কবিতা

প্রিয় কারো জন্য এলোচুলে অপেক্ষা,পৃথিবীর সুন্দরতম শিল্পের অন্য এক নাম

 

 

 

কবিতা(১)–নিবেদন

প্রিয়,
অজস্র গল্পের ভাজগুলোর মাঝে আপনাকে
খুঁজে দিব ভরসা,,আগলে রাখার হাত প্রসস্থ
করে বাড়িয়ে দিব আপনার তরে।আচ্ছা,হাতটা ধরে
ভেসে যাবেন কি মনের মন্দিরে..?

নিঝুম রাতে নির্ঘুম মনের অভিব্যক্তি পাঠাবো চাঁদের কাছে,,
অধরা স্বপ্নগুলোকে জীবন দিতে না গিয়ে নিয়ম করে একটু পড়ে নিয়েন..!

দহনের দিনে,কিছু মেঘ কিনে যদি ভাসান মধ্য দুপুর,,,আমি এনে দিব এক পদ্মপুকুর।
বিনিময়ে শুধু একটু হুটহাট বৃষ্টি নামাবেন..!

মেলা ভেঙে বিদায়ের বাঁশি যদি বাজে,,
দুপুর লুটায় যদি মন খারাপের সুরে,,
তবু হাতের ভিতর কিছু ছোঁয়া রাখবো জমা..।
মনে করে সন্ধ্যে নামার আগে আঙুলে আঙুল ছোঁয়াবেন..! পিচ্ ঢালা রাস্তায় আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে হেঁটে দুজনে কোন এক বসন্তের বিকেল পাড় করে দিব।

আপনে কি! এঁকেছিলেন আমায়..?
কোন বসন্তের আপনার অতৃপ্ত ক্যানভাসে,
আমায় যে নির্জতা জেঁকে বসেছে এই মন আকাশে।

একটা জনম থেকেই দেখেন
বাড়বেনা কথার ছল,
নাহয় রোজ অজানা পাখি হয়েই করবো কূজন;
হোক না তা বনতল।

 

কবিতা(২)–জানান দিতে ইচ্ছে করে

এই শহরের অলিকে-গলিকে আর প্রত্যেকটা বারান্দাকে বড্ড বেশি জানান দিতে ইচ্ছে করে আজ,,
কেউ কারো গল্প শুনে না,,কারো জন্য কারোর সময় নেই।
আজ কেউ অপেক্ষার প্রহর গুনে,বেলীফুলের মালা হাতে, স্মৃতি জড়িয়ে কারো জন্য বসে না।

রাতের আকাশের তারকাদের আর একফালি চাঁদকে আজ বড্ড বেশি দেখিয়ে দিতে ইচ্ছে করে,,
কেউ কারো কাঁধে মাথা রেখে রঙিন স্বপ্ন বুনে না।
পাওয়া-না পাওয়া অনুভূতির মিলন আজ মিলে না কারো ডায়েরি তে..।

হিমাদ্রি-শিখর থেকে ঝুঁকে-জড়া জলপ্রপাতের তরে নেই কোন শব্দ রাশি…বড্ড বেশিই ইচ্ছে করে জানান দিতে।

আজ আর শ্রাবণের গানে হয়না কাকভেজা…
কেউ দেয় না পানি নিয়ম করে কাঠগোলাপের গাছটায়।
দেবদারু জানলায় চুল এলিয়ে লিখে না কেউ গল্প..আজ সব দেখিয়ে দিতে বড্ড বেশিই ইচ্ছে করে।

আজ কেউ কারোর জন্যে রাখে না জ্যামিতি বক্সে চিরকুট…
বিন্দু বিন্দু জলের ধারা ভিজিয়ে দেয়না কারোর আচল।
আজ কেউ উদভ্রান্তের মতো ছুটে না কারো পানে,,
খুজে নেয়না ছন্দের অন্তমিল।

এই শহরের অলিকে-গলিকে আর প্রত্যেকটা বারান্দাকে বড্ড বেশি জানান দিতে ইচ্ছে করে আজ,,যান্ত্রিকময় অনুভূতি সর্বত্র বিরাজমান।

 

কবিতা(৩)–অপেক্ষার ক্যানভাস

একদিন জ্যামিতিবক্সের ভেতর পেলাম
একটি চাঁর ভাজের চিরকুট!

লেখাটা তোমার বুঝতেই দাঁড়ালাম মুখোমুখি,
বললাম কী চাই তোমার?

কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে বললে
“একটি নীল সোনালী পাড়ের শাড়ি পরে থাকবে আমার অপেক্ষায়,
ভেজা চুলে মিশে থাকবে মাটির সোঁদা গন্ধ,
বিন্দু বিন্দু জলের ধারা ভিজিয়ে দেবে আঁচল!
আমি উদভ্রান্তের মতো ছুঁটে যাবো তোমার কাছে,
খুঁজে নিব ছন্দের অন্তমিল! ”

রাগ করে বললাম ভালোবেসে অপেক্ষায় থাকা ছাড়া
মেয়েদের আর কোন কাজ নেই বুঝি?
তারপর ভোরের শুরু,
ক্লান্ত বিকেল,
ভাত ঘুমের অবসরেও একাকী! ভীষণ পাগলাটে তোমার জন্য।

তারপর,তারপর একদিন প্রতীক্ষার পালা শেষ করে আলতো করে হাত রাখলে কাঁধে,
মুখ না ঘুরিয়েই বললাম

“প্রিয় কারো জন্যে এলোচুলে অপেক্ষা
পৃথিবীর সুন্দরতম শিল্পের অন্য এক নাম!”

লেখাঃ কামরুন নাহার মুক্তি।

 

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close