুরান ঢাকার এক কালী মন্দিরের আশেপাশেই সে সাধু বাবার বাড়ি। বাড়ি নং -১৩. নাম সাধক বাড়ি। অনেকেই হয়তো চিনবেন।

সে যাই হোক, সাধক বাবার বাড়ির অবস্থা দেখে রীতিমতো গা শিরশির করে উঠে আমার। অন্ধকার, সরু একটা বাড়ি। সারা বাড়িভর্তি একগাদা বিশাল বিশাল দেশী বিদেশী কুকুর। মানুষ দেখলেই চিৎকার করে উঠে। সিড়ি গুলো এতোটাই চিকন আর খাড়া খাড়া যে, কোনমতো একজন মানুষ ঝুলে ঝুলে উঠতে পারে। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। দিনের বেলাতেও ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে উঠতে হয়। সাধুবাবা বসেন একদম উপর তলায়। রুম ভর্তি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ধর্মের ধর্মীয় ছবি, চিহ্ন আর মূর্তি। তার চারিদিকে সারাক্ষণ মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। লাইন ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সাধু বাবার সাথে দেখা করার জন্য। ওরা দূর দূরান্ত থেকে আসে সমস্যা সমাধানের জন্য। বেশীরভাগই স্বল্প শিক্ষিত আর নিম্নমধ্যবিত্ত ফ্যামিলির। সাধুবাবা পানির বোতলের মধ্যে কাইতন, একটুকরো কাঠ ফেলে দিয়ে মন্ত্র ফুঁকে দেন। মাঝে মাঝে স্মশানের কাঠ আর লবণ মিশিয়ে কাগজের পোটলা এগিয়ে দেন ভক্তদের।কারও ওপর রাগ হলে গালিগালাজ করেন। হিংস্রভাবে মেঝের ওপর দা দিয়ে আঘাত করেন আর সামনের মানুষটাকে লাথি মারতে চান। সে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। এপ্রিলের ভয়ঙ্কর গরমে সেদিন প্রায় আড়াই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আমি আর আমার বান্ধবী সাধুবাবার কাছ থেকে এক বোতল মন্ত্রপূত পানি নিয়ে আসি। সাধুবাবা তাকে বলেছিলেন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানির বোতল নেড়ে বলতে হবে – ” come shuvo, come! “
একদিনও যদি এ নিয়মের ব্যাতিক্রম হয়, তাহলে নাকি সে ছেলে আর ফিরে আসবে না। টানা পনের দিন এটা করার পর, আবার তার সাথে দেখা করতে বলা হয়। ট্রাস্ট মি, এটা শোনার পর হাসতে হাসতে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম, এখনও লিখছি আর হাসছি।
সে যাই হোক, তিনি এটাও বলেন যে এখন থেকে টানা পনের দিন আমাদের সাথে অনেক কিছু ঘটবে।সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। এবং কিছুতেই কাজ বন্ধ করা যাবে না। আমি এই ঘটনার সাক্ষী,তাই আমার কাছেও নাকি অনেক কিছু আসবে। ব্যাপারটা প্রথমে হালকা ভাবেই নিয়েছিলাম। কিন্তু রাতে ঘুমানোর আগে যখন আমার বান্ধবী বাথরুম থেকে বের হয়ে এসে বলল তার পাশে নাকি ছায়ার মতো কী একটা দাঁড়িয়ে ছিলো, তখন আমি সত্যি সত্যিই ভয় পেয়ে গেলাম।ভয় আর টেনশনের চোটে রাতে বোবা ও ধরে বসেছিল আমাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় অবশ্য এটাকে স্লিপিং প্যারালাইসিস বলে৷

সে যাই হোক, মূল ঘটনা এটা না। আসল ঘটনা শুরু হয় এর ক’দিন পর থেকে। পরের পর্বে সে কাহিনী খুলে বলবো।

( চলবে)

Neela Moni Goshwami

জন্ম ২৭ ডিসেম্বর , ১৯৯৬, কুমিল্লা। ভীষন হাসিখুশী আর খানিকটা পাগল টাইপের এই মেয়েটা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে খুব। তার প্রিয় শখ বই পড়া, লেখালেখি করা আর ছবি আঁকা এবং প্রিয় স্বপ্ন নিজের লেখা একগাদা বই হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো! ভবিষ্যতে সে একজন সত্যিকারের ভালো লেখিকা হতে চায়। আর কাজ করতে চায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু আর আশ্রয়হীন বৃদ্ধদের জন্য। বর্তমানে সে ন্যাশনাল কলেজ অফ হোম ইকোনমিক্স থেকে শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছে। লেখিকার " তাকে ভালোবেসে ", " কঙ্কাল সরোবর " এবং " এটিকুয়েটা " নামে তিনটি বই আছে।।তাছাড়া তিনি " রাইটার্স ক্ল্যাব বিডি " প্রজেক্টটির ফাউন্ডার।

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close