বিশ্ব

বিশ্বের সাময়িক শক্তি, বাহিনীতে এগিয়ে কোন দেশ?

ভারত-চিন (India-China), ভারত-পাকিস্তান, চিন-আমেরিকা (China-US), ইরান-আমেরিকা এবং উত্তর কোরিয়া-আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে, তার ফলে একটা আশঙ্কা ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনেই। তা হলে কি এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ (World War 3) লাগবে? সেই জল্পনাই উস্কে দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। এই সময়ই প্রশ্ন উঠছে, পৃথিবীর সবচেয়ে খতরনাক, দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী কোন দেশের? সেনা-শক্তির তালিকায় ভারতই বা কোথায়? আমেরিকা, রাশিয়া, চিনকে টক্কর দিচ্ছে আর কে? কোন দেশের সামরিক শক্তির মধ্যে পার্থক্যই বা কতটা? গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (Global Firepower) সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে একনজরে বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনীর তালিকা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দেখে নেওয়া যাক কোন কোন দেশ এগিয়ে রয়েছে সামরিক শক্তির বিচারে।

তালিকা কীভাবে?

তালিকা বানানোর সময় ৫৫টি বিষয়কে মাথায় রেখেছিল গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (Global Firepower)। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে এই তালিকা বানাচ্ছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার। মোট ১৩৮টি দেশের তুল্যমূল্য বিচারের পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে সংস্থা। মূলত সেনাবাহিনীর সংখ্যাকেই বিচার করা হলেও সামরিক অস্ত্রভান্ডারের বৈচিত্রকেও বিবেচনা করা হয়েছে। দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিস্থিতির পাশাপাশি বিবেচনা করা হয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রে সংখ্যাও। এছাড়াও নিজেদের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগের কারণে NATO গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে পয়েন্টে। তালিকায় শেষ স্থানে রয়েছে ভুটান (Bhutan)। আর শীর্ষ স্থানে রয়েছে আমেরিকা (America)।

১) আমেরিকা

সেনাবাহিনীর শক্তির নিরিখে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আমেরিকা। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর মতে, ‘সেনা-শক্তিতে ফের বিশ্বের শীর্ষে আমেরিকা।’ মার্কিন মুলুকে রয়েছে ১৪ লাখের বেশি যুদ্ধে প্রস্তুত সেনা। এছাড়াও রয়েছে ৩৯,২৫৩ সাজোঁয়া গাড়ি এবং ২০টি এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বায়ুসেনাতেও বিশ্বের শীর্ষে মার্কিন মুলুক। ওদের কাছে রয়েছে, ২০৮৫ ফাইটার্স, ৯৬৭ অ্যাটাক হেলিকপ্টার্স, ৯৪৫টি ট্রান্সপোর্টস এবং ৭৪২টি স্পেশাল মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট। নৌসেনাতেও পরাক্রমী আমেরিকা। মার্কিন নৌ-বাহিনীর কাছে রয়েছে ৯১ ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ। ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন-বাজেট বরাদ্দ- ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

২) রাশিয়া

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইউক্রেন ও সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করা রাশিয়ার সেনাবাহিনী রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ১০ লাখের বেশি সক্রিয় সেনা প্রস্তুত রয়েছে মস্কোর কাছে। এছাড়াও আমেরিকার থেকে দ্বিগুণ ট্যাংক রয়েছে রাশিয়ার (১২,৯৫০)। কমপক্ষে ২৭,০৩৮টি সাজোঁয়া গাড়ি রয়েছে রুশ অস্ত্র ভান্ডারে। আকাশেও কম শক্তিশালী নয় ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। তাদের কাছে রয়েছে ৮৭৩টি ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট এবং ৫৩১টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। নৌসেনার কাছে রয়েছে ৬২টি সাবমেরিন এবং ৪৮টি যুদ্ধজাহাজ। চলতি বছরে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে রাশিয়া।

৩) চিন

এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ চিন এই তালিকায় রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সক্রিয় সেনার নিরিখে বিশ্বে প্রথম চিন। বেজিংয়ের কাছে রয়েছে ২১ লাখের বেশি সেনা। রয়েছে ৩৩ হাজার সাজোঁয়া গাড়ি, ৩৫০০ ট্যাংক। চিনা বায়ুসেনার কাছে রয়েছে ১২৩২ ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট ২৮১ অ্যাটাক হেলিকপ্টার। দক্ষিণ চিন সাগরে চিনা দাদাগিরি অজানা নয়। চিনের নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে ৭৪টি সাবমেরিন, ৩৬টি ডেসট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ এবং ৫২টি রণতরী। ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে চিন।

৪) ভারত

চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। যে কোনও সময়ে যুদ্ধ প্রস্তুত সক্রিয় সেনার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্যাংক, কামান (Towed Artillery) এবং ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্টের-এর নিরিখে বিশ্বে শক্তিশালী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারত। ভারতীয় বাহিনীর কাছে রয়েছে ৪২৯২ ট্যাংক, ৪০৬০ কামান এবং ৫৩৮টি ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট। পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার কারণে গোটা বছরই সক্রিয় থাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে রাশিয়া, আমেরিকা-সহ বহু দেশের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ৬১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

৫) জাপান

এশিয়ার এই দেশের যুদ্ধে প্রস্তুত সেনা সংখ্যা ২৪৭,১৬০। শত্রু উত্তর কোরিয়ার থেকে সেনা সংখ্যার নিরিখে সামান্য এগিয়ে জাপান। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিক অস্ত্রভান্ডারের তুলনায় জাপান অনেকটাই ভালো স্থানে। বিশ্বের পঞ্চম সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক দেশ জাপান। টোকিওর কাছে রয়েছে ১৫২ স্পেশাল মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট। প্রসঙ্গত, আমেরিকা ছাড়া এই পরিমাণ এয়ারক্র্যাফ্ট অন্য কোনও দেশের কাছে নেই। এছাড়াও রয়েছে ৪০টি রণতরী। ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা বাজেটে ৪৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা জাপানের কাছে রয়েছে ১০০৪ ট্যাংক এবং ১১৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

পাকিস্তান কোথায়?

ছয় থেকে দশে ইউরোপীয় শক্তিরই প্রাধান্য। অধিকাংশই NATO গোষ্ঠীভুক্ত দেশ। দশের পর প্রথম পাঁচে রয়েছে ইতালি, ইরান, ব্রাজিল, মিশর এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ। প্রথম ১৫-তে জায়গা পায়নি পাকিস্তান। আগের তুলনায় নেমে গেছে ইজরায়েলও। তালিকায় ২০ তম স্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close