রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

বুক রিভিউঃ যেখানে সীমান্ত তোমার আমার

বইয়ের নামঃ যেখানে সীমান্ত তোমার আমার

লেখকঃ মারিয়া কবির

প্রকাশনীঃ বইবাজার

মূল্যঃ ৪২৫ টাকা

“-কোন ইয়ারে এইবার?
-থার্ড ইয়ারের সেকেন্ড সেমিস্টার এক্সাম সামনের মাসে।
-তোমার আর ওর মধ্যে রাত-দিন পার্থক্য!
-হতে পারে কিন্তু ভাইয়া আপনি মনে হয় জানেন না রাত আর দিনও একসময় একে অপরের সাথে মিলে যায়।গৌধূলিলগ্ন রাত আর দিনের মিলনক্ষণ!
-হ্যাঁ,তবে সেটা ক্ষণিকের জন্য! “— মারিয়া কবির,যেখানে সিমান্ত তোমার আমার

সারসংক্ষেপঃ
——————–
“ভালোবাসা বয়স দেখে হয় না।” মানুষের জীবনে এমনও হয়।  কোনো কিছু না দেখে ও একবার কণ্ঠ শুনলে বা চোখ দেখলে, সে মানুষ টা কল্পনার রাজ্যে বিরাজ করে ফেলে। আবার রূপের থেকে সুন্দর মন টা ই জেনো বেশি কাছে টেনে আনে।  ঐ মনের কাছে পৃথিবীর সব রূপ,গুণ, সৌন্দর্য হার মানায়। মনে কাউকে জায়গা করতে দেওয়ার সময় মনে হয়  কারো ই মাথা প্রশ্ন গুলো আসে না যে, “সে আমার থেকে বয়সে ছোট নাকি বড়?”, “পারিবারিক অবস্থা কি?” ইত্যাদি।  এসব কিছুই হয়ত তখন মনে আসে না। কিন্তু ঐ সুন্দর মনের মানুষটার কাছে নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিতে ইচ্ছা করে।  এমন অনেক সম্পর্ক এই সমাজেই বিরাজ করে।  লেখিকা উপন্যাসের মাধ্যমে সে রকম কিছুই তুলে ধরতে চেয়েছেন।

উপন্যাসটিতে আছে জেবা। যার ধারণা সে একদমই সুন্দর না। তার গায়ের কালার শ্যামলা (তবে সে মনে করে, সে কালো),চেহারা সুন্দর না।  আর এমন মনে হওয়ার পিছে দায়ী অনেকটা এই সমাজ।  যারা তাকে বিভিন্ন সময় এসব কথা বলেছে।  অন্যদিকে আছে মানাফ। দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের মতো।  সুন্দর যেনো পুরা রূপকথার রাজকুমার।  ছবি আঁকতে ভালোবাসে।  আর চিন্তাধারা, কথাবার্তা হলো তার বয়সের তুলনায় অনেক গভীর। 

উপন্যাসটি শুরু হয় জেবাদের মানাফদের বিল্ডিংয়ে পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া নেওয়ার মাধ্যমে।  যদিও জেবাদের নিজেদের বাড়ি আছে। তবুও তার বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের মানসিক অসুস্থতার কারণে ঐ বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়ি তে উঠে। অনেক গুলো বাসা বদলানোর পর জেবারা এই বাড়িতে উঠে।  এখানে এসে জেবার মায়ের ভালোই একজন সখী হয়ে গেল বাড়িআলা রুনু আন্টি।  ইনি হলেন মানাফের মা।  সখীর সাথে গল্পের সূত্রে জেবাদের মানাফদের বাসায় আর মানাফদের জেবাদের বাসায় যাতায়াত হয়। আর এভাবেই মানাফ আর জেবার পরিচয় হয়।  কিন্তু মানাফ জেবাকে দেখে আরো ছয় মাস আগে কোনো এক কোচিং সেন্টার এর সামনে।  সেই থেকে তার মন সব খানে জেবাকে খুঁজে। কে জানত সে জেবা তাদের পাশের বাসায় চলে আসবে? তবে জেবাকে দেখার পর মানাফের মনের খুশিটা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।  কারণ সে জানতে পারে জেবা তার থেকে তিন বছরের বড়।  তবুও জেবা কে সে তার মনের কথা জানায়। আচ্ছা,জেবা এখন কি করবে? মানেফের কথা সাড়া দিবে নাকি সমাজে মানুষের কথা আর ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরে আসবে? আর মানাফের এই অনুভূতি কি শুধু মোহ, ঠাট্টা নাকি তার থেকে বেশি কিছু?
তা জানার জন্য অবশ্যই বইটি পড়তে হবে।

পাঠপ্রতিক্রয়াঃ
———————-
সমাজের একটা বাস্তবতা বইটিতে বিদ্যমান।  বয়সে বড় মেয়ে বিয়ে করা বা পছন্দ হওয়া খারাপ কিছু বলে দেখি না। আপু যেভাবে চরিত্র দুটাকে সাজিয়েছেন তা আমার খুব ভালো লাগল। বেশি ভালো লাগল আপুর মেয়ে চরিত্র জেবাকে।  বেশির ভাগ বইয়ে দেখা যায়,মেয়ে চরিত্র হবে অনেক সুন্দরী, রূপেগুণে অনন্য ইত্যাদি।  আমি মেমসাহেব বইটা পড়ার পর খুব একটা পছন্দ হয় নি বইটার ভিতরে কিছু অতিরিক্ত লিখা।  তবুও আমার ভালো লেগেছিল লেখক মেমসাহেব চরিত্র টাকে সুন্দরী, ফর্সা, কম বয়সী এমন কিছুই করেন নি।  অনেক সাধারণ ছিল বাচ্চুর কালো মেমসাহেব।  যে কেউ বইটা পড়লে ঐ কালো মেমসাহেব এর প্রেমে পড়ে যাবে।  ঠিক তেমনি আমার কাছে আপুর জেবা চরিত্র টা ভালো লেগেছে।  সব সময় নায়িকা সুন্দরী, গুণী,কচি হওয়া লাগবে এমন কোনো কথা নেই।  আর সবসময় ছেলেদের সুন্দরী, কচি পছন্দ করতে হবে এমন ও না৷ বইটাতে বাহ্যিক সৌন্দর্য থেকে মনের সৌন্দর্য কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।  যা পড়তে ও শুনতে ভালো লাগে।  আমি মনে করি বর্তমান জেনারেশন বই, মুভি আরো বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা বেশি ইনফ্লুয়েন্স হয়।  তাই এসব মাধ্যমে যেমন সমাজের অনেক কিছু তুলে ধরা হয় তেমনি এই যে নায়িকা সবসময় সুন্দরী হওয়া জরুরি না,বয়স দেখে ভালো লাগা ভালোবাসা হয় না,বাহ্যিক সৌন্দর্য সব না এসব ও তুলে ধরা উচিত।  আর লেখিকা বইটিতে এরকম জিনিস গুলো তুলে ধরেছেন।  আপনার থেকে আরো বেশি বেশি লিখা আশা করি।  শুভ কামনা।

বইটা আমার চোখে পড়ে রকমারি এপ এ ঘুরাঘুরি করার সময়।  রেটিং দেখতে ক্লিক করতে যেয়ে দুটা এক লাইনের রিভিউ চোখে পড়ে। তা ছিল অনেকটা এমন, ” সমাজের জন্য বাজে ম্যাসেজ দিচ্ছে। “, “এই জেনারেশনের জন্য ভালো না বইটা।” রিভিউ দুটা দেখেই পড়ার  প্রতি আগ্রহ আরো বেড়ে যায় যে এমন কি কাহিনী এটার যে সমাজের জন্য ভালো না বলল। কিন্তু পড়ার পর আমি তেমন কিছু ই পাই না।  হয়ত বয়সে বড় মেয়ে দেখে জিনিস টা ভালো চোখে দেখে নি।  কিন্তু এটা কোনো খারাপ বা পাপ বলে মনে করি না আমি।  এখন ধর্মীয় ভাবে কেন পাপ মনে করি না এটার ব্যাখা দিলে অনেক বিশাল লিখা হবে তবুও কারো চিন্তা ভাবনা বদলাবে না। তাই চুপ থাকলাম।

ভালো লাগা লাইনঃ
—————————-
★এই দুনিয়াতে মায়া হচ্ছে সব থেকে ভালো আর খারাপ জিনিস।একবার কারো মায়ায় পড়লে সে মায়া থেকে আর ছাড়ানো যায় না নিজেকে।  মায়ার চোরাবালিতে ডুবতে হয় কেবল।
★এক টুকরো কাচের আয়নায় আমার সৌন্দর্য ধরা না পড়লেও আমার প্রিয় মানুষগুলোর চোখে আমি মহা সুন্দরী। হয়তো তারা আমার বাহ্যিক সৌন্দর্যকে মূল্যায়ণ করে না। মূল্যায়ণ করে আমার মনের সৌন্দর্যকে।আবার এও হতে পারে যাদের চোখে আমাকে সুন্দর দেখায়, তাদের মনটাই সুন্দর। তাই চারপাশে সবকিছুই তাদের চোখে সুন্দর হয়ে ধরা পড়ে।

রেটিংঃ
———–
⭐⭐⭐⭐🌠

happy reading ❤

Naifa Afrin Ahana

I am a student. And an armature writer. Believe in practicing. ❤️

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close