নন ফিকশন

প্রত্যাশিত নারী (পর্ব ৭)

তারপর সবাই মিটিং রুমে একসাথে জড় হয়।
মিটিংয়ে সবারই খবর এক, যাদের তথ্য সংহগ্র করা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রতিশোধ নেবার কেউ নেই।
আবার নিলয় তো বলল যে নাসিমা বেগম কখনো কাউকে নালিশও করেন নি কার স্বামীর ব্যাপারে।
এদিকে এসিড দগ্ধা সেই নারী, আর কাজের মেয়ে মায়া সহ তার পরিবারও তো মারা গিয়েছে, সুতরাং তাদের হয়ে প্রতিশোধ কে নিবে যেখানে তাদের সাথে হওয়া অত্যাচার এর প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না।
কোনো ঘটনায় কোনো ক্লু ছেড়ে যায় নি অপরাধী, আবার এমনও হতে পারে যে ক্লু নিশ্চয়ই আছে যেটা কারো নজরে পড়ছে না।
সবাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়ে।
এদিকে কারণ ছাড়াই যে রায়ান সাহেব একটু আগে বোরকা পরিহিতা মহিলাটিকে সাত দিন হাজিরা দিতে বললেন সেই ব্যাপারটা সবাইকে বললেন।
নোয়েল এবং পৃথাকে আলাদা ভাবে তার ওপর নজর রাখার কথা বলেন।
এবং তার দেয়া ডিটেইলস্ গুলো খুব ভালো করে দেখে নেন এবং সবার সাথে আলোচনা করেন তার ব্যপারে।
রায়ান সাহেবের ঐ মহিলাকে খুব সন্দেহ হচ্ছে কারণ মেয়েদের সাধাণত এত শক্তি থাকে না একজন পুরুষকে মারার, স্বাভাবিক ভাবেই তাদের গায়ের জোর কম।
তারওপর বোরকা পড়ে পেটানো টা আরো দুষ্কর কিন্তু মহিলাটি অনায়াসেই তা করেছে।
অর্থাৎ মহিলার আগেরও অভিজ্ঞতা আছে নিশ্চয়ই!
সুতরাং এনাকে সন্দেহ করাই যায়!
সবাই বলেন স্যার আপাতত আমরা কেইসে মনযোগ টা দেই, এইটা তো তেমন বড় কেইস না আর তাছাড়াও এই মহিলার তো অবস্থান ঠিকানা সব আছেই।
দরকার হলে তাকে আবার পাওয়া যাবে।
রায়ান সাহেবও একটু স্বস্তি পান আসলেই তো ঠিক, আমি একটু বেশিই ভাবছি এই ব্যাপার নিয়ে!
.
.
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোরকা পরিহিতা সেই মহিলার পেটানোর দৃশ্য ভাইরাল হয়ে যায়।
রায়ান সাহেব বললেন মানা করা স্বত্বেও কে এই ভিডিও ভাইরাল করল?
এতে অস্থিরতা আরো ছড়িয়ে যাবে দেশে।
খুব রাগ হয় তার যে ভিডিও আপলোড দিয়েছে তারউপর।
একবার ভাবেন তার নামে একটা কেইস দিয়ে দিবে।
পরে আবার ভাবেন এই টাইপের পাবলিকের উপর সময় দিয়ে সময় নষ্ট করার দরকার নাই, এরা যেমন হুজুগে তেমনই থাকবে তারচেয়ে চেয়ে ভালো কেইসের কাজে মনযোগ দেয়া।
কি আর হবে সামান্য ভিডিওর জন্য?
এদেশের পাবলিক রা ট্রেন্ড ফলো করার জন্য এরকম দু চার দিন পোস্ট শেয়ার আর লিখালিখি করে কদিন লাফায়, এর ওর বিচার চায়, প্রতিবাদ করে।
কিন্তু কদিন পার হলে আবার যেই কে সেই!
মহান মুক্তিযুদ্ধ ই এদের মনের পরিবর্তন করতে পারে নাই সেখানে আর এই একটা ভিডিও আর কি করতে পারবে!
বড়জোর কয়দিন তোলপাড় হবে এ নিয়ে, জনতার মাঝে আলোড়ন ফেলবে কিছু দিনের জন্য, আবার পরিস্থিতি ঠান্ডা হবে, আবার পাবলিক অন্য টপিক পাবে ট্রেন্ড ফলো করার জন্য
.
রায়ান সাহেবের এই চিন্তা ধূলিসাৎ করে দিয়ে আম জনতা তথা নারী জনতা সবাই শুধু পোস্ট করে চেঁচানো শুরু না করে বাস্তবে সব প্রয়োগ করা শুরু করে দিয়েছে!
কোনো একটা ফেইসবুক আইডি থেকে চ্যালেন্জ ছুঁড়ে দিয়েছে এক প্রকার কে কে তার সাথে ঘটে যাওয়া খারাপ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করতে পারে বাস্তবে!
যার কাছে যা আছে তাই দিয়েই যেন ধর্ষককে প্রতিহত করে!
.
সবাই খুব সিরিয়াস ভাবে নিয়ে তাদের সাথে ঘটে যাওয়ার সব কিছুর রিয়্যাক্ট করছে এবং তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ করছে!
সকল বয়সের, সকল স্তরের নারীরা এমন করছে।
দেশে তুমুল প্রতিবাদ চলছে। যখনই কোনো হ্যারাজমেন্ট হচ্ছে কারো সাথে তখনই সাথে সাথে ধোলাই দিচ্ছে!
কেউই রেহাই পাচ্ছে না!
বাচ্চা বুড়া যুবক যেই টিজ করছে তাকেই ধোলাই দিচ্ছে!
হুট করেই নারীরা বাঘিনীতে পরিণত হয়ে গেছে!
এতদিন যারা মুখ বুঝে রাতের অন্ধকারে শুধু কেঁদে গেছে তাদের সাথে হওয়ার খারাপ জিনিস গুলোর জন্য, তারা আর এখন রাতে বালিশ ভেজায় না।
কোনো নারীই আর এখন আতঙ্কে থাকেন না। বাইরে গেলে কখন কে কি করে এই আতঙ্ক তাদের মাঝে আর বিরাজ করে না। ইদানিং কোনো মেয়ের বাবা মা, কোনো মেয়ে পরিবারকে চিন্তিত থাকতে হয় না তার মেয়ে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পারবে কি না এ ভাবনা নিয়ে।
হুট করেই পুরো দেশের মানুষের মনোবল দৃঢ় হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি নারী নিশ্চিন্তভাবে চলাফেরা করছে!
তাদের মনে সর্বদা এই ভাবনা আমার কোনো ভয় নেই আর, এটা আর আগের ধর্ষকদের দেশ না, এটা তোমার আমার, আমাদের সবার শান্তির দেশ!
মনে হয় দেশটা কল্পনার মত সুন্দর হয়ে গেছে, নিরাপদ হয়ে গেছে অনেকটাই!
.
তবুও কুকুরের লেজ তো আর সোজা হয় না!
কিছু কিছু ঐ বাঁকা লেজের মত পুরুষ নামক ধর্ষক এখনো দেশে বিরাজ করছে যারা কিনা এ থেকে শিক্ষা না নিয়ে এখনো মনে কুৎসিৎ চিন্তা-ভাবনা পুষে রেখেছে!
রাস্তা ফাঁকা পেলেই হুটহাট তাদের চরিত্র প্রকাশ করে দিচ্ছে হয়ত একা কোনো স্কুল পড়ুয়া,কলেজ পড়ুয়া অথবা চাকরিজীবী কোনো নারীর কাছে।
কিন্তু সেই কাপুরুষ তো আর জানে না তাদের দলের মানুষরা শুধু বললায় নি, বাকি সবাই বলদে গিয়েছে!
ছোট্ট স্কুল পড়ুয়া মেয়ের কাছেও আজ কাল মরিচের স্প্রে থাকে, পিন থাকে!
তারা এতটাই মানসিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে গেছে যে পঞ্চাষোর্ধ ব্যক্তিকেও পিন ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের ঈমান দন্ড বরাবর জোড়ালো লাথি দিচ্ছে!
অহরহ ই এখন শুনতে পাওয়া যাচ্ছে এরকম কত শত ঘটনা!
বাহবা পাচ্ছে প্রতিবাদিনীরা!
.
আতঙ্কে আছে শুধু ঐ কাতারের মানুষেরা, যারা পথেঘাটে সব খানেই মেয়ে পেলে হামলে পড়ে!
অনেক পরিবারের কর্তারা তাদের ছেলেদের এখন বাইরে একা ছাড়েন না!
আবার ছাড়লেও প্রচুর দুশ্চিন্তা নিয়ে থাকতে হয় তাদের ছেলের কখন কি হয়!
যারা এতদিন ছেলের কুকর্মের শাস্তি না দিয়ে উল্টো বাহবা দিচ্ছিল এই বলে যে তাদের সন্তান পুরুষের মত কাজ করেছে, ছেলে পুরুষ হয়েছে, তারাও কিন্তু এখন ছেলেদের বুঝিয়ে বলছে পথে ঘাটে যেন সাবধানে থাকে, মাথা নিচু করে হাঁটে, যেন কোনো মেয়েকে টিজ না করে!
এতদিন মেয়ের পরিবার এমনটা বলেছে, “কেউ কিছু বললে কিছু বলিস না মা, চুপ করে মাথা নিচু করে চলে আসবি”, এখন আর এমনটা বলে না কিন্তু, কারণ অনেকেই এখন ঐ শাস্তিদাতার উপর বিশ্বাস করে আছে!
হাহাহা! খুব হাস্যকর না?
দেশটা পুরো উল্টে গেছে!
নারীর জায়গায় এখন পুরুষরা গৃহ বন্দী হয়েছে।
কিন্তু জানেন কি, মেয়েরা কিন্তু অকারণেই ছেলে/পুরুষ/বৃদ্ধদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে না, অকারণে যেমনটা একজন ছেলে/পুরুষ/বৃদ্ধরা করে!
কোনো মেয়ে/নারী/বৃদ্ধা কিন্তু তাদের বিকৃত চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছে, যেমনটা কিছুদিন আগেও পুরুষ সমাজ দিত!
.
এসব নিয়ে পুরুষ সমাজের তুমুল প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে!
কিন্তু তারা কাউকে বলতে পারছে না, বলবে কোন মুখে তাদের সমাজ তো আর বিনা দোষে শাস্তি পাচ্ছে না!
এতদিন নারীদের দোষ না থেকেও তারা চুপ থেকেছে, আর পুরুষরা দোষ করে চুপ থাকছে এই আরকি তফাৎ!
.
কিন্তু যাই হোক, দেশের আইন সংক্রান্ত ব্যাপার তো আর ছেড়ে দেয়া যায় না।
তাই রায়ান সাহেব কে তদন্তের কাজ করেই যেতে হয়।
যদিও মনে মনে তিনি খুব খুশি, কারণ এখন আর ধর্ষণ, নির্যাতনের তেমন একটা খবর পাওয়া যায় না, বেশ শান্তিতে আছে সবাই।
কিন্তু তাও তার সেই প্রবর্তক কে জানার খুবই ইচ্ছা, কে এমন মহৎ কাজ করতে পারে!
.
তিনি ঐ মহিলার ভাইরাল হওয়া ভিডিওটা খুব মনোযোগ সহকারে দেখে।
বেশ অবাক হন তিনি, বোরকায় মুড়ে থেকেও তিনি সাবলীল ভাবে মারছেন, আর তার কায়দা টাও ক্যারাটে স্টাইলে!
এ বিষয়টা তাকে খুব ভাবায়,একজন পর্দানশীল নারী কেন ক্যারাটে শিখতে যাবে? সচারচর তো এমন দেখা যায় না, আবার মারা দেখেই বেঝা যাচ্ছে তার শক্তি ও অনেক।
একটা সাধারণ নারীর এত শক্তি থাকতে পারে এই ভেবেও অবাক হন তিনি।
সবদিক ভেবে চিন্তে তিনি এই নিধান্তে উপনিত হন যে ঐ মহিলা সাধারণ কোনো মহিলা নন।
তার নিশ্চয়ই বড় কোনো ট্রেইনিং নেয়া আছে, নয়ত এভাবে কাউকে মারা সম্ভব না।
আশ্চর্যের ব্যাপার,এত ধস্তাধস্তির পরও তার একটা আঙুলও দেখা যাচ্ছিল না, শুধু চোখ বাদে।
এটা সন্দেহ টা আরো বাড়িয়ে দেয় রায়ান সাহেবের।
তারপর তিনি যে আইডি থেকে চ্যালেন্জ ছোঁড়া হয়েছে সেই আইডি ঘেটে দেখেন। আইডি টা নতুন, তেমন কোনো পোস্ট নেই আর।
তিনি লোকেশন চেক করে দেখেন কোনো এক পার্কে বসে পোস্টটা করা হয়েছে।
তার মানে তিনি যেই ‘আমি নারী বলছি’ আইডি টা সন্দেহ করেছিল এটা সেই আইডি বা ঐ লোকেশনের নয়। দুটা ভিন্ন ভিন্ন।
তৎক্ষনাৎ তার মাথায় আসে এমনও হতে পারে অাইডি একজনেরই কিন্তু সিকিউরিটির জন্য সে লোকেশন চেইন্জ করছে!
.
তাই তিনি নিলয় কে ঐ ভূতুড়ে বাড়ির খোঁজ খবর রাখার জন্য পাঠায় অন্য বেশে।
আর নিজে ঐ বোরকা পরিহিতা মহিলার দেয়া ঠিকানায় যায়।
গিয়ে যে বাড়ির ঠিকানা লিখা তাতে তালা ঝোলানো অবস্থায় পায়।
তিনি ভাবেন তাকে হয়ত ভুল ঠিকানা দেয়া হয়েছে, তাই মোবাইল দেন।
সেটাও বন্ধ দেখাচ্ছে।
সন্দেহ বেড়ে যায় তার।
পরের দিন সকালে রায়ান সাহেব যখন অফিসে কেবল গিয়েছেন তখন দেখতে পেলেন ঐ মহিলা এসেছেন,হাজিরা দিচ্ছেন।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তিনি কারণ তিনি যা সন্দেহ করেছিল তেমন কিছুই হলো না, মহিলাটি পালিয়ে যান নি, এসেছেন।
তিনি মহিলাকে বললেন,

আপনি কি ঠিক নাম্বার আর ঠিকানা দিয়েছেন?
-কেন সন্দেহ হচ্ছে?
-না, তবে আপনার লিখে দেয়া ঠিকানার ওখানে একটা কাজে গেছিলাম তো তাই ভেবেছিলাম আপনার বাসা টা দেখে যাই তাই আরকি গেছিলাম।
কিন্তু গিয়ে দেখি তালা ঝোলানো। আপনাকে ফোনও দিয়েছি কিন্তু নাম্বারটা বন্ধ ছিল।

অন্য কাজে গিয়েছিলেন নাকি আমার ওখানেই গেছিলেন?
যাইহোক, কাল আমি একটু বাইরে গেছিলাম আর ফোনে চার্জ না থাকার জন্য ফোন বন্ধ ছিল।

ওহ্ তাই?
-কেন? এখন কি আমি বাইরেও যেতে পারব না? আজব আমি কি খুন করে পালিয়েছি যে এত জেরা করছেন?

খুন করেন নি তবে যে দুজনকে আপনি মেরেছেন তাদের তো অবস্থা খারাপ!
আচ্ছা আপনি কোনো ট্রেইনিং নিয়েছেন ক্যারাটের?

আমার পার্সোনাল ব্যাপারও কি এখন বলতে হবে?
-হ্যাঁ বলতে হবে, নইলে যখন আপনার নামে কেইস ফাইল হবে তখন আর কিছু করার থাকবে না।

এখন আমাকে কেইসের ভয় দেখাচ্ছেন?
কি করেছি আমি? নিজেকে সেইভ করব না? বিলিয়ে দিব রাস্তার কুকুরের কাছে নিজেকে? তখন তো আবার খারাপ মহিলা বলে জেলে পুরে দিবেন। মানে আপনাদের মোট কথাই হচ্ছে মজলুম দের হ্যারাস করা, আর কিচ্ছু না।
-দেখুন ম্যাম, আইনের স্বার্থে আমাকে এসব জানতেই হবে। দয়া করে শান্ত হোন এবং আমাকে উত্তর দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন..

আমি এমনি নেট ঘেটে সেলফ ডিফেন্সিভ কিছু শিখেছি, এর বাইরে কিছু নয়।

ওহ্ অাচ্ছা, ধণ্যবাদ।

স্বাগতম।
.
এরপর রায়ান সাহেব পৃথাকে কি যেন ইশারা করে, পৃথা মহিলাটিকে আড়ালে নিয়ে যায়।
পৃথা- ম্যাম আপনি যেহুতু পর্দানশীন তাই একটু ভেতরে আনলাম। আসলে আপনার চেহারা আর হাতের ছাপ একটু দরকার। আপনার তো নিকাব আর হাত মোজা রয়েছে, দয়া করে যদি মুখ টা খুলতেন।
মহিলা- চেহারার কোনো দরকার অাছে বলে তো মনে হয়না।
তবুও ঠিক আছে দেখুন।
পৃথা ভালোভাবে দেখে নিল তাকে, দেখে মনে হচ্ছে ২৫-২৬ বছরের হয়ত,বেশ সাদা মাটা চেহারা, তার আঙুল গুলো আর পাঁচটা মেয়ের মত তুলতুলে লাগল না পৃথার কাছে, ছেলেদের মত কিছুটা শক্ত মনে হল, তাই তাকে ছোঁয়ার বাহানায় তার সাথে হ্যান্ডশেক করল এবং সে বুঝতে পেল তার হাত টা শক্ত, যেন মার্শাল আর্ট বা ক্যারাটে তে ট্রেইনিং নেয়ায় হয়ত হাত শক্ত হয়েছে, দেখেই বোঝা যায় অবশ্য।
পৃথা গিয়ে রায়ান সাহেব কে সব টা বলে, রায়ান সাহেব পৃথাকে বলে ঐ মহিলার ওপর নজর রাখতে, তার বাসার পাশে ভিন্ন বেশে থাকতে বলল, আর এও বলল যেন খুব সাবধানতার সাথে থাকে, মহিলা অনেক চালাক যেন আবার টের না পায়।
.
পৃথা রায়ান সাহেবের কথা মোতাবেক কাজ করল। সারাদিন ঐ মহিলা বের হয়নি। সন্ধ্যায় বাইকে করে এক যুবককে ঐ বাসায় প্রবেশ করতে দেখল পৃথা। হেলমেট পড়ে থাকায় তার মুখ দেখা যায়নি তবে পড়নে তার জ্যাকেট অার জিন্স ছিল।
ঘন্টা দুয়েক পর ঐ যুবক বের হয়ে যায়।
পৃথা আরো দু ঘন্টার মত থেকে অফিসে এসে পড়ে কারণ তাদের মিটিংয়ের সময় হয়ে এসেছিল।
মিটিংয়ে সে যেগুলো দেখেছে সবটা বলল।
সবারই প্রশ্ন মহিলাটি তো অবিবাহিত মনে হল তাহলে ঐ যুবক কে!
.
রায়ান সাহেব বলল এ নিয়ে পড়ে ভাবা যাবে। নোয়েল তুমি কি দেখলে ঐ বাড়িটাতে?

স্যার ওখানে দুজন মহিলাকে বের হতে দেখেছি। একজন স্কুটি নিয়ে বের হয়েছে বোরকা পড়ে। আরেক জন কে দেখলাম বাজার ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যেতে এবং বাজার করে ফিরে আসতে।
ঐ স্কুটি ওয়ালা মহিলা দুপুরের দিকে ফিরে আবার সন্ধ্যায় বেরিয়ে গেছিল। আর কাউকে দেখলাম না বেরতে।
.
রায়ান সাহেব ভাবছেন আসলেই কি এদের পিছনে সময় খরচ করে লাভ আছে?
শুধু মাত্র ফেইসবুক পোস্ট আর একজন কে ধোলাই দেয়াতেই কি দুজনকে মেইন কেইসের সাথে ইনক্লুড করাটা কি ঠিক হচ্ছে?

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close