কবিতা

বিষন্নতা কাটিয়ে শত-সহস্র প্রতিক্ষার পর তবুও দেখা হোক আমাদের …

কবিতা(১)-দেখা হোক আমাদের

বাদল দিনে যখন সন্ধ্যা গড়াবে,ঝুম বৃষ্টির স্নানে তখন দেখা হোক আমাদের। না হয় ভিজে একাকার হয়ে ঠান্ডা লাগিয়ে জ্বর আনবো। তবুও দেখা হোক আমাদের।

দেখা হোক আমাদের কোন এক রাস্তার পাশের টং-এ চায়ের আড্ডায়। তোমায় আরও কিছুক্ষণ দেখার লোভে না হয় আমি চায়ের কাপটা হাতেই নিয়ে থাকলাম।তুমি ধমক দিলে না হয় একটু,”এই মেয়ে! এভাবে তাকিয়ে আছো কেন…?? তা শুনে আশেপাশের লোকজন বিস্ময়ে দেখুক আমায়।তবুও দেখা হোক আমাদের।

আমাদের দেখা হোক এই ব্যস্ত শহরে জীবনের চলন্ত বাঁকে,কোন হুড তোলা রিক্সায় অপরিচিত মুখের আদলে।

দেখা হোক আমাদের হুটহাট হোচট খাওয়া অনুভূতিতে।দিনশেষে পাওয়া-না পাওয়ার হিসেবে কসতে যেয়ে যদি না পাওয়াটায় বেশি হয়,যদি ঘুমের ঘোরে হঠাত জেগে উঠি তবুও সেই অনুভুতিতে দেখা হোক আমাদের।

আমার এই প্রিয় শহরে হাতে হাত রাখা বিকেলে,চোখে চোখ রাখা সন্ধ্যায় টুকে-টুকে বাদাম খাওয়ার আড্ডায় দেখা হোক আমাদের।

বিষন্নতা কাটিয়ে শত-সহস্র প্রতিক্ষার পর তবুও দেখা হোক আমাদের।

কবিতা(২)-প্রাক্তন

প্রিয়তম,
আপনাকে নিয়ে আমার কাল্পনাতে বরাবরই ব্যক্তিগত কিছু ইচ্ছে ছিল।

ইচ্ছে ছিল পিচ্ ঢালা রাস্তায় আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে হেঁটে দুজনে কোন এক বসন্তের বিকেল পাড় করো দিবো।
ইচ্ছে ছিল কোন এক শীতের সকালে,
শিশির ভেজা ঘাসের উপর খালি পায়ে আপনার সাথে হেঁটে বেড়াবো।

রাগে -অভিমানে অথবা ভালোবাসা প্রকাশে রোজ রোজ আপনি করে বলতে বিরক্ত হয়ে যেতাম,
ইচ্ছে ছিলো আপনাকে আমার দেওয়া কোন এক ডাকনাম ধরে ডাকবো।

এসব ইচ্ছে শুধু আমার কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল,
আমাদের সম্পর্কটা ছিল ফোনের এপাশ-ওপাশ।
আমার দুজন এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে,
মনখুলে সামান্য কথা হয়ে ওঠেনি কখনো আমাদের ।

সকালে ভাবতাম বিকেলে কথা হবে,
বিকেলে ভাবতাম রাতে কথা হবে,
এমন করতে করতে আরো একটি ভোর হয়ে যেত।
আমাদের ব্যস্ততা শেষ হতো না।
তবু আমাদের মধ্যে যে ছোট ছোট ভালোবাসা ছিল,
আমি রোজ রোজ তা জমিয়ে রাখতাম মধ্যবিওের টাকার মতো।

ইচ্ছে ছিল সেই ছোট ছোট ভালোবাসা গুলো দিয়ে
একদিন ভালোবাসার পাহাড় বানাবো।
ইচ্ছে ছিল আমি-আপনি থেকে সম্পর্কটা আমাদের হবে,
আমাদের ছোট্ট একটা সংসার হবে।
সেই ইচ্ছে গুলোকে বাস্তব রূপ দেবার লক্ষ্যে,
ক্যালেন্ডারের পাতার এক একটি দাগ কাটতে কাটতে,
আমাদের সম্পর্কের কয়েকটি বছর পার হয়ে গেলো।

কিন্তুু ইচ্ছে গুলো বাস্তব রূপ পেলো না,
আজ আমরা একে অপরের প্রাক্তন
অথচ বিচ্ছেদ হবার ইচ্ছে টি কখনোই আমার ইচ্ছের তালিকায় ছিলো না।
এখন শুধু একটাই ইচ্ছে ভালো থাকুন আপনি,
ভালো থাকুন।

কবিতা(৩)-মায়া

না বলা কথার তন্ত্রে তনুতে পড়ে আছি আমি..। আজকাল লাল ঘুড়ির মতো লাগে…..এই যে একটু বাতাস পেয়ে নিজেকে উড়ায় আকাশের পাশাপাশি…।অথচ দেখুন…আপনে বন্ধন সুতো ধরে টানেন নি কখনও….।

এই যে আপনে স্বপ্নের চোখে মেখে নেন ব্যথা-চন্দন,,,সারাটি রাত্রি ভাসেন উদাসীন বেদনার বেনোজলে…। অথচ দেখেন না আমিও যে দেবদারু চুলে উদাসী বাতাস মেখে,স্বপ্নের চোখে অনিন্দ্রা লিখি…।

অজস্র গল্পের ভাজগুলো পরম যত্নে খুলে কখনো কি নিয়ম করে পড়েছেন….?এই যে আপনার ছাদের কাঠগোলাপের চারাগুলি পানি না পেয়ে শুকিয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে,,,সে খবর রাখেন..?অথচ দেখুন নীল মলাটের ডাইরিটায় নিয়ম করে আজকাল আর রঙিন স্বপ্ন বোনা হয় না…।

আপনার আকাশে দুপুর গড়িয়ে বিকেল এলো,,গোধূলিতে সাত রঙা প্রজাতি ডানা মেলে…।অথচ আমি এক ফোটা বৃষ্টির আশায় কড়া রোদ্দুরে হৃদয়খানি নিষ্প্রান করি..।

লেখাঃ কামরুন নাহার মুক্তি

 

 

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close