বিশ্ব

বিশ্বের ভয়ংকর ১০ আগ্নেয়গিরি

আগ্নেয়গিরির নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আগুন আর লাভার ভয়ঙ্কর এক রূপ। বিশ্বে রয়েছে এমনই সব আগ্নেয়গিরি, যার ভয়াবহতা আমরা অনেকেই জানি না। আজ জানব এমন ভয়ঙ্কর ১০টি আগ্নেয়গিরির কথা।

মাউন্ট অ্যাটনা, ইতালি

মাউন্ট এটনা সিসিলি দ্বীপের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এটি আফ্রিকা প্লেট ও ইউরোশিয়া প্লেটের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি ইউরোপের সর্ব্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা ৩,৩২৯ মি (১০,৯২২ ফুট) উচুঁ। ১৯৭০ সালে এটনা ধোয়ার কুন্ডলী অগ্ন্যুৎপাত করে, যা এ ধরণের প্রথম দৃষ্ট হয় এবং এটি অতি দুর্লভ ধরনের। একই ধরণের ঘটনা পুনরায় ঘটে ২০০০ সালে।

মাউন্ট নিরাগঙ্গো, কঙ্গো

আফ্রিকার কঙ্গোতে অবস্থিত মাউন্ট নিরাগঙ্গো সবচেয়ে বড় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ১৮৮২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ বার বিস্ফোরণ ঘটে এবং এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাভা হ্রদ। ১৯৭৭ সালে আগ্নেয়গিরির মুখের বিস্ফোরণের ফলে ঘন্টায় ৬০ মাইল গতিতে লাভা পাশে থাকা গ্রামের দিকে ছুটে যায় এবং বিপর্যয় বয়ে আনে। তখন মৃত্যুর পরিমাণ ছিল ৭০ জনেরও বেশি। আগ্নেয়গিরির মুখে থাকা প্রাচীর গলতে ১ ঘন্টারও কম সময় লেগেছিল এবং এই লাভা হ্রদের গভীরতা ছিল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পরিমান দশ হাজার ৭০০ ফিট।

মাউন্ট মেরাপি, ইন্দোনেশিয়া

মাউন্ট মেরাপি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের যোগজাকার্তা শহরের কাছে অবস্থিত মাউন্ট মেরাপিতে প্রথম অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় ২০১০ সালে। তবে আগেভাগেই আঁচ পেয়ে কর্তৃপক্ষ আশেপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ১১,০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাবার কাজ শুরু করেছিল।

মাউন্ট ভিসুভিয়াস, ইতালি

মাউন্ট ভিসুভিয়াস ইতালির নেপলস উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি। নেপলস থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্র উপকূলের খুব কাছে এর অবস্থান। এটি ইউরোপের মূল ভূখন্ডের মধ্যে অবস্থিত একমাত্র আগ্নেয়গিরি যাতে বিগত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে, যদিও বর্তমানে এটিতে কোন অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছেনা। ইতালির অপর দুটি প্রধান সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এতনা ও স্ট্রমবোলি এর অবস্থান যথাক্রমে সিসিলি ও স্ট্রমবোলি দ্বীপদ্বয়ে ।

পোপোকেটাপেটল, মেক্সিকো

পোপোকেটাপেটল দক্ষিণ আমেরিকার মেক্সিকো অঞ্চলে অবস্থিত একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। `পোপোকেটাপেটল` কথাটির অর্থ `ধোঁয়ার পাহাড়`। আগ্নেয়গিরিটিকে এল পোপো নামেও ডাকা হয়। এটি মেক্সিকোর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ। ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে স্প্যানিশ পর্যটক দিয়েগো দে ওরডাজের নেতৃত্বে পোপোকেটাপেটলে প্রথমবার একটি অভিযান হয়েছিল।

সাকুরাজিমা, জাপান:

জাপানের কিউশু দ্বীপের কাগোশিমা প্রশাসনিক অঞ্চলের একটি সক্রিয় মিশ্র আগ্নেয়গিরি এবং ভূতপূর্ব দ্বীপ। ১৯১৪ খ্রিঃ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নিঃসৃত লাভা দ্বারা ভূতপূর্ব দ্বীপটি ওসুমি উপদ্বীপের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়।

বর্তমানেও সাকুরাজিমার আগ্নেয় সক্রিয়তা অব্যাহত আছে এবং এর ফলে সংলগ্ন এলাকাসমূহ নিয়মিত আগ্নেয় ছাইয়ের আস্তরণে আবৃত হয়। পূর্ববর্তী অগ্ন্যুৎপাতসমূহের ফলে অঞ্চলটিতে সাদা বালির একটি উচ্চভূমি গঠিত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,১১৭ মি (৩,৬৬৫ ফু) উঁচু কিতাদাকে হল সাকুরাজিমার সর্বোচ্চ চূড়া।

গ্যালেরাস, কলম্বিয়া:

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গ্যালেরাস আগ্নেয়গিরি। কলম্বিয়ার গ্যালেরাস। শেষ অগ্ন্যুৎপাত ঘটে ১৯৯৩ সালে। মারা যান ছ’জন বিজ্ঞানী সহ মোট ন’জন।

আরেনাল আগ্নেয়গিরি, কোস্টারিকা:

আরেনাল লাভা একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি যা থেকে ঘন ঘন বিস্ফোরণ সংঘটন হয়। তার শেষ অগ্ন্যুত্পাত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে, তখন টাবাকন শহরের অধিকাংশ স্থান ধ্বংস হয়ে যায়। লাভার প্রবাহ দেখার জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্যস্থান। এই আগ্নেয়গিরিটি আরেনাল আগ্নেয়গিরি ন্যাশনাল পার্ক দ্বারা বেষ্টিত। উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুল ভোগবিলাসপূর্ণ ছাড়াও, পর্যটকরা এখানে ট্রেকিং , সাঁতার এবং পর্বতে সাইকেল অশ্বারোহণ এর মত বিভিন্ন কার্যক্রম উপভোগ করতে পারেন। পার্কের অনেক স্থানে গরম পানির স্নানের ব্যবস্থা রয়েছে, যা পর্যটকদের মধ্যে একটি প্রিয় কার্যকলাপ।

এইজাফ জাতলা জোকিট, আইসল্যান্ড:

আইসল্যান্ডের এই আগ্নেয়গিরির শেষ অগ্ন্যুৎপাতটি হয়েছিল ২০১০ সালে। এর সঙ্গে হয় বৈদ্যুতিক ঝড়। ইউরোপের অনেকগুলি বিমানপথ বন্ধ হয়ে যায় বেশ কিছুদিনের জন্য।

সান্তা মারিয়া আগ্নেয়গিরি, গুয়াতেমালা

শেষবার অগ্ন্যুৎপাত হয় ১৯০২ সালে। সেটি ছিল গত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় অগ্ন্যুৎপাতগুলোর মধ্যে একটি।

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close