নন ফিকশন

প্রত্যাশিত নারী (পর্ব- ৯)

নিলয় সেই দিন সকালেই ঐ ভূতুড়ে বাড়ি তথা যে বাড়িতে ঐ মহিলা গুলো আর ফুটেজের সন্দেহভাজন সেই যুবক থাকত সেই বাড়িতে বাইক নিয়ে ছদ্মবেশে আড়ালে দাঁড়িয়ে সেই স্কুটিটার অপেক্ষায় থাকে। আর অফিসে বাকিরা সবাই প্রস্তুতি নিয়ে থাকে যেকোনো সময় বেরনোর।
সেই স্কুটিটা স্টার্ট দিয়ে গেইট থেকে বের হলেই নিলয়ও বাইক স্টার্ট দেয় আর খুব কৌশলে তাকে ফলো করতে থাকে।
স্কুটিটা বেশ কিছু পথ অতিক্রম করার পর আরেকটা বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
নিলয় বেশ অবাক হয় কেন আসল সে এখানে, আবার এখানেও এখন তাকে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ভেবে বেশ বিরক্ত হলো।
তাকে অবাক করে দিয়ে ঐ বাড়ির ভেতর থেকে একটা যুবক সেই ফুটেজের মত সেইম গেট আপে বেশ বড় একটা বাইক নিয়ে বেরয়। নিলয় ধরেই নিল এই সেই যুবক, যাকে এখন কিছুতেই হাত ছাড়া করা যাবে না। তবুও তার সন্দেহ হচ্ছে এ বাসা নিয়ে তাই নোয়েল কে দ্রুত সেখানকার লোকেশন দিয়ে এই বাড়ি পাহাড়া দিতে বলল, কারণ স্কুটি টা বের হয়নি।
এমনও হতে পারে স্কুটি ওয়ালা ভেতরে আবার এমন টাও হতে পারে স্কুটিতে থাকা সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিই সেই যুবক। নোয়েল দেরি না করে দ্রুততম সেই বাড়ির সামনে উপস্থিত হলো। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে সেই স্কুটির অপেক্ষা করল, কেউ বেরয় নাকি সেই স্কুটি নিয়ে।
যখন দেখল অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও কেউ এল না তখন সে ভাবল ভেতরে গিয়ে দেখবে কি হচ্ছে এই বাড়িতে। সে ভাবল যেহেতু সে ইউনিফর্মে আছে সেহুতু বেশি সমস্যা হবার কথা না, কেউ তাকে বাঁধা দিবে না হয়ত।
যেই ভাবা সেই কাজ, চলে গেল বাড়িটার ভেতরে।
গিয়ে তো তাজ্জব বনে গেল সে!
ভেতরের বাড়িটাতে কেউ নেই,তালা মারা। তবে স্কুটি টা রাখা অাছে। একবার ভাবল তালা ভাঙবে,আবার নিজেই বলল এটা অনৈতিক, কারণ তার কাছে পারমিশনের নোটিস নেই অফিসিয়ালি আর বাসায়ও মানুষ নেই।
তবে তদন্তের খাতিরে তার দেখা টা জায়েজ আছে। তবুও সে তালা ভাঙল না, ঐ রুমের জানালার এক পার্ট খোলা ছিল, সে আরেকটা খুলে পাশে পড়ে থাকা একটা গাছের ডাল দিয়ে গুঁতিয়ে সব কিছু দেখছিল। রুমে বিছানার পাশে একটা ড্রেসিং টেবিল দেখল আর বিছানায় পড়ে থাকা বোরকা!
“ও মাই গড! তাহলে আমাদের সন্দেহ ই ঠিক! ওটা আসলেই পুরুষ ছিল যে এখানে এসে ড্রেস চেইন্জ করে যায়!” বলে উঠল নোয়েল।
সাথে সাথেই সে নিলয় কে ফোন দেয় এবং আপডেট টা জানায় এবং আরো বলে ঐ যুবকে আটকে থানায় আনতে।
নোয়েল পৃথা আর কাশেম স্যারকে শিঘ্রই ঐ ভূতুড়ে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে এবং সেও সেখানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
.
নিলয় ঐ বাইকারের আগে তার বাইক থামিয়ে তাকে নিজের কার্ড দেখায় এবং তার সাথে থানায় যেতে বলে। বাইকার কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ তার সাথে চলে আসে থানায়।
.
এদিকে নোয়েল আর পৃথারা ঐ বাসার সামনে উপস্থিত হয় সাথে কিছু লেডি কনস্টবল।
তারা তাদের প্ল্যান অনুযায়ী বাসার ভেতরে যায়।
গিয়ে তিনজন মহিলাকে পায় হিজাব পরা সবাই, সারা বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু হাতিয়ার আর সন্দেহ ভাজন জিনিস পায় তারা যার মধ্যে ছিল এসিড সহ আরো কিছু।
সবাইকে জিজ্ঞসাবাদ করা হয় এসব কেন বাড়িতে কিন্তু তারা উপযুক্ত কোনো কারণ বলতে পারে না। সাথে জিজ্ঞাসা করা হয় এ বাড়িতে কোনো পুরুষ থাকে কি না, উত্তরে তারা না বলে।
তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
.
.
এদিকে নীলাশা বলে, “আমি সত্যিই আপনার কথা বুঝতে পারছি না মি.রায়ান।”
রায়ান বলেন, “বোঝার তো কথা ম্যাম, প্রিন্সদের সাথে থাকা চিরকুট টার সাথে যে আপনার লেখা ৭৫% মিলে গেছে তা অস্বীকার করবেন কিভাবে?”
নীলাশা চুপ থেকে বলে, “কেউ কিছুই করে নি, আমি একাই বড় বোনের দায়িত্ব পালন করেছি। আজ যদি রাইশার বড় ভাই থাকত তাহলে আমার কাজ টা সেই ই করত, রাইশা টা আমাকে বেশি ভালোবাসা দিয়েছিল জানেন, তার মৃত্যুর প্রতিশোধ যে আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল!
পারি নি সহ্য করতে আমি, আপনি পারতেন? বলুন পারতেন?”
মাইশা এবার রায়ান সাহেব কে ছেড়ে আবার নীলাশার কাছে এল। তাকে বলল- ” নীলা আপু তুমি কথা রেখেছ, তুমি সত্যিই যদি আমার নিজের বোন হতে!”
রায়ান সাহেব বললেন আত্মসমর্পণ করতে, মাইশা আবার জেদ করছে। রায়ান বললেন, “বাসায় না তোমাকে বোঝালাম কেন ক্রিমিনালদের আইনের আওতায় আনতে হবে? ভুলে গেলে সব?”
মাইশা তার কথায় মাথা নাড়ায়।
এরই মধ্যে রায়ানের কাছে কল আসে নোয়েলের, সবটা বলে, এবং এও বলে যেন নিলাশা জান্নাতেরও নজর রাখে এবং পারত পক্ষে যেন থানায় নিয়ে আসে তাকে। রায়ান কিছু বলল না।
এদিকে মাইশার কান্না এবং রাইশার কথা ভেবে কি যেন মনে করে নীলাশাকে বললেন কাউকে যেন এ ব্যপারে কিছু না জানান তিনি, সাথে মাইশা কেও বলল।
তিনি আরো বললেন নীলাশা কে, এই মুহূর্তে যেন আত্মসমর্পণ না করেন, তিনি ভেবে দেখবেন কি করা যায়।
তিনি নীলাশার কাছে সব কিছুর প্ল্যান জানতে চান, আবার মাইশা দিকে তাকিয়ে ভাবেন এসব কথা ওর সামনে না বলাই ভালো।
আর তাছাড়াও দেরি হয়ে গেছে, মাইশার বাবা-মার আবার চিন্তা হবে।
তাই তিনি ঠিক করলেন মাইশাকে রেখে এসেই সবটা শুনবেন নীলাশার কাছে।
রায়ান নীলাশা কে বললেন তিনি যেন কোথাও না যান, মাইশা কে রেখে সে আবার এখানেই আসবেন সবটা শুনতে।
রায়ান সাহেব বেরিয়ে পড়লেন মাইশার বাসায় যাওয়ার জন্য।রাস্তায় মাইশাকে বললেন তার বাবা-মাকে যেন না বলে নীলার ব্যপারে,আর এ ও বলেন যেন বলে সে পার্কে নিয়ে গেছিল।
সাথে সাথেই তিনি আবার মাইশার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। আইনের লোক হয়েও তাকে মিথ্যা কথা বলতে বলছেন এ জন্য।
তিনি মাইশাকে বলেন আজকের পর আর মিথ্যা বলবে না ওকে?
মাইশাও ওকে বলে।
পথিমধ্যে নোয়েলের ফোন পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন রায়ান। তিনি নীলাশাকে বাঁচাতে চাইলেন, উল্টো কি না নীলাশাই নিজে গিয়ে থানায় নিজেকে ধরিয়ে দিল!
তিনি বুঝলেন তীব্র জেদি মেয়ে নীলাশা, নইলে কেউ এরকম করে?
মাইশাকে বাসায় নামিয়ে রহমত স্যারের সাথে কথা বলে সোজা থানায় গিয়ে উপস্থিত হয় তিনি। তার মুখ টা একটু ভার,মাইশার জন্য বাঁচাতে চাইছিলেন নীলাশাকে, কিন্তু পারলেন না!
এবার সব রহস্য ভেদের পালা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এল সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত!
মোট মিলে হল পাঁচ জন নারী!
হ্যাঁ পাঁচ জন ই নারী!
কারণ বাইকার যে যুবককে মনে করা হচ্ছিল সে আসলে যুবক নয়, যুবতী!
ব্যপারটা সবাই কে বেশ অবাক করেছে।
একটা মেয়ে কেন ছেলের গেট আপে!
হ্যাঁ সবটা এবার শোনার পালা।
এই পাঁচ জন ই সেই অজ্ঞাত ক্রিমিনাল। যারা পাশব পুরুষদের উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরো দেশকে এ ক’দিনেই পাল্টে দিয়েছে, নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে সব নারীদের ভেতরকার শক্তি!
এরাই সেই বীর নারী!
প্রথম আর মেইন যিনি তার কথা রায়ান সাহেব ইতোমধ্যেই জেনেছেন। হ্যাঁ সে নীলাশা জান্নাত!
এরপর নেকাব সড়িয়ে মুখ খুলল সুমাইয়া আক্তার,যার পুরো অর্ধেক মুখটা ঝলসানো!
এই সেই সুমাইয়া যে কি না গ্রামে থেকেও কঠোর পরিশ্রম করে নিজের পড়ালেখা এগিয়ে নিয়ে গ্রামে নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল, যাকে কি না দিবালোকেই এসিড দিয়ে ঝলসানো হয়েছে!
এরপর নীলাশা একে একে পরিচয় করিয়ে দেয় লাবণ্য, বর্ণা আর মায়ার সাথে!
জ্বি এটা সেই মায়া যাকে কিনা পাশবিক অত্যাচার করে মৃত্যুর দুয়ারে পাঠিয়েছিল তার মায়ের মালিক!
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে!
মায়া বেঁচে আছে কিভাবে?
থাকার কথা নয়।
তবে রায়ান সাহেব অবাক হচ্ছেন না, কারণ তিনি আঁচ করেছিলেন ডাস্টবিনের পাশে পরে থাকা সেই লোকটার এর আগের ঘটনায় যেটা হাসপাতালে হয়েছিল।
নীলাশা একটা দম নিল, আর বলল, “কি জানতে চান বলুন।”
রায়ান তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হয়ত এটা জানার জন্য নিজেকে কেন সমর্পণ করল যেচে!
নীলাশা হয়ত তার দৃষ্টির ভাষা বুঝেছিল তাই মুখে প্রশ্ন করার আগেই বলে দিল, “আমাকে দুর্বল ভাব্বেন না! কারোর দয়ায় আমি বাঁচতে চাইনি, আর ভয় ও পাইনা কিছু। আমি যা করেছি তার জন্য আমি মোটেও লজ্জিত নই বরং আমি গর্বিত, যে কাজ গুলো আইন করতে পারেনি, আমি তা করেছি!
হ্যাঁ চাইলে আমি ধরা না দিয়েও পালিয়ে বাঁচতে পারতাম, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য আপাতত সফল। তাই আমার ইচ্ছে নেই পালানোর। আর কোন প্রশ্ন মি. রায়ান?”
শুধু রায়ান কেন,থানা শুদ্ধো সবাই থ হয়ে যায় এমন কথা শুনে!
একজন অপরাধী যখন এত জোর গলায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে আকাশ সম ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে ভারী ভারী কথা বলে তখন সবাই যে অবাক হয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক!
সবাই চুপ হয়ে আছে, চারিদিকে নিরবতা।
রায়ান সাহেব চেয়ারে বসে পেপার ওয়েট ঘুরাচ্ছেন।
নিরবতা ভেঙ্গে বললেন, তবে শুরু করা যাক!
শুরু থেকে বলুন। তারপর রেকর্ডার অন আর খাতা কলম নিয়ে বয়ান লিখা শুরু করলেন আরেকজন..
.
নীলাশা বলতে শুরু করলেন।
সময়টা আমার, যখন বুঝতে শুরু করি আমি নারী, আর যে ধর্ষিত হয় সেও একজন নারী।
তখন থেকেই সিধান্ত নেই আমি আর পাঁচ জনের মত নির্যাতিত হব না,নিজেকে সেইফ রাখার জন্য যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করব।
তাই এখনকার আমাকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন।
ছোট থেকেই আমি বেশ গোলগাল, মোটাসোটা ছিলাম। সুন্দর বলত সবাই, ভালো ও বাসত। এ ও গাল টেনে দিত, আদর করে চুমু দিত।
যখন ছোট ছিলাম মধ্যবয়স্ক কেউ কোলে নেয়ার ছলে বাজে ভাবে ছুঁয়ে দিত, ছোট ছিলাম ব্যাপার গুলো খারাপ লাগলেও কাউকে বলতে পারিনি, কারণ আমি নিজেই বুঝিনি কি হচ্ছিল আমার সাথে। দিন গড়ায় আর কিছু কিছু পুরুষ যেন সুযোগেই থাকে আমাকে ছোঁয়ার, ছোট ছিলাম কিনা! বুঝতাম না নারী, নারীর শরীর!
যখন ৫ কি ৬ বছর হবে, খেলার ছলে আমার এক বড় ভাই পরনের প্যান্ট খুলে দিল, কি নাকি খেলা এটা, হ্যাঁ এখন বুঝি সেও ছোট ছিল, সেও অবুঝ ছিল। সেও আমার মত জানত না তাই কৌতুলের বসে হয়ত খেলেছে অমন খেলা, তবে আমি খেলিনি পরে অমন খেলা, ভালো লাগেনি কখনো ওসব খেলা।
যখন আরেকটু বড় হলাম, সবাই ওড়না পড়ানো শিখালো, যেই দেখত সেই ঠিক-ঠাক করে দিত আমার ওড়না। অথচ আমি অস্বস্তি বোধ করতাম, তবুও তাদের বুঝানো তে পরতে লাগলাম ওড়না।
যখন বয়ঃসন্ধি চলছে, আমার সেইফটির জন্য পড়ানোর হলো অন্তর্বাস, ব্যাস নজর কাড়ল মানুষ নামে সেই সব হায়নার!
সম্ভবত তখন সেভেনে পড়ি, হুট করে এলাকার রাস্তায় একা হাঁটার সময় একজন সাইকেলে যাবার সময় বলে উঠল, “এত অল্প বয়সে ব্রা পড়ন লাগে!”
আমার চোখ-কান-নাক মুহূর্তেই যেন বিস্ফোরিত হয়ে গেল, লজ্জা,ঘৃণা আর ভয় আমাকে জাপটে ধরল! কিছুই বুঝতে পারলাম না কি হলো আমার সাথে!
থমকে গেল আমার স্বভাবিক জীবন যাত্রা, কুঁড়ে কুঁড়ে খেল আমাকে প্রতিটা মুহূর্তে শুধু এই একটা কথা!
তার বছর না গড়াতেই আমরা গেলাম গ্রামের বাসায়, সবাই একসাথে হল, ফুফু চাচা।
ফুফাতে এক ভাই, বয়স হবে হয়ত তখন ২৭/২৮ বা তারও কম বেশি।
তাকে চিনতাম না, তবে ছোটবেলায় বোধহয় একবার দেখেছিলাম।
আমি তখনও বুঝতাম না ধর্ষণ কি, হ্যারাজমেন্ট কি।
সেই ভাই বেশ সখ্যতা গড়ল আমার সাথে, আমাদের সাথে। আমার বড় বোনও ছিল,আমার থেকে ৪-৫ বছরের বড়।
তখন আমি ভাবলাম আহা বড় ভাই আমার কত্ত ভালো, সব সময় সাথে সাথে থাকে!
পরে বুঝলাম সেও ওঁত পেতে থাকে আমাকে ছোঁয়ার,শুধু আমাকে নয়, আরেক টি ছোট বোন ছিল, আমি খেয়াল করে দেখেছি তাকেও পেঁছন থেকে চিমটি কাটছিল সেই কুলাঙ্গার ভাই। আর আমার কাঁধ স্পর্শ করার বাহানায় সব সময় বুকে হাত দিত। আমি প্রথম প্রথম বুঝতে পারিনি। ভেবেছি ভুল করে হয়ত লেগে গেছে। কিন্তু না!
সে যে ইচ্ছে করেই দিত তা আমি বুঝতে পাই পরের বারে।
আমি ভয় পেয়ে যাই। কাউকে কিছু বলতে পারিনি, হয়ত আব্বু জানলে তাকে ওখানেই কবর দিয়ে আসত।
আমার আরেক চাচাতো ভাই ছিল, দেখতে এত্ত সুন্দর, শুধু দেখতে না, মন টাও সুন্দর। বয়সে ঐ ফুফাতো ভাইয়ের চেয়ে ছোট।
সেও কিন্তু একদিন আমাকে নিয়ে বোন সহ ঘুরতে বেরিয়েছিল।
সেও আমার কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটছিল, আমাকে স্নেহ করেছিল, কিন্তু জানেন আমার ফুফাতো ভাইয়ের পুরো উল্টো সে!
ঐ জানোয়ার টা আমাকে সুযোগ পেলেই বুকে-পেটে হাত দিত কিন্তু আমার চাচাতো ভাই আমাকে পথে সাবধানে হাটাচ্ছিল যেন মেঠো পথের ছোট গর্তে পা না পরে!
সে আমার কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটছিল আমার স্বস্তি হচ্ছিল, আর ঐ জানোয়ােটা…!
আমি তখনও বুঝতে পারিনি আমার সাথে ওটা কি হয়েছিল, তার দু তিন বছর পর বুঝেছি ঐ ধর্ষক আমাকে বাজে ভাবে ছুঁয়েছে!
আমি নির্বাক হয়ে যাই।
দুজনই আমার বড় ভাই, অথচ দুজনের মাঝে আকাশ পাতল তফাৎ!
যখন আমি আরেকটু বড় হলাম, তখন অন্য এলাকায় এক টিচারের বাড়ি গিয়েছিলাম বান্ধবী সহ। ফেরার সময় বখাটের দল খুব বাজে কথা বলে দিল। আমরা হতবাক হয়ে গেছিলাম।
আবার আরেকটু যখন বড় হলাম,এসএসসি দিয়েছি সবে, তখন শহরে ঐ বান্ধবীর সাথে গেছিলাম, এক রাস্তায় হাঁটার সময় আমার কানের কাছে একটা অনার্সে পড়ুয়া বয়সের ছেলে কানে একটা কথা বলে গেল।
আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিল, বান্ধবীকে বুঝতে দেই নি।
ঐ রাস্তা শেষে যখন রিক্সা নিব তখন মোড়ের মত এক জায়গায় ট্রাফিক জ্যাম ছিল, ওখান থেকেই এক অটো ওয়ালা আরেকটি অশ্রাব্য উক্তি করে দিল। দুজনে পাথর হয়ে গেলাম।
আর বাকি চালকরা পিশাচের মত হাসল!
বান্ধবী বলল, “তুই কি শুনলি কি বলল?”
কিছু বলতে পারিনি অামি।
চুপচাপ অটো তে উঠলাম।
এবার একটা নোংরা মানুষ আমার সামনে বসল। সে সারাটা রাস্তা এক চোখে তাকিয়ে ছিল আমার বুকের দিকে, আমি তখনও কিছু বলতে পারিনি।
কারণ আমি বুঝছিলাম না আমি এতক্ষণ দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম নাকি সজ্ঞানে ছিলাম!
আচ্ছা আমার স্বপ্নে যে ভূত গুলো দেখতাম তারাও তো এমন বাজে না, তবে এরা কারা? এরা কি মানুষ ছিল?
সেদিন রাতে আমার ভয়াবহ জ্বর আসে। আমি মেনে নিতে পারিনি একদিনেই ঘটে যাওয়া এত কিছু।
সারারাত দুঃস্বপ্ন দেখেছি আজকে সহ বাকি যেগুলা ঘটেছে আমার জীবনে।
একটানা সাত দিন জ্বর ছিল।
সুস্থ হয়ে আমি হিসাব মিলাতে লাগলাম, তখন একটু আধটু বুঝতে শিখেছি, ধর্ষণ কি!
হিসেব আমি কিছুতেই মিলাতে পারিনি।
কারণ আমাদের সবারই জানা মতে ধর্ষকরা হয়তবা মুর্খ, কিন্তু না, সেদিন কিন্তু ছাত্র, রিকশা চালক আর অন্য লোক ও আমাকে চোখ দিয়ে, কথার বুলি দিয়ে ধর্ষণ করেছিল!
আমি বুঝলাম ধর্ষক হতে শুধু নোংরা আর পাশবিক মন টাই লাগে আর কিছু না।
তারপর নিউজে শুনি অহরহ ধর্ষণের ঘটনা।
যেখানে যাই, যেই পেপারই পড়ি, এই একই ঘটনা দেশ-বিদেশ সবখানেই হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অামি মানতে পারছিলাম না কিছু।
খুন করতে ইচ্ছা করত সব ক’টা ধর্ষককে কিন্তু উপায় ছিল না।
আমি না পেরেছি কাউকে বলতে আর না পেরেছি কারো সামনে কাঁদতে!
ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে গিয়েছিলাম।আর ভাবতাম যারা ধর্ষিত হয় শারীরিক ভাবে তারা কিভাবে এতটা যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছে! যেখানে এই হ্যারাজমেন্ট গুলো প্রতিনিয়ত খুন করছিল আমাকে!
খেতে পারতাম না, পড়তে পারতাম না।
আমি বেঁচে ছিলাম না মরে গেছিলাম আমি বলতে পারব না, তবে হ্যাঁ নরকে জ্বলছিলাম।
আমি সিধান্ত তখনই নিই,সবার শাস্তি দিতে না পারলেও, কাছের মানুষদের সাথে যারা করবে তাদের তো দিতে পারব!
এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে ঢকঢক করে পানি খায় নীলাশা, চোখ লাল হয়ে গেছে, যেন এখনি লাভা আর বৃষ্টি এক সাথেই নামবে..
কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলা শুরু করে..
.
আমি যে স্কুলে পড়তাম, রহমত স্যার সেখানেই ছিল। আমাকে সর্বোচ্চ প্রেরণা দিত বাঁচার, লড়াই করার, প্রতিবাদ করার!
শুধু আমাকেই নয়। তিনি তার প্রতিটি ছাত্রকে নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন, সাহস যোগাতেন।
পড়াশোনায় সব সময় আর সব শিক্ষকদের চেয়ে বেশি হেল্প করতেন।
তবে হ্যাঁ,আমি ছিলাম স্যারের প্রিয় ছাত্রী,তার বাসায় প্রাইভেট ও পড়তাম, স্যার বেতনের জন্য আমাদের কখনো বলেনি,শুধু চাইতেন আমরা যেন পড়াশুনা করে বেড়ে উঠি ভালোভাবে।
রাইশাকে আমি স্যারের মাধ্যমেই চিনি। সেও একই স্কুলে পড়ত। মেয়েটা সব সময় আমার সাথে লেগে থাকত। শুধু বলত আমি তোমার মত হতে চাই আপু,তোমাকে খুব ভালোবাসি।
আমিও তাকে খুব ভালবাসতাম,স্নেহ করতাম।
সব সময় পড়াশোনায় সাহায্য করতাম।
মেয়েটা ডাক্তার হতে চেয়েছিল, স্যারও খুব করে চাইতেন যেন আমি আর রাইশা ডাক্তার হই। স্যার বলত, আমার দুই বড় মেয়ে ই হবে ডাক্তার, বুড়ো বয়সে আমাকে বাসা থেকে বের হতে হবে না তাহলে ডাক্তার দেখাতে! মা নীলা, তুই তোর ছোট বোনটা কে একটু পড়াস, দেখিস রাইশা টা যেন তোর মত হয়!
আমি খুশিও হতাম আবার কষ্টও পেতাম।
মনে মনে দোয়া করতাম আমার মত যেন রাইশার সাথে কখনো না হয়, আমার সাথে যে খারাপ কাজ হয়েছে তা যেন রাইশার সাথে কখনোই না ঘটে!
তার প্রত্যেকটি সমস্যা আমাকে জানাত।
একবার হলো কি, বেচারি এক ছেলের প্রেমে পড়ল,ক্লাসে সবাই প্রেম করে শুধু রাইশা বাদে। এ নিয়ে সবাই তাকে নিঁচু করত। সেখান থেকেই হয়ত প্রেম জেগেছিল।
মেয়েটা অনেক কাঁদত আমার কাছে এসে, আমি তাকে বুকে আগলে রাখতাম, বলতাম আপু এগুলি ভালো কাজ নয়। সময় হলে তোমার বিয়ে হবে!
আর এসব করলে ডাক্তার হবে কি করে?
তবুও কচি মন তার মানত না,খুব খুব কাঁদত,আমিও কাঁদতাম তার সাথে।
মেয়েটা অনেক কষ্ট করত,ডাক্তার হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। আমি চান্স পাইনি মেডিকেলে, তবুও রাইশার ভালোবাসা একটুও কমেনি বরং আমাকে আরো বেশি করে ভালোবেসেছে, আমার দুঃসময়ে ঐ অতটুকু মেয়ে আমাকে সামলেছে।
মেয়েটা তার ঝালমুড়ি খাওয়ার টাকা দিয়ে আমাকে চকলেট দিত, আমিও তাই করতাম।
এতটা ভালোবাসত পাগলি টা আমকে!
সাথে সাথে অঝোরে ঝরতে থাকে নীলাশার চোখের পানি, মুখ বুঝে নিঃশব্দে কেঁদে যায় অনেকক্ষণ, সাথে কাঁদতে থাকে বাকিরা।
কান্না থামিয়ে আবারও বলতে শুরু করে।
ও এসএসসি পার করার আগেই আমি অন্য খানে চলে আসি। ভর্তি হই স্নাতকে।
তখন একটু কম যোগাযোগ হত রাইশার সাথে।
আমি হোস্টেলে থাকা শুরু করি।
হোস্টেলে থাকার মেইন উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে পুরোপুরি বদলানোর, যেন আর একটাও বাজে ঘটনা আমার সাথে না ঘটে,আমি নিজেই যেন নিজের রক্ষা কবজ হতে পারি,সবটা যেন নিজেই প্রতিহত করতে পারি।
কারণ আমি জানতাম বাসায় থেকে করতে পারব না এত কিছু।
যে আমাকে আম্মু নিজ হাতে খাইয়ে না দিলে খেতাম না, সে একা হয়ে গেল সম্পূর্ণ!
মাছ-মাংস ছাড়া যেই আমি ভাত খেতে পারতাম না সেই আমি পাতলা ডালে নিজেকে চালানো শিখে গেলাম!
মোটা স্বাস্থের জন্য যে আমি আলসতার জন্য হাটতাম না সেই আমি তিনঘণ্টা জিম করতাম, ক্যারাটে, মার্শাল আর্ট সব শিখলাম।
আমার মেয়েলি শরীর ছেলেতে পরিণত হওয়া শুরু করল।
নরম আঙুল আর থাকল না, হয়ে গেল কড়া পড়া শক্ত মোটা আঙুল!
যে আমি আইসক্রিম পাগল ছিলাম, ফুডি ছিলাম, সেই আমি সব কিছু বাদ দিয়ে সেদ্ধ সেদ্ধ জিনিস খেতাম, হালি হালি কাঁচা ডিম খেতাম!
কত কেঁদেছি, কত বমি করেছি!
পাগলের মত ছুটেছি!
বাদ দেয়ার সিধান্ত নিয়েছি বারবার কিন্তু দেই নি বাদ।
শুধু চিৎকার করে কাঁদতাম আর চোখ নাক মুখ বন্ধ করে সেই সব খাবার খেতাম, জিম করতাম, মানুষকে মারার কৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতাম।
শুধু তাই নয়, আমাকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে এসব ব্যাপারে জ্ঞান আহরণের জন্য!
অকথ্য কষ্টের মধ্যে দিয়ে নিজেকে তৈরি করছিলাম, আগুনে পুড়ে যেমন খাঁটি সোণা হয়, নিজেক ঠিক সেভাবেই গড়ছিলাম।
একদিন দুই ব্যাচ সিনিয়র আপু বর্ণা, তার ভাইরাল ভিডিও বের হলো, আমার সাথে আপুর বেশি বনত না, তাও সেসময় আপুকে সামলেছিলাম, সেও আমাকে আঁকড়ে ধরে কেঁদেছিল অনেক।
(পাশ থেকে বোরকার ভেতর মিস বর্ণা হুহু করে কেঁদে উঠৈ)
না, সে প্রেম করত না, তার প্রেমিক তাকে ভাইরাল করেনি।
প্রেমিক করলে হয়ত আমি তাকে এতটা সাহায্য করতাম না।
বর্ণা আপুকে প্রোপজ করে একটা বাজে ছেলে, তাকে একসেপ্ট না করায় আপুর হোস্টেলের বাথরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে স্নানের ভিডিও সে সোসাল মিডিয়ায় দিয়ে দেয়।
আমি আপুকে সেসময় সাহায্য করি,সেসময় আপুর ফ্রেন্ডরা কেউ আসেনি সাহায্য করতে। আমি আমার চেনা জানা এক ভাইকে দিয়ে ঐ আইডি ডিলিট করাই, তখন যেহুতু নিজেকে তৈরি করার অনেক কৌশল শিখেছিলাম, তাই প্রথম অপারেশন টা শুরু করি ঐ জানোয়ারটাকে দিয়ে!
মেরে হাড়-গোড় ভেঙে একদম কোমায় পাঠাই, প্রমাণ রাখিনি কোনো। কেউ ধরতেও পারেনি অবশ্য!
সাথে আপুকে থানায় ডিজির জন্য বলি যাতে অন্য কেউ ভিডিও টা আর পোস্ট না করে।
ব্যাস অপারেশন সাকসেসফুল হলো আমার প্রথম টায়!
নিজেকে তো যাচাই করলামই সাথে পেলাম আরেক জন সহযোদ্ধা বর্ণা আপুকে!
তাকেও আমি নিজের সাথে রেখে একই রকম বানানোর চেষ্টায় থাকি।
এত কিছুর মাঝে পরিবার,রাইশা এদের কারো সাথে তেমন যোগাযোগে গুরুত্ব দিলাম না।
কথা হত টুকটাক।
.
একদিন রাইশা ফোন করল, তার এইচ এস সি সামনে, পড়ছে ভালো করে বলল, সাথে বলল ডাক্তার ও হবেই ইনশা আল্লাহ্!
এসব কথা শেষে ও আমাকে বলল কলেজে যাওয়া আসার সময় নাকি কাউন্সিলরের ছেলে আর তার দলবল ডিসট্রাব করে।
আমি তাকে সাবধান হতে বলি।
আর এ ও বলি যেন ঝামেলা না করে কোনো সময়, আর পারত পক্ষে যেন একা না বেরয়।
সে বলল কাউন্সিলরকে জানানো হয়েছে কিন্তু কিছুই করছে না তারা।
আমি বলেছিলাম আচ্ছা দেখব, সাবধানে থাকবে।
ফোন রেখে আমি ভাবছিলাম এর পরে বাসায় গেলে বিষয় টা দেখব।
একদিন খবর পেলাম আমার রাইশা টা আর নেই, মেরে ফেলেছে!
শুধু মেরে ফেলেনি, হায়েনার দলবল ওকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে রাস্তায় পাশে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে!
আমার হাত থেকে মোবাইল পড়ে যায়, গগণ বিদারি চিৎকার করে কান্না করি,সবাই ভাবে আমার পরিবারের কেউ মরে গেছে, যখন শুনল নিজের কেউ না তখন অবাক হলো, পরেরর জন্য নাকি এভাবে কেউ কাঁদে না।
আমি তো অত কিছু জানতাম না, আমি শুধু জানতাম ও আমার রাইশা, আমার ছোট্ট রাইশা, যে আমাকে সাদা একটা এপ্রোন পড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে, “নীলা আপু এই যে তোমার এপ্রোন আর এই তোমার ডাক্তান্নি রাইশা!”
নীলাশা এবার খুব জোরে কাঁদতে থাকে, মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মেঝেতে হাত দিয়ে মারতে থাকে আর বলতে থাকে, “আমার জন্য আমার রাইশা টা মরে গেল, আমি যদি ফোনটার পরে গিয়েই ঐ প্রিন্সের হাড়-গোড় ভেঙ্গে দিতাম তাহলে আমার রাইশা টা এপ্রোন না পড়ে মেডিকেলে যেত না, তার ক্ষত-বিক্ষত ঐ নরম শরীরে আবার কাটা ছেড়া করতে হত না!”
তার কান্না আর বিলাপ দেখে ওখানের সবাই তো কেঁদে ফেলেছে ই, বাদ যায় নি মি.রায়ান ও! তিনি ভাবছেন রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও একজন আরেক জনকে এত ভালোবাসতে পারে!
এ নীলাশা জন্যই বোধ হয় সম্ভব!
মায়া এসে নীলাশাকে ধরে চুপ করতে বলে, নীলাশা আবার কান্না থামিয়ে কতক্ষণ নিরব থেকে বলে,
“আমি তাকে ডাক্তান্নি বলেই ডাকতাম তার স্পৃহা বাড়ানোর জন্য!”
আশে পাশে সবার চোখ ভিজে গেছে, নীলাশার কন্ঠও আংশিক ভেঙে গেছে, পৃথা চোখ মুছতে মুছতে পানি গ্লাস এগিয়ে দেয় নীলাশার কাছে।
নীলাশা আবার বলে, আমি স্যার, আন্টির পর সেই হতভাগী যে রাইশার কাটা ছেড়া মুখ দেখছি তার হাস্যজ্বল চেহারার বদলে, আমি এতটা শক্তি সামর্থ্য হওয়া স্বত্বেও সেদিন রাইশার মুখ দেখে কষ্টে সেন্সলেস হয়েছিলাম জীবনের প্রথম।
আমাকে সেদিন সামলেছিল বর্ণা আপু, সে আমার ছায়া হয়ে গেছিল তার পর থেকে।
আমি চেয়েছিলাম রাইশার জানাজার আগে প্রিন্সকে মারার জন্য, কিন্তু বর্ণা আপু তা করতে দেয়নি।
বলেছে আগে দেখ আইন কি করে।
আইন কিছুই করেনি, উল্টো স্যারকে ধমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করিয়েছে, মাইশার ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়েছে স্যারকে। আমার হাসিখুশি স্যারের পরিবার নিমিষেই শেষ হয়ে গেল..
আমি ঠিকই নিয়মিত তাদের ওপর নজর রাখতাম।
আইন যখন কাঁচ কলা দেখিয়ে উল্টো স্যারকে অপমান করল তখনও বর্ণা আপু আমাকে কিছুই করতে দেয়নি। বলেছে মোক্ষম সময়ে সবটা করতে হবে।
আমি মেনে নিয়েছিলাম..
স্যার বলত রাইশা যেন আমার মত হয়, আমি দোয়া করতাম যেন আমার সাথে ঘটে যাওয়া কিছু যেন তার সাথে না ঘটে,কিন্তু হায়!
ঐ কপাল পোড়ার যে আমার থেকেও বেশি কিছু হয়ে গেল, শুধু বেশি না, তাকে জীবনটাই হারাতে হল!
কি দোষ ছিল অতটুকু মেয়ের?
বলবেন স্যার? বলবেন?
কেউ তো বলেন!
আমার ডাক্তান্নি টা কেন এপ্রোন টা পড়ারও সুযোগ পেল না বলেন!
সবাই চুপ হয়ে নীলাশার কান্না দেখছে, আর তার কঠিন প্রশ্ন শুনছে, যার উত্তর কারো কাছে নেই!
.

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close