নন ফিকশন

প্রত্যাশিত নারী (পর্ব ৬)

রায়ান সাহেব এই জটিলতাপূর্ণ কেইসের সুরাহার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি টিম তৈরি করেন কারণ এতে করে আরো বেশি তথ্য পাওয়া যাবে যাতে ব্যাপারটা আরেকটু সহজ হয়ে যায়।
তিনি নিলয়, কাশেম স্যার, পৃথা আর নোয়েল কে নিয়ে টিম টি তৈরি করলেন।
এই চারজন ই খুবই চতুর আর পারদর্শী।
পুরো থানার মধ্যে এদের বুদ্ধিমত্তার জন্য এরা বেশ পরিচিত।
এদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র মধ্যবয়স্ক কাশেম স্যার।
তারপর নিলয়, সে গত ৬ বছর যাবত আছে এই পেশায়।
পৃথা বেশ চঞ্চল আর বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে ৩ বছর হলো জয়েন করেছে।
আর নোয়োল ২ বছর, খুব ই সুদর্শন, আর চতুর একটা ছেলে। বয়স আর কত ২৭ এর কোটায়!
.
এবার রায়ান সাহেব সবাইকে সবটা খুব ক্লিয়ার করে বুঝিয়ে দিলেন।
সবাই কে বললেন কেইস টা যত দ্রুত সম্ভব সলভ করতে হবে।
তারপর তিনি তাদের কাছে তাদের নিজস্ব মত নেন কে করতে পারে এমনটা!
সবাই সবার আইডিয়া মত শেয়ার করল তাদের সন্দেহের ব্যাপারে।
রায়ান সাহেব খুব মনযোগী হয়ে শুনে হুম হুম উত্তর দিলেন এবং সবাই কে যুক্তি দেখাতে বললেন তাদের মতের।
সবারই এক কথা প্রায়, কেউ একজন হয়ত প্রতিশোধ গ্রহণ করছে।
তাই তিনি তার টিমকে প্রথমেই পাঠান সেই ভিক্টিমদের খবর নিতে যারা যে ক্রাইম করেছে তার বিবরণী নিতে।
এরই মাঝে তিনি সন্দেহ ভাজন সেই বাইকারের বিবরণী দিয়ে বলল এমন সবাই কে খুব ভালো করে চেক করতে, এবং কাউকে সন্দেহ হলে যেন তার ওপর নজর রাখা হয়।
.
সবাইকে যার যার মত তথ্য সংহগ্র করে আনে।
প্রতিদিনই তারা এক্সট্রা সময় দেন এই টিমে।
নিরলস পরিশ্রম করেন তারা সবাই।
.
একেক জন একেক ভিক্টিমের খবর অানল।
.
নাসিমা বেগমের স্বামীর মূলত অমন অবস্থা হয়েছে তার স্ত্রীকে নির্যাতনের জন্য।
তিনি প্রতিনিয়ত মদ খেয়ে এসে বৌ কে পিটান। কোনো কারণ থাকে না তাকে মারার।
যখন তখন যেকোন সময়ে পিটান স্ত্রীকে তাও আবার নির্মম ভাবে। কখনো কখনো মারতে ধরলে হাড় না ভাঙা পর্যন্ত ছাড়ে না, আবার নিজে যতক্ষণ ক্লান্ত না হোন ততক্ষণ ছাড়েন না।
আবার কখনোও সিগারেট দিয়েও পুড়িয়ে দেন।
এসব কথা তার স্ত্রীর কাছ থেকে অনেক কষ্টে বের করেছে পুলিশ অফিসার নিলয়।
নিজের স্বামীর নামে বলতেই চাচ্ছিলেন না। বিয়ের পর থেকেই এমন পাশবিক অত্যাচার সহ্য করছেন শুধু সংসারটা টেকানোর জন্য, নিজের ছেলে পুলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।
কখনো কারো কাছে নালিশ করেন নি তিনি।
যখন নিলয় জোর করল তখনই মিলল এসব ঘটনার বিবরণ!
নিলয় হিসেব মিলিয়ে দেখল নাসিমা বেগমের পিটনের ধরণের সাথে প্রায়ই মিলে গেছে তার স্বামীর অত্যাচারের ধরণ।
সুতরাং স্ত্রীকে অত্যাচার করার জন্যই তাকে আহত হতে হয়েছে, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
কে এমন করতে পারে তা নাসিমা বেগমকে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেন তার কাউকে সন্দেহ হয় না।
এমন কেউ নেই তার যে তার হয়ে প্রতিশোধ নিবে।
নিলয় এসব বিবরণ নিয়ে চলে আসে থানায়।
.
পৃথাকে দায়িত্ব দেয়া হয় অনার্সে পড়ুয়া সেই ছেলের তদন্তের জন্য, পৃথা তার পরিবারের সাথে কথা বলে এমন কোনো তথ্য পায় না যে তার সাথে এমন করতে পারে।
ঐ ছাত্রের চোখে, পুরুষাঙ্গে এবং মুত্রথলি তে যে পিন গুলো পাওয়া গেছে তা মূলত মেয়েদের।
কিন্তু দিনে দুপুরে কেউ এমন করবে তাও আবার একটা ছেলের সাথে, এটা ঠিক যায় না। তবে পিন গুলো যেহেতু মেয়েদের সেহেতু মেয়েদের সন্দেহ করাটা জায়েজ, কিন্তু একটা মেয়ে কিভাবে একটা ছেলের সাথে পেরে উঠবে শক্তিতে?
আবার এমন ভাবে সেনসিটিভ পার্টে পিন ঢুকিয়ে দিল!
.
এবার কাশেম স্যার যান সেই এসিড ছোঁড়ায় আক্রান্ত সেই ব্যক্তির কাছে যাকে দিবালোকে জনসম্মুখে এসিড ছোড়া হয়েছিল।
তার হিস্ট্রি নেয়ার পর তিনি জানতে পারলেন বছর তিনেক আগে ঐ লোক একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েকে এসিড ছুঁড়ে দিয়েছিল তার কু-প্রস্তাব গ্রহণ না করার জন্য।
জন সম্মুখে মেয়েটাকে এসিড দিয়েছিল কিন্তু কোনো মানুষ ই সাক্ষী দেয়নি।
মেয়েটা তার বিচার পায়নি।
শুধুমাত্র কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল যা দিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি ও করা যায় নি।
তার বর্তমান আর ভবিষ্যত যে নষ্ট করে দিয়েছিল সেও সমাজে বুক ফুলিয়ে চলছিল।
কাশেম স্যারের বুঝতে আর বাকি রইল না কেন তাকে এসিড ছোড়া হয়েছে।
সুতরাং এমনটা ঐ এসিড দগ্ধ নারীর করার নিশ্চয়তা শতভাগ।
কিন্তু একজন নারীর ক্ষেত্রে কাজ টা বেশ কঠিন।
আবার এমনও হতে পারে কাউকে দিয়ে সে এমনটা করিয়েছে।
তাই তিনি দেরি না করে সেই এসিড দগ্ধা নারীর খোঁজে বেরিয়ে পরেন।
তার পরিচয় মোতাবেক সেই নারীর এলাকায় যান কিন্তু তাকে এবং তার পরিবারকে পান না।
অনেকেই বলছেন মেয়েটা নাকি আত্মহত্যা করেছিল, আবার অনেকেই বলেন মেয়েটা নিরুদ্দেশ হয়েছিল।
তাই তার পরিবারও এখানে থাকে না।
অনেক কাঠখর পুড়িয়ে তিনি সেই পরিবারের কাছে পৌঁছান, কিন্তু সেই মেয়েকে পান না।
তাদের পরিবারের ভাষ্যমতে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছিল।
এসব কথা যখন মেয়েটির বাবা বলছিলেন তখন তার মায়ের রাগ জড়ানো কান্না দেখতে পান কাশেম স্যার।
তার রাগ টা ছিল মেয়ের সাথে অন্যায়ের আর কান্না টা ছিল মেয়েকে হারাবার।
মহিলাটিকে কেমন যেন মনে হচ্ছিল কাশেম স্যারের,কিন্তু কণ্যা শোকে বিহ্ববল মাকে প্রশ্ন করার সাহস আসেনি তার মাঝে।
তবুও পেশাদারিত্বের খাতিরে বেশ কিছুক্ষণ পর কাশেম স্যার ঐ মহিলাকে প্রশ্ন করেন তার মেয়ের হয়ে প্রতিশোধ নেবার কেউ ছিল নাকি কারণ যে এমনটা করেছে তার সাথেও একই ঘটনা ঘটেছে।
মেয়েটির মায়ের মুখে বাঁকা একটা হাসি ফুঁটে উঠল কান্নার মাঝে।
নিজেকে স্বাভাবিক করে বললেন না তেমন কেউ নেই।
থাকলে তো তাদের বিচারহীন হয়ে থাকতে হত না।
কাশেম স্যার বুঝতে পারেন আসলেই তাদের হয়ে প্রতিশোধ নেবার মত মানুষ নেই।
কিন্তু তাদের হয়ে কে প্রতিশোধ নিবে?
কাশেম স্যার ভাবতে থাকেন পৃথিবীতে ভালো মানুষের বড্ড অভাব, তাও নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবেই বা কে?
কে সেই এসিড দগ্ধার হয়ে প্রতিশোধ নিল?
.
.
নোয়েল কে এক্সট্রা কারো ইনফরমেশন নিতে পাঠানো হয়নি। তবে সবচেয়ে গুরু দায়িত্বের ভাড় পড়েছে তার কাঁধে।
সে রায়ান সাহেবের সাথে থাকছেন আর তিনি যে ভিক্টিমের বয়ান নিয়েছেন তাদের ই তদারকি করছে নোয়েল।
তাদের নিয়মিত হসপিটালে খোঁজ নিতে হচ্ছে, আবার তাদের বাড়ির ওপর তথা সেই ফ্যামিলির কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে।
যুবক আর এই জেনারেশন এর হওয়ায় তার মধ্যে আইসিটির দক্ষতা বেশি থাকায় তাকে এই কেস গুলোর আইটি বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সেই সাথে নোয়েল আর পৃথাকে সাদা পোশাকে অর্থাৎ পুলিশ বেশ ছেড়ে আম জনতার মাঝে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে কিছু সময়ের জন্য যাতে খুব ভালোভাবে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
.
বেশ রসিক নোয়েল, সবার সাথে বেশ হাসি ঠাট্টা আর মজা করে সবার মন ভালো করে দেয় তবে লিমিটের মধ্যে। এসব কিছুই তার ব্যাক্তিত্বে প্রভাব যেন না ফেলে সেদিকেও তার কড়া নজর!নোয়েলের সাথে সবার সম্পর্ক খুবই ভালো,তাই তাকে সব সময় গুরু দায়িত্ব গুলো দেয়া হয়।
সেজন্য এত্তগুলো কাজ একসাথে করতে হচ্ছে নোয়েল কে।
নোয়েল ও বেশ এনজয় করে তার কাজ গুলো কে।
প্রতিটা কেইস সে এ্যাডভেঞ্চার হিসেবে নেয় আর নিজের সাথে চ্যালেঞ্জ করে এসব সম্পন্ন করার!
তাই প্রতিটা কেইসেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স থাকে তার!
.
.
দুপুরের দিকে রায়ান সাহেব নোয়েল কে নিয়ে শহরে কোনো কাজে ছিল।
তারা পথিমধ্যে মানুষের একটা জটলা দেখতে পেল।
দ্রুতগতিতে তারা সেখানে উপস্থিত হল এবং যা দেখল তা অকল্পনীয়!
.
একজন পর্দানশীল নারী একটা যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছে। সেটা আবার আম জনতা মজা সহকারে গিলছে।
পাশেই আরেকটা যুবক আহত অবস্থায় পড়ে কাতরাচ্ছে।
তার মধ্যে অনেকেই আবার খুব দায়িত্ব সহকারে ভিডিও করছে!
এসব ভাইরাল করে আবার তাদের সেলিব্রেটি হতে হবে!
.
রায়ান সাহেব ও নোয়েল দ্রুত মহিলাটিকে থামান এবং জানতে চান ঘটনা কি।
মহিলাটি যে লোকটিকে মারছিলেন তাকে কলার টেনে রায়ান সাহেবের নিকট এনে বলেন, “একে জিজ্ঞেস করুন কি হয়েছে”
রায়ান সাহেব উক্ত লোকটিকে জিজ্ঞেস করলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন তিনি কিছুই করেন নি।
কথাটি বলতেই ঐ মহিলাটি গায়ের সর্বস্ব জোর দিয়ে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয়!
দুজন পুলিশ ই বেশ হচকচিয়ে যায় এমন পরিস্থিতি দেখে।
কারণ পুলিশকে দেখেও মহিলার সাহসের কোনো কমতি নেই উল্টো তাদের সামনে একজনকে এভাবে মেরে দিল!
এতেই তারা দুজন বুঝতে পারছে অসীম সাহসের অধিকারিণী এই নারী!
নিজেদের দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে এনে বলেন তিনি এভাবে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না!
কি কারণে এভাবে দুজন কে মেরেছেন তা জানতে চান তার কাছে।
.
নারীটি বললেন যে লোকটাকে তিনি চড় মারলেন মাত্র সেই লোকটা মহিলাটির সাথে বাজে ব্যাবহার করেছেন।
তাকে বাজে ভাবে স্পর্শ করে কুমন্তব্য এবং কু-ইঙ্গিত করেছে।
তিনি আরো বলেন-
আর দ্বিতীয় জন যিনি মাটিতে পড়ে আছেন তিনি ভীড়ের মধ্যে থেকে ভিডিও করতে করতে হঠাৎ বলে উঠেছিল, “আপনার মুখ টা খুলেন আমারাও দেখি কে আপনি ব্যাটা মানুষরে পিটাইতেছেন, তাও আবার সবার সামনে, আপনের কোনো দোষ না থাকলে তো ঐ ভাই নিজ থেইকা কিছু করে নাই, আপনার মধ্যেই মনে হয় গন্ডগোল, বোরকা পইড়া উল্টা পালটা কাম করেন থামেন আপনার বোরকা খুইলা দেই”
এই কথা বলে তিনি আমার নিকাব ধরে টান দেন এবং তাই ওনাকেও দিয়েছি!
ওনার সাহস কি করে হয় না জেনে আমার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করার?
আমি ঐ লোককে এমনি মেরেছি নাকি কারণে মেরেছি এ কথা না জেনেই আমার ওপর হামলে পড়েছিল কেন?
আবার আমার গায়ে হাতও দিয়েছে এত বড় সাহস!!!
একই পর্যায়ের এই দুজন, সেই জন্যই তো সাপোর্ট নিয়েছেন না জেনে।
ঐ যে বলে না রতনে রতন চেনে ব্যাপারটা অমন!
আর এইযে এইযে আপনারা এখন কি আপনারাও মার খাবেন? যখন এরা অন্যদের হ্যারাজমেন্ট করে তখন তো ওদের কিছু বলেন না, আর এখন তাদের মারছি জন্য আমাকে এভাবে ভিডিও করছেন?
কেন? কেন করবেন?
কই তারা যে খারাপ কাজ করে, সেই ভিডিও তো করেন না!
কথাগুলো এক নাগাড়ে বলে ফেলেন মহিলাটি।
“ম্যাম বুঝেছি আপনার দোষ নেই, কিন্তু তা বলে তো আপনি নিজ হাতে এভাবে তাকে
মারতে পারেন না জনসম্মুখে, এজন্য আইন আছে। আপনি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। একটি জিডি করতে পারতেন ইভ টিজিং অথবা হ্যারাজমেন্ট এর।” নোয়েল কথাটি বলে উঠল।
রেগে গিয়ে মহিলাটি বললেন, “আইন? কিসের আইন?
যে আইন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, রাস্তাঘাটে যখন এই পশুগুলোর বাজে ব্যবহারের শিকার হতে হয় তখন কোথায় থাকে আপনাদের আইন?
আর কি বললেন থানায় জিডি করতে?
হুহ্! হাসালেন!
আজ পর্যন্ত কয়টা ধর্ষণের সঠিক বিচার হয়েছে যে আপনারা আমার সাথে ঘটে যাওয়ার হ্যারাজমেন্ট এর বিচার করতেন?
যেখানে ধর্ষণের ই সাজা হয়না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেখানে আবার হবে ইভ টিজিং এর বিচার?
এটা কি হাস্যকর কথা না?”
নোয়েল চুপ মেরে যায়। কি বলবে এর উত্তের!
এত একটা বাঘিনী বাবা! একটা কথাও মাটিতে ফেলতে দিচ্ছেন না।
তারপর রায়ান সাহেব বলে “ম্যাডাম আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে, কিছু ফরমালিটিস এর জন্য, প্লিজ গাড়িতে উঠুন।”
মহিলাটি যেতে না চাইলে একটু কড়া ভাবে রায়ান সাহেব শোনায় এরপর তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়ে আইন ভাঙার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।
তাই মহিলাটি তাদের জিপে উঠে পড়েন।
রায়ান সাহেব ওখানের মানুষ গুলোকে ঐ মহিলার অগোচরে বলেন, “ওনার প্রত্যেকটি কথা সঠিক, এরপর থেকে খবরদার আর এমন করবেন না, আপনারা কেন ভিডিও করছিলেন?
এতই যখন আপনাদের আইনের জন্য এভিডেন্স রাখার সখ তখন পুলিশকে কেন কল করেন নি?”
জটলার মানুষ গুলো মাথা নিঁচু করে চলে যায়।
এরপর রায়ান সাহেব আহত লোক দুটো এবং ঐ মহিলাকে নিয়ে থানার উদ্দশ্যে রওনা দেন।
.
যদিও তিনি এই ঘটনাটিকে এখানেই শেষ করতে পারতেন দুজনের মিমাংসা করে দুজনকে বিদায় দিয়ে কিন্তু তিনি তা করেন নি, কারণ এতক্ষণ চুপ করে তিনি মহিলাটিকে পর্যবেক্ষণ করছিল যাতে খুব ভালো করেই রায়ান সাহেব বুঝতে পারেন আর পাঁচটা সাধারণ নারীর মত এই নারীটি নন!
দুজন পুরুষকে এভাবে সাহস নিয়ে সবার সামনে পেটাতে কোনো আম নারী পারবেন না, না শক্তিতে আর না সাহসে!
নাহলে এদেশে নারীদের হ্যারাজমেন্ট কেউ করতে পারত না সচারচর!
এসব ভেবেই তিনি তাকে থানায় নিয়ে যাচ্ছেন।
.
থানায় নিয়ে যাওয়ার পর রায়ান সাহেব আহত দুজনকে হাসপাতালে দিয়ে দেন এবং মহিলাটির জবান বন্দি নেন।
মহিলাটি বেশ ক্ষেপে গেছেন তাকে এভাবে জাহির করার জন্য।
তিনি বলেন, “আমাকে কিন্তু এখন আপনারা অকারণেই বিরক্ত করছেন, আমাকে এখানে নিয়ে আসার কোনো প্রয়োজন আমি দেখছিনা”
রায়ান সাহেব বলেন, “কোনটি প্রয়োজন আর কোনটি নয় সেটা আইন রক্ষক হিসেবে আমি ভালো জানি না আপনি? এখন যা জিজ্ঞেস করেছি আশা করি উত্তর গুলি দিবেন”
মহিলাটি উপায় না দেখে চুপ করে গেলেন।
এর পরের কথোপকথন তাদের মাঝে-

এখন বলুন উনি আপনাকে এমন কি বলেছেন বা করেছেন যার জন্য আপনি তাকে মারলেন?
-আমি রাস্তার পাশ ঘেষে কোনো একজন কে ফোন করছিলাম, তখন ঐ লোকটা বাজে ইঙ্গিত করছিল, তাও আমি সেটাকে ইগনোর করি।
তারপরও তিনি আবার আমার পাশ ঘেষে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, বোরকা পড়ে আমি আমার প্রেমিককে নাকি ডাকছিলাম হোটেলে আসার জন্য, এজন্য তিনি আমাকে বলছিলেন তার সাথে যেন আমি চিপায় যাই!
এরপরও আমি তার দিকে তাকিয়ে শুধু চোখ রাঙিয়েছি কিছুই বলিনি।
এসব করেও তিনি ক্ষান্ত হন নি।
তিনি পাশ ঘেষে পেছন থেকে আমার নিতম্বে হাত দিয়েছেন!
এবার বলুন আমি ভুল কি করেছি?
মারব না তাকে আমি?
ছেড়ে দিতাম তার মত ধর্ষককে?

না ঠিক আছে বুঝেছি আপনার দোষ না, কিন্তু তাও জনসম্মুখে এভাবে মারা টা কি উচিত হয়েছে অাপনার?
এতে করে তো আম জনতাও সব সময় আপনার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন টা করবে, নিজ হাতে আইন তুলে নিবে!
এটা করা কি ঠিক হবে আপনিই বলুন?
পরিস্থিতিতি তো তখন বিগড়ে যাবে, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে!

বিগড়ে যায় যাক!
অবশ্যই আমি উচিত কাজ করেছি!
একজন ধর্ষক যদি জনসম্মুখে আমার সাথে বাজে ব্যবহার করতে পারে তবে আমি কেন তাকে শাস্তি দিতে পারব না জনসম্মুখে?
আর আমার কাছ থেকে যদি এমন শিক্ষা কোনো মেয়ে নেয় তাতে তো আমি আরো খুশি হব!
হোক না মেয়েরা এমন প্রতিবাদী।
যদি সঙ্গে সঙ্গে ঐ জানোয়ার গুলো সাজা পেত তাহলে তো আর সাহস পেত না সব সময় এমন করার।
আপনি কি ভেবেছেন ঐ জানোয়ার টা আজকে প্রথম আমার সাথে এমন করেছে?
না করেনি!
নিশ্চয়ই সে প্রতিনিয়ত এমন করে। যার কারণে আজ আমার সাথে করেছে। আমি যতি তাকে এসময় কিছু না বলেই চলে যেতাম তারপর সে আরেক জনের সাথে এমন করবে আর করতেই থাকবে।
তার স্বাভাবই ওরকম হয়ে গেছে সাজা না পেতে পেতে।
খারাপ কাজ করতে করতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাই এত সহজেই আমার সাথেও এমনটা করেছে!
ঐ কুকুর টা যদি আগে কারো কাছে সাজা পেত তাহলে আমার সাথে এমনটা করার আগে একবার ও ভেবে দেখত!
কিন্তু সে তা করেনি!
উল্টো একের পর এক বাজে কাজ করে যাচ্ছিল!
ওহ্ স্যরি, আমি ভুল করে ধর্ষক টাকে কুকুর বলে ফেলেছি।
কুকুর তো ওদের থেকে কোটি গুণ ভালো!
একটা রাস্তার কুকুরও কখনো কাউকে কারণ ছাড়া কামড়ায় না, আর এই রাস্তার ধর্ষক গুলো তো ওঁত পেতে থাকে মেয়েদের হ্যারাজমেন্ট করার জন্য!

আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার পারসোনাল ইনফরমেশন এখানে লিখে দিন যাতে সহজেই আপনাকে আমরা পাই।
আর আপনি সাত দিন রেগুলার এখানে এসে হাজিরা দিয়ে যাবেন।

হাজিরা কেন দিতে হবে?
আমাকে এই হয়রানি টা কি না করলেই নয়?
-দুঃখিত ম্যাম, কিন্তু আইনি কাজের স্বার্থরক্ষা করতে এ কাজটা করতেই হবে!
মেয়েটি আর কথা না বাড়িয়ে তার কথা মেনে নেন।
রাগী হলেও আইনের ব্যপারটা মেনে নেয় দেখে রায়ান সাহেব খুশি হন মনে মনে তার ওপর।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের মিটিংয়ের সময় হয়ে এসেছে।
সবাই তাদের স্পেশাল কেইসের এই মিটিংয়ের জন্য ফিরে আসছেন থানায়।
তারপর…

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close