রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

প্রত্যাশিত নারী (পর্ব ৫)

বেশির ভাগ ছেলেরা বিরক্ত হচ্ছে এভাবে চেক করার জন্য।
এমনিতেই তারা আতংকিত তার ওপর এসব চেক করা তাদের যেন সহ্য হচ্ছে না।
.
আশ্চর্য না?
যেখানে প্রতি সেকেন্ডে নারীরা এমন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সেখানে মাত্র হাতে গোণা কয়েকজন পুরুষ নির্যাতিত হয়েছে জন্য পুরো সমাজ আতংকিত।
অথচ কি ভয়াবহ ব্যাড টাচ,ব্যাড কমেন্ট, নোংরা হ্যারাজমেন্ট সাথে নিয়ে রোজ একটা নারীকে চলতে হয়।
তাহলে পুরুষ আপনারা একবার ভাবুন কেমন দিন যাপন করছি আমরা মেয়েরা!
কি? কি বললেন?
আমাদের চলা ফেরায় দোষ?
পোশাকে দোষ?
না মোটোই না! দোষ আপনার চরিত্রে, কেন?
কারণ আপনারা হলেন কুলাঙ্গার আর কাপুরুষ। কারণ বাংলাদেশে এখনো নারী রা বিকিনি পড়ে ঘুরে বেড়ায় না। আর যদিও বিকিনি পড়েও ঘুরে বেড়ায় তাতে আপনারই বা কি?
ইসলামের দোহাই দিয়ে নিজেদের সাপোর্ট করবেন?
আপনাদের মত ধর্ষক টাইপ মানুষেরা শুধুই ঐ নারীর পর্দার ব্যাপারে আর ৪টা বিয়ে করা যায় অতটুকুই জানেন আর অতটুকুই মানেন!
অথচ এত শান্তিময় ধর্মে আপনাদের অর্থাৎ পুরুষের ও পর্দার কথা বলা হয়েছে,আপনাদের দৃষ্টির হেফাজত রাখতে বলেছে,যদি ভুল করে কু-জিনিস দৃষ্টিতে পড়ে তাহলে তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে তওবা করতে বলা হয়েছে।
কিন্তু আপনারা কি করেন জানেন?
চোখ দিয়ে গিলে খান একটা নারীকে, তওবা না করে সহস্রবার ধর্ষণ করেন চোখ দিয়ে যেন এ আপনার মৌলিক ৫ অধিকারের একটি!
.
দিনশেষে কিন্তু আপনি ঐ ওয়েস্ট্রান ড্রেস পড়া বড়লোকের দুলালী কে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করেন না, আপনি ধর্ষণ করেন কোনো এক মধ্যবিত্ত অথবা গরীর ঘরের বাবার ভরসার সেই মেয়ে গুলোকে যারা কিনা বাবার অসুস্থতায় ঔষধ আনতে বাসার বাইরে যায়,যে মায়েরা সন্তানের খাবার যোগাড়ের জন্য কর্মস্থলে যায় কিংবা প্রাইভেট বা যে বোনেরা টুকটাক কাজ করে নিজের পড়া চালায়!
কি এখন নিজেকে দানব মনে হচ্ছে?
.
.
রায়ান সাহেব যেহুতু উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা, তাই তাকে সব ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হয়।
এই যেমন প্রিন্সের মামলা যেই থানায় সেটা রায়ান সাহেবের নয়, তবে তাকেও তা দেখতে হবে। কারণ বেশ কয়টি থানা তার আন্ডারে।
মেইনলি তিনি যেই থানার সে থানার কেইসের এখন ইতিহাস ঘাটার পালা। তাই এই কেইসের একটা গ্রুপ বানিয়ে তাদের ছড়িয়ে দেয় ভিক্টিমের ইতিহাস পর্যালোচনার জন্য।
রায়ান সাহেবের কাছে প্রিন্সদের খবর আসার আগে অনান্য কেইস আছে যার টুকটাক ছাড়া আর কিছুই জানা হয়নি বা জানতে পারেন নি।
.
ঐ রিক্সা ওয়ালার বাড়ির লোকদের ইতোমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে।
অবিবাহিত সেই রিক্সা চালক, যখন পরিবার জানতে পারল সে বাবা হতে অক্ষমে পরিণত তখন তার পরিবার আক্ষেপের সাথে বলল বাতি দেয়ার জন্য ওর ছেলে-পুলে হবে না!
.
ওদের কাছে তাদের বাড়ির ছেলের সম্পর্কে তেমন কিছুই পেলেন না রায়ান সাহেব। তাই এই ব্যাপরেও কোনো জট খুলতে পারলেন না তিনি।
.
ডাস্টবিনের কাছে উলঙ্গ যে লোকটাকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, সেই লোকটার পরিবারও ইতোঃমধ্যে পাওয়া গেছে।
লোকটি বড় ব্যাবসায়ী, টাকা আছে, বউ বাচ্চা আছে।
নগরীতে তিন তলা বাড়ি আছে।
তার সম্পর্কে এলাকার মানুষ থেকে টংয়ের দোকান, রাস্তার ভিক্ষুক সবারই কাছে খোঁজ নেন রায়ান সাহেব।
.
রায়ান সাহেবের এই এক গুণ, তিনি সবাইকেই মূল্যায়ন করেন, মানুষের অবস্থানের জন্য কখনো কাউকে ছোট হিসেবে দেখেন না, সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
তাই যখন কোনো কেইসে তদন্ত করেন তখন সেই জায়গার সকল শ্রেণির মানুষের জবানবন্দি অতি গুরুত্বের সাথে নেন, তাই তিনি আর সবার থেকে বেশি দ্রুত সব রহস্য উন্মোচন করেন আর বেশি সাফল্য পান!
.
রায়ান সাহেব সবার কথায় যা পেলেন এই ব্যাবসায়ীর সম্পর্কে তা হলো, তিনি একজন মদখোর, কাজের লোকেদের জুলুম করেন, দাপট নিয়ে চলেন, গুন্ডা ভাব আর সাথে টাকার কেরামতি দেখান!
তারমানে গিয়ে দাঁড়ালো তার চরিত্রে ভালোই দোষ আছে, হ্যাঁ তাতে থাকবেই, নইলে কেউ কাউকে ধর্ষণ করে?
তার সেল ফোনে তো স্বীকারোক্তির ভিডিও পাওয়া গেছে।
এব্যাপারে রায়ান সাহেব লোকটির স্ত্রীর কাছে তেমন কিছু পান নি। স্বামীর শোকে বিহ্ববল আরকি!
মান থাকলো কি আর সমাজে!
.
লোকটার পাড়ার পাশের বস্তিতে মানুষের সাথে কথা বলে খোঁজ লাগান তিনি। কাকে ধর্ষণ করেছে এটা জানা বড্ড জরুরি!
গরীব করিম চাচা তাকে বলবে না বলবে না করেও বলেই দিল এক সময়।
.
লোকটির বাড়িতে কাজ করত ঐ বস্তির এক বিধবা মহিলা, মহিলার ১৯ বছরের একটা মেয়ে আর ১৩ বছরের একটা ছেলে ছিল। মেয়েটি এক সময় পড়ালেখা করত কিন্তু ভাইয়ের পড়ালেখার জন্য সে তার পড়ালেখা বিসর্জন দেয়।
অসহায় বিধবা মহিলা এই চড়া দামের বাজারে ঠিক মত জোটাতে পারতেন না তাদের ভরণ-পোষণ।
এই বাড়ি থেকে ঐ বাড়ির কাজে ছুটতে হত তাকে।
এদিকে তার শরীর কুলাতো ও না, অসুস্থ হয়ে পড়তেন মাঝে সাঝে তিনি।
তখন তার হয়ে তার মেয়ে মায়া গিয়ে বাড়িতে কাজ করে দিয়ে আসত।
.
মহিলাটির মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু দারিদ্রতা তাকে হারিয়ে দিয়েছিল অনেক আগেই!
এদিকে বস্তিতে থাকা ১৯ বছরের একটা জোয়ান মেয়েকে বেশ বিপত্তির সাথে চলতে হয়, তাও তো মায়ার বাপও নেই। তাই তাকে আরো বিশ্রী অবস্থায় পড়তে হত।
আসে-পাশের হায়নারা ওঁত পেতে থাকত সব সময়, আবার লম্পট গুলো তাকে বিছানায় যেতে ও বলত তার অসহায়ত্বের সুযোগে এই বলে যে তাকে টাকা দিবে!
মায়া নিতান্তই সৎ আর খুব ভদ্র মেয়ে ছিল, বস্তির কোনো খারাপ প্রভাব সে তার উপর পড়তে দিত না, নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখত সব সময়। না খেয়ে থাকলেও কখনো কারো কাছে দুটা ডাল-ভাত চায়নি!
তার মায়ের কাছে আবার প্রস্তাব ও আসত মায়ার বিয়ের জন্য, মায়ার মা ও এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তিত ছিলেন।
কারণ এদেশে খুব কম মেয়েরই টাকার চিন্তা ছাড়াই বিয়ে হয়, তাও আবার এমন গরীব এতিমদের!
তাই টাকার অঙ্কে তিনি আতংকিত থাকতেন সব সময়।
তবুও খেয়ে না খেয়ে তিনি মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
৩ বছর ধরে মহিলা কোনো জামা বা শাড়ি কিনতে পারেন নি, বাসা বাড়ির মালকিনরা ছেঁড়া ফাটা যা দিত তাই দিয়েই কোনো মতে দেহ লুকিয়ে রাখতেন।
মেয়েকে বুঝতে দেননি কখনো যে তার বিয়ের প্রস্তুতির জন্যই একটা নতুন শাড়ি কিনতে পাচ্ছেন না!
অসুখে পড়লে তিনি ভাতই পেতেন না কাজে না যাওয়ার জন্য, সেখানে ঔষধ তো বিলাসিতা!
তাও তিনি এভাবে মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতির প্রায় শেষ পর্যায়ে আসলেন।
অনেক কষ্টে তিনি মেয়ের জন্য একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল আর ত্রিশ হাজার টাকা জমা করেন। এ দিয়ে যাতে বিয়েটা পার করতে পারেন।
.
এছাড়া তার স্বামীর দেয়া একটা বালা ছিল, যা অতি কঠিন পরিস্থিতিতে ও তিনি বিক্রি করেননি, কারণ এটাই তার স্বামীর শেষ স্মৃতি।
একবার মহিলাটা কাজ করতে গিয়ে পায়ে গরম তেল পড়ে যায়, যা থেকে ইনফেকশন ও হয়ে যায় টাকার অভাবে আর ঔষধের অভাবে।
নারকীয় যন্ত্রণায় তিনি খুঁড়িয়ে দিন পাড় করেছিলেন তখন তবুও বালাটা বিক্রি করেন নি।
তাও তিনি ভাবলেন এটা তার মেয়ের বিয়েতে দিবেন যদি মেয়েটার একটু সুখ আসে!
.
মাঝে মধ্যেই তার অসুস্থতায় তার মেয়ে মায়া গিয়ে কাজ করে বলে মালকিনরা তেমন কিছু একটা বলেন না।
তবে মায়ার মা তাকে বাসা বাড়ির কাজে যেতে দিতে চাইত না কারণ সেই সব বাড়ির পুরুষের দৃষ্টি খুবই বিশ্রী আর ভয়াবহ, নারী লোভী তারা। কুদৃষ্টি তো দেয়ই, সাথে কুকাজের ও অাশঙ্কা থাকে। তাই যেতে দিতে চাইত না।
কিন্তু খুব অসুস্থতায় পেট চালানোর জন্য যেতে দিতে বাধ্য হত।
এমনি এক অসুস্থতায় তিনি তার মেয়েকে কাজে পাঠায় ঐ লোকের বাড়ি।
লোকটি মদখোর হওয়ার সাথে অনান্য খারাপ কাজেও বেশ পারদর্শী ছিলেন।
মেয়েটা যখনই তাদের বাসায় যেত তখন কু-নজর দেয়ার সাথে তাকে হুটহাট ছুঁয়েও দিত। বাজে ইঙ্গিত দিত।
মায়ার ভীষণই রাগ হত কিন্তু কিছু বলতে পারত না।
সে তার মাকে বলত ঐ বাসায় কাজ না করার জন্য।
কিন্তু তার মায়ের শুধু দুটো বাড়িতেই কাজ ছিল। একটা ঐ লোকের বাড়ি, আরেকটা অন্য। দুটো বাসায় কাজ করেও ভালো করে তাদের দিন চলত না, আর ওটা ছেড়ে দিলে বাঁচবে কি করে সেই ভেবেই তার মা ছাড়তে পারেনি, কারণ অনেক খুঁজেও পান নি অন্য কোথাও কাজ!
.
মায়া ও তার মাকে বেশি বাড়া বাড়ির কথা বলত না, কারণ তার মা অসুস্থ, এসব বললে আরো অবনতি ঘটবে এই ভেবে।
কিন্তু মায়ার মা একদিন তার মালকিন মানে ঐ লোকটার স্ত্রীকে আকার ইঙ্গিতে বলে তার স্বামীর কথা।
মালকিন কোথায় তার স্বামীকে সাবধান করবে, তা না করে উল্টো মহিলাটিকে দোষারোপ করে এবং বলে ভালো করে ঢেকে-ঢুকে কাজ করতে।
.
মায়া একদিন তাদের বাসায় যায় কাজে।
সেদিন মালকিন একটা পার্টিতে যাচ্ছিল বলে মায়া বলেছিল সকালে এসে বাকি কাজ করে দিবে,কিন্তু মালকিন রাজি হয় নি। বলেছিলেন কাজ সম্পূর্ণ করে তবে বাসায় যেতে। মায়া নিরুপায় হয়ে থেকে যায়।
এসময় আবার তার স্বামী বলেন তার শরীর নাকি ভালো ঠেকছে না, সে বাসাতেই থাকবে।
এ কথা শুনে মায়ার কলিজা শুকিয়ে যায়। সে বাসায় ফিরতে চায় কিন্তু উপায় তো নেই। মালকিন কে ইঙ্গিত দেয় কিন্তু সে সেটা আমলে নেন না, কারণ পার্টি তার কাছে মেইন।
আর তাছাড়াও মায়া যদি চলে যায় তাহলে তার স্বামীকে কেই বা দেখবে।
এই বলে বাচ্চাকে নিয়ে সে পার্টিতে চলে যায়।
মায়া রান্না ঘরের দরজা বন্ধ করে কাজ করে ভয়ে। কিন্তু ঘর মুছতে বাইরে বের হয়েই দেখে দানব মালিক দাড়িয়ে আছে তাকে গিলে খাবার জন্য।
এক সময় তিনি মায়ার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, মায়া হাজারও কাকুতিমিনতি করেও পার পায়নি সেদিন।
শুধু ধর্ষণই করে নি দানব টা, খুব বিশ্রী ভাবে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল।
মায়ার অবস্থা যখন আশংকা জনক হয়, তখন তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় বস্তির রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দেয়।
মায়ার মা এমন মেয়েকে নিয়ে অকূল পাথারে পড়ে যান, তাকে কেউ ই সাহায্য করে নি মেয়েটিকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য।
মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়া মেয়েকে নিয়ে পাগলের মত ছুটাছুটি করে তিনি হাসপাতালে।
মায়ার বিয়ের জন্য যেসব করেছিল সব ই বিক্রি করে দিতে হয় চিকিৎসার জন্য।
তাদের মালকিনকে জানানো হয় কিন্তু টাকি দিয়ে আর সবার মুখ ধামা চাপা দেয় তারা।
কেউ তাদের বিরুদ্ধে যায় নি অথচ সবারই জানা কথা।
টাকার জন্য শেষ মেষ তিনি তার বালাটিও বিক্রি করে দেন!
যেটি কঠিনতম পরিস্থিতিতে ও তিনি বিক্রি করেন নি!
.
কি নির্মমতার স্বীকার হয়েছিল তারা!
মেয়ে যখন একটু সুস্থ হল, বস্তিতে এল, তখন আবার মহা বিপত্তি বাঁধল, তার মেয়ে ধর্ষিতা, তার মেয়ে নোংরা ইত্যাদি ইত্যাদি।
সবাই যেন আরো জেঁকে বসল, সুযোগ আরো পেয়ে গেল তাদের বিরক্ত করার জন্য।
সবাই কে তিনি কড়া জবাব দেয়ায় তাদের সবাই হুমকি দেয়া শুরু করল তাদের বস্তি ছাড়া করবে।
এদিকে মায়া চাচ্ছিল তার বিচারের জন্য কিন্তু তার এমন চাওয়া সবার কাছে জোকস মনে হয়েছিলো তাই সবাই খুব হেসেছিল!
গরীবের ভাত জোটে না আবার মান-সম্মান!
মায়ার দিনগুলো খুব অসহনীয় হয়ে গেছিল। এদিকে মায়ার মাকে হুমকি দিয়েছিল ঐ ধর্ষক মালিক, মুখ খুললে এবার তার ছেলে শুদ্ধো মেরে দিবে!
মহিলার একে কোনো টাকা, সহায় সম্বল,সম্মান সব খুঁইয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছিল। খাবার, ঔষধ কিছুই জোটতে পারছিল না। এ অবস্থায় মেয়েকে একা রেখে কাজের সন্ধানে বেরতেও পারছিল না।
উপরন্তু সবার এমন অত্যাচার!
এসবে কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন মহিলাটি খাবারে বিষ মিশিয়ে মেয়ে ছেলে কে খুব আদর করে, যত্নের সাথে খাইয়ে দেয়, তিনজন একসাথে খায়!
বাচ্চারা জানত না খাবারে বিষ ছিল।
বিষের তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনটা প্রাণ বিষে নীল হয়ে গেছিল সেদিন!
মায়ের বিষের যতটা না কষ্ট হচ্ছিল, তার থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছিল তার নাড়ী ছেঁড়া ধণদের এভাবে মরতে দেখে!
কি ভীষণ নির্মমতার সাথে সেদিন তিনটি প্রাণ শেষ হয়েছিল!
সমাজ সেদিন চুপ করে ছিল, কারোর কিছু বলার ছিলনা!
আমাদের সমাজ তো এমনই, দানব আর হায়না!
.
রায়ান সাহেব তাদের এমন করুণ মৃত্যুর কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। কিন্তু রহস্য যে আরো গাঢ় হয়ে গেল!
যদি ঐ ধর্ষণের বিচারেই যদি ঐ লোকটার এমন শাস্তি হয় তবে কে দিল এমন শাস্তি?
কারণ মহিলার তিন কূলে কেউ ছিল না,মাটি দেয়ার মত ও কেউ ছিলনা।
তবে কে তাদের হয়ে প্রতিশোধ টা নিল?
.
.

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close