রিভিউ

বুক রিভিউ- “ব্লিঙ্ক” ও “আর্ট অফ ওয়ার”

আমাদের অনেকেরই সেলফ হেল্প বইয়ের প্রতি আলাদা ঝোঁক কাজ করে। আজ তাই এমনই দুইটি আত্মউন্নোয়ন বই “আর্ট অফ ওয়ার” ও ”ব্লিঙ্ক” এর রিভিউ লিখছি। আর্ট অফ ওয়ার বইতে মূলত যুদ্ধের কলাকৌশলের পাশাপাশি মোটিভেশনাল কথাও বলা হয়েছে। অপরদিকে ব্লিঙ্ক সাইকলজি জনরার বিখ্যাত বই; যেখানে চোখের পলকে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন Malcom Gladwell.

ব্লিঙ্ক

                              আর্ট অফ ওয়ার

পঁচিশ বছর আগে, সানজু চীনা যুদ্ধ এবং সামরিক চিন্তাধারার ভিত্তিতে সামরিক কৌশলটির এই ক্লাসিক বইটি লিখেছিলেন। সেই সময় থেকে, সমস্ত স্তরের সামরিক বাহিনী সান তজু শিক্ষাকে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করেছে এবং সভ্যতা এই শিক্ষাগুলি রাজনীতি, ব্যবসায় এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করেছে। আর্ট অফ ওয়ার এমন একটি বই যা বোর্ডরুম এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিরোধীদের পক্ষে সুবিধা পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা উচিত। Kelly সান তজুর প্রাচীন প্রজ্ঞাটি নথিভুক্ত করেছেন।

ব্লিঙ্ক

যুদ্ধের কলাকৌশল কালের অসঙ্গতি থেকে অনেক দূরে — এর পৃষ্ঠাগুলি এমন মৌলিক প্রশ্নগুলির রূপরেখা দেয় যা যুদ্ধের তাত্ত্বিকরা আজ পরীক্ষা করে চলেছে। এটি সামরিক ইতিহাস, কৌশল বা তত্ত্বের যে কোনও শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় পড়াশোনা করে।  আন্টোইন হেনরি ডি জোমিনি ছিলেন নেপোলিয়ানের অন্যতম দক্ষ জেনারেল। নেপোলিয়নের প্রায় সমস্ত বড় লড়াইয়ে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। নেপোলিয়ন তাঁকে এত বেশি সম্মান করেছিলেন তিনি তাকে ব্যারন ডি জোমিনি বানিয়েছিলেন। নেপোলিয়োনিক যুদ্ধের শেষের দিকে ডি জোমিনি রাশিয়ার সম্রাটের পক্ষে জেনারেল এবং সহযোগী শিবির হন। তাঁর সরাসরি এবং গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কঠোর বিশ্লেষণ যুদ্ধের এখনও একটি বড় সংস্থান।

দ্য আর্ট অব ওয়ার শুধু একটি রণনীতির বই-ই নয় বরং রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধূলা থেকে শুরু করে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যে কোন ব্যক্তি, যে কোন পেশা থেকেই এ বইটি পড়তে পারে।

বইটির কিছু উক্তি যা আমার খুব ভালো লেগেছে-

এর মধ্যে প্রথমটি হলো- “Know your strengths and weaknesses: if you know the enemy and know yourself, you need not fear the result of a hundred battles”.

এরপরে আরো একটি প্রিয় উদ্ধৃতি আমার “Attack him where he is unprepared. Appear where you are not expected.”

সর্বশেষ এটা “If it is to your advantage, make a forward move. If not, stay where you are.” আর “Know when to fight and when not to fight.”

                               ব্লিঙ্ক

জনপ্রিয় লেখক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল; কীভাবে আমরা আমাদের চারপাশের বিশ্বকে বুঝতে পারি? তার নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন “BLINK” বইতে।

ব্লিঙ্ক

আমরা প্রায়ি লক্ষ করি যে কিছু লোক কেন উজ্জ্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, অন্যরা ধারাবাহিকভাবে অদক্ষ? আমাদের মস্তিস্ক কীভাবে কার্যকরী হয় – অফিসে, শ্রেণিকক্ষে, রান্নাঘরে এবং শোবার ঘরে? এবং কেন সর্বোত্তম সিদ্ধান্তগুলি কেন এমন হয় যা অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব? এরকম অদ্ভুতুড়ে অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যার সমষ্টি এই বই।

বইটিতে আমরা মনোবিজ্ঞানীর কথা জানতে পারি যিনি একটি দম্পতি পর্যবেক্ষণের কয়েক মিনিটের উপর ভিত্তি করে বিবাহ স্থায়ী হবে কিনা তা ভবিষ্যদ্বাণী করতে শিখেছেন; টেনিস কোচ, জানে কখন কোন খেলোয়াড় র‌্যাকেটের আগে বলের সাথে যোগাযোগ করে ডাবল-ফল্ট করবে; প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা- যারা এক নজরে জাল চিনে।

গ্লাডওয়েলের প্রধান উদ্দেশ্য হ’ল তার পাঠকদের সচেতন করে তোলা কীভাবে অন্তর্দৃষ্টি তাদের বিশ্বের অভিজ্ঞতা প্রভাবিত করে। তিনি গভীরভাবে Intuitions গুলো হ্রাস করার জন্য সূক্ষ্ম তথ্যের ব্যবহার করার উপায়টি বর্ণনা করেছেন।

Book Name :Blink

Writer : Malcolm Gladwell

Catagory : Psychology

Publisher: Back Bay Books

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close