মতামত

প্রেম-কেবলই একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া।

★ প্রেমের প্রতীক হৃদয় না হয়ে হওয়া উচিত ছিল মস্তিষ্ক। কারণ হৃদয়ের সাথে প্রেমের কোন সম্পর্কই নেই। প্রেম কেবলই একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া যেটি মস্তিষ্কে কয়েকটি হরমোনের প্রভাবে সংঘঠিত হয়।
★ ভয়েস অফ আমেরিকার একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় একজন মানুষ প্রেমে পরতে সময় নেয় এক সেকেন্ডের পাঁচ ভাগের একভাগ।
★ প্রেমকে মূলত তিন স্তরে ভাগ করা যায়।
১. আগ্রহ বা ইচ্ছা,
২. আকর্ষণবোধ, এবং
৩. একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা।
১.১ প্রেমে পরার জন্য প্রথম দায়ী করা যায় টেস্টোস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনকে। সাধারণভাবে এগুলো সেক্স হরমোন নামেই বেশি পরিচিত৷ এই হরমোন মূলত গোনাড বা জনন গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হয়। জনন গ্রন্থি পুরুষের শুক্রাশয়ে এবং নারীর ডিম্বাশয়ে অবস্থিত। পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন এবং স্ত্রী দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপন্ন হয়। কাউকে প্রথম দেখায় ভালো লাগলে এই হরমোনের নিঃসরণ ঘটে।
২.১ নারী বা পুরুষের প্রতি আকর্ষণ কিংবা আসক্তি তৈরীতে ভূমিকা রাখে এড্রেনালিন, ডোপামিন এবং সেরোটোনিন। কাউকে দীর্ঘ সময় ধরে ভালো লাগার ফলেই আকর্ষণবোধ সৃষ্টি হয়। মূলত প্রেমের শুরু এখানেই বলা যায়। প্রিয় মানুষকে দেখার সাথে সাথেই এড্রেনাল গ্রন্থি থেকে এড্রেনালিন হরমোন উৎপন্ন হয়ে রক্তে মিশে যায়। এরফলে হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়।
এছাড়া উপসর্গ হিসেবে থাকে ঘাম হওয়া ও গলা শুকিয়ে যাওয়া৷ হাইপোথ্যালামাস থেকে উৎপন্ন ডোপামিন হরমোন প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরী করে৷ আর সেরাটোনিন হরমোন আপনার প্রেমে পড়ার কারণ এবং সময় নির্ধারণ করে দেয়। এককথায় সেরাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ না হলে রোমান্টিক মুডে আসা সম্ভব নয়।
৩.১ প্রেমের শেষ ধাপে যে হরমোনগুলো জড়িত তা হলো অক্সিটোসিন এবং ভ্যাসোপ্রেসিন৷ অক্সোটোসিনকে প্রেমের হরমোন বা আলিঙ্গন হরমোনও বলা হয়ে থাকে। এটিও ডোপামিনের মতই হাইপোথ্যালামাসে উৎপন্ন হয়। অক্সিটোসিন এবং ভ্যাসোপ্রেসিন বন্ধন স্থাপন, পরিবার গঠনের ইচ্ছা, সন্তান জন্মদানের আকাঙ্ক্ষাসহ বেশ কিছু কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া জীবনসঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ ধরে রাখতেও এটি সাহায্য করে।
★ অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রিয় মানুষের ভেতরে পরিবর্তন চলে আসে। তাকে বিরক্ত লাগা শুরু হয়। তার আচরণের পরিবর্তন দেখা যায়। মূলত এই সময়টা শুরু হয় ২-৩ বছর পরে। প্রথম কয়েকদিনের অনুভূতি আর ৩ বছর পরের প্রেমের অনুভূতি একরকম থাকে না। এর পেছনেও হরমোনের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় একই মানুষের প্রতি হরমোন নিঃসরণ এর পরিমাণ দিন দিন কমতে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে আকর্ষণবোধ , ভালোলাগার পরিমাণ এবং একসাথে থাকার আগ্রহ সমানুপাতিক হারে কমতে থাকে। তবে ভিন্ন ব্যক্তির জন্য তখন আবার নতুন করে অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। এখান থেকেই বোঝা যায় প্রেমে পরার কোন বয়স নেই।
★সঠিক মাত্রার হরমোন নিঃসরণের ফলে আদর্শ প্রেমিক/প্রেমিকা গড়ে ওঠে ঠিক তেমন অতিমাত্রায় হরমোন নিঃসরণের বেশকিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। অতিরিক্ত ডোপামিন হরমোন মানুষের মধ্যে অমানবিক আচরণের জন্ম দেয়। এছাড়া ঈর্ষাবিদ্বেষ এবং ইগো বৃদ্ধির পেছনেও ডোপামিনের সরাসরি হাত আছে। এক গবেষণায় দেখা যায় এক ফোটা কোকেন মস্তিষ্কে যে পরিমাণ উত্তেজনা তৈরী করে প্রেমের উত্তেজনা তারচেয়ে কোন অংশে কম নয়। একজন সদ্য প্রেমে পরা তরুণ/তরুণীর রক্তে সেরোটোনিনের পরিমাণ একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তির সেরোটোনিনের পরিমাণ সমান থাকে অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০% কম।
★ কবি-সাহিত্যিকরা প্রেমকে স্বর্গীয় বলে উপমা দিলেও প্রেমের সম্পূর্ণ ক্রিয়াকলাপ পরিচালনা করে মস্তিষ্ক। তাই তাদের তরল কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। বিজ্ঞান জানুন, সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ুন।

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close