প্রিয় ব্যাক্তিত্ব / জীবনী

বর্ন সারভাইভারের গল্প

ছেলের যখন ৮ বছর বয়স তখন তার বাবা তাকে মাউন্ট এভারেস্ট এর ছবি দেখিয়ে বলেছিলেন, “তুমি কি পারবে এর চূড়ায় উঠতে?” বুঝেই হোক আর না বুঝেই হোক ছেলেটি দৃঢ়স্বরে সেদিন বলেছিল, “পারবো।”

মনের আশাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য স্কুল জীবন শেষ হতেই ইন্ডিয়ান আর্মির সিকিম ডিভিশনে ভর্তি হওয়ার মনস্থির করলো ছেলেটি হিমালয়কে আরো কাছে থেকে জানার উদ্দেশ্য ছিলো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আর ভর্তি হওয়া হয়নি ছেলেটির। হতাশা চেপে রেখে কিছুদিন পর ব্রিটিশ আর্মির এয়ার ডিভিশনে কাজে যোগ দিলো সে। হিমালয়ের সবচেয়ে বড় পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়াকে নিয়ে মনের মধ্যে তার স্বপ্নের ব্যাপকতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকলো।

হঠাৎ তার স্বপ্ন পূরণ বন্ধ হওয়ার চলে গিয়েছিলো।ছেলেটি ১৯৯৬ সালে জাম্বিয়ায় একটি প্যারাসুট দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় । দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ডের তিনটি হাড় ভেঙে যায়।বলা হয়েছিলো,তার সুস্থ হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এজন্য বাধ্যতামূলকভাবেই সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিতে হয় তাকে। ছেলেটিকে বারো মাস সামরিক বাহিনীর সব কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হয়। কিন্তু ছেলেটি কয়েক মাসের মধ্যেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠে আবার স্বপ্ন পূরণের পথে চলতে থাকে।

সুস্থ হয়ে ওঠার পর তখনই শৈশবের লালিত স্বপ্ন মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার নেশা চেপে বসে মনে। ১৯৯৮ সালের ১৬ মে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ছেলেটি সবচেয়ে কম বয়সে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড করে। আবার সেই ছেলেটিই ৩৫ বছর বয়সে চিফ স্কাউট হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে চিফ স্কাউট হওয়ার রেকর্ড গড়ে। সেই ছেলেটি আর কেউ নয় সে হচ্ছে Man vs Wild অনুষ্ঠানের বিখ্যাত বিয়ার গ্রিলস(Bear Grylls)। বিয়ার গ্রিলসের আসল নাম এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস।

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ঘটনা নিয়ে একটি ডিওডোরেন্ট কোম্পানি তাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করলে তিনি সর্বপ্রথম টিভিতে আসেন। তারপর অ্যাডভেঞ্চার শো দিয়ে পুরো বিশ্বে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ‘বর্ন সারভাইভার’ অনুষ্ঠানের দ্বারা জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।’ বর্ন সারভাইভার ‘ বা ‘জন্ম যোদ্ধা’ অনুষ্ঠানটি ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ নামে ভারত, যু্ক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডায় পরিচিত।ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় একই অনুষ্ঠান ‘আল্টিমেট সারভাইভাল’ নামেও প্রচার পায়। বর্তমানে ডিসকভারি চ্যানেলে তার অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে।

বিয়ার গ্রিলস কিন্তু অভিযাত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপকের পাশাপাশি একজন লেখকও। বিয়ার গ্রিলসের প্রথম লেখা ‘ফেসিং আপ’ বইটি যুক্তরাষ্ট্রে ‘দ্য কিড হু ক্লাইম্বড এভারেস্ট’ নামে প্রকাশিত হয় এই বই। এভারেস্ট অভিযান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘ফেসিং দ্য ফ্রোজেন ওশেন’ বইটি ২০০৪ সালে ‘উইলিয়াম হিল স্পোর্টস বুক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।২০১১ সালে ‘ম্যাড, সোয়েট অ্যান্ড টিয়ারস’ নামে তার আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়।

‘বর্ন সারভাইভার’ বা ‘জন্ম যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত এই বিয়ার গ্রিলস হাজার হাজার মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা।

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close