রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

প্রত্যাশিত নারী (পর্ব- ৩)

ততক্ষণে ঘটে গেছে আরেক ঘটনা। এলাকার এক মুরুব্বীর মুখে কে যেন গরম তেল ঢেলে পালিয়েছে।
চোখ মুখ নয়, শুধুমাত্র জিহ্বার ক্ষতি হয়েছে।
রায়ান সাহেব এবার বেশ বিরক্ত হয়ে যান। একে তো কোনো ক্লু পাচ্ছেন না তারওপর সব ভিক্টিমদের এমন অবস্থা কেউ বয়ান দিতে পারছে না।
এইই মুরুব্বী আবার কি করল যে পুরো শরীর বাদ দিয়ে শুধু মুখেই গরম তেল ঢালল?
.
রায়ান সাহেব এখন ঠিক কোন কেইসে হাত দিবেন বুঝতে পারছেন না। জাস্ট মাথা খারাপ হয়ে গেছে তার। হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না।
এত গুলো কেইসের কোনটা আগে ধরবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না।
তাই তিনি আগে মুরুব্বীর টাই শুরু করলেন কারণ তিনি আর সবার থেকে একটু সুস্থ।
তাকেও রাস্তায়, ফাঁকা মোড়ে তেল টা দেয়া হয়েছে।
কি অপরাধ তা জানার জন্য মুরুব্বীর কাছে যায় এবং গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে তিনি কোনো খারাপ কাজ করেছেন কি না।
উত্তরে তিনি কাগজে লিখে দেয়, না। তিনি কোনো খারাপ কাজ, ধর্ষণ ইত্যাদি করেন নি।
তবে যে তেল ছুঁড়েছে সে বাইকে ছিল।
রায়ান সাহেবের চিন্তা আরো বেড়ে গেল তবে কি এবার নিরাপরাধ রা শাস্তি পাচ্ছে?
ব্যাপারটা বেশ ঘোলাটো হয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে গেলে এক তরুণের নিকট জানতে পায়, ঐ সময় মোড়ের মাথা থেকে একজন বাইকার কে দেখেছে যেতে। বেশ বড়-সর একটা বাইকে একজন জিন্স আর জ্যাকেট পরা কাউকে দেখেছে। বাইকার কালো হেলমেট পরায় তার চোখ ও দেখতে পায় নি সে।
তবে ঘটনা কি?
একজন বাইকার তাহলে এত কি করছে?
না না, ভীড়ের মধ্যে রিক্সা ওয়ালার সাথে কেউ এমন বিবরণের বাইকারের কথা বলেন নি!
.
উপর মহল থেকে চাপ আসায় তিনি প্রিন্সের কেইস নিয়ে আগে ঘাটতে বাধ্য হন। সরকারের লোক বলে কথা!
তবে প্রিন্সও যে অপরাধী ছিল সে বিষয়ে আর কারো সন্দেহ থাকে না।
হোটেলের সেই পিচ্চি ছেলের কথা তার বারংবার মনে পড়ে। প্রিন্স কাউকে মেরে ফেলেছিল।
রায়ান সাহেবের ধারণা, সেই ভিক্টিমেরর পরিবারের কেউ হয়ত প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এমনটা করেছে।
তাই সে রহমত স্যারের খোঁজে লেগে পড়েন।
.
“মেয়েরা তাদের ড্রেস আপের জন্যই তো ধর্ষিত হয়, নির্যাতিত হয়। তারা কেন বাইরে বেরবে?
তাদের উচিত সব সময় বাসায় বসে থাকা।
আচ্ছা মানলাম এসবই ঠিক উচিত, তাহলে এবার বলুন ছেলেরা কেন হুট করে নির্যাতিত হচ্ছে। আমার মনে হয় তাদেরও ড্রেস আপ ঠিক ছিল না, আর প্রথম বার যখন পুরুষের এসিড দেয়ার খবর পেল মানুষেরা, তখন কেন ঘর থেকে বের হলো তারা, তখন তারা মেয়েদের মত ঘরে থাকতে পারল না? তাহলেই তো এমন নিউজ আর শুনতে হত না।”
এই স্টাটাসের একটা আইডি হঠাৎ ভাইরাল হয়ে গেল।
আইডি টার নাম মাইশা জান্নাত।
দশ হাজার শেয়ার হয়েছে পোস্ট টা। আসলেই তো, কথা কি ভুল আছে?
ঠিকই তো, মেয়েদের ক্ষেত্রে যদি বাইরে বের হলে নির্যাতিত হতে হয়, তবে সেটা পুরুষের ক্ষেত্রে কেন নয়?
মেয়েটার আইডি ঘেটে আরো একটি স্টাটাস পেল রায়ান, ‘দুদিনে কয়েকটা পুরুষের সামান্য দুদর্শা দেখেই আপনারা সবাই এত আতংকিত হয়ে গেছেন, তাহলে ভেবে দেখুন যারা সারা বছর ধরে ধর্ষিত,লাঞ্ছিত হচ্ছে তারা কতটা আতংকে থাকে প্রতিটা মুহুর্তে!’
আরো একটি, ‘তোমরা পুরুষ, গায়ের জোর দিয়ে কেড়ে নাও আমার লজ্জা, তবে আজ কেন সেই গায়ের জোর দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারছো না? নাকি তোমাদের গায়ের জোর শুধুমাত্র দুর্বলদের উপর জুলুমের জন্য সৃষ্টি হয়েছে?’
রায়ান সাহেব ভাবছে এত প্রতিবাদী যদি সবাই ফেসবুকে না হয়ে বাস্তব জীবনে হত তাহলে তো এমনটা অবস্থা হত না দেশের।
.
অনেক খোঁজার পর পেয়ে যায় সেই রহমত স্যারকে যার মেয়ে রাইশা জান্নাতকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
কথা প্রসঙ্গক্রমে রায়ান সাহেব জানতে পারেন সেই ভাইরাল হওয়া স্টাটাসের মেয়ে মাইশা জান্নাত রহমত স্যারের ছোট মেয়ে।
স্যারের সাথে তার বড় মেয়ের খুনের ব্যাপারে বলতে গেলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেন এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে বা শুনতে চান না।
তাদের কথোপকথন শুনে মাইশা বেরিয়ে আসে এবং একটু রূঢ় গলায় বলে, “এসব শুনে কি মজা নিতে এসেছেন? যদি তাই হয় তাহলে প্লিজ অন্য খানে যান, দয়া করে আমাদের আর বিরক্ত করবেন না স্যার।”
কথাগুলো বলতেই রহমত স্যার বেশ রেগে গিয়ে মাইশা কে ভেতরে যেতে বলেন।
মাইশা ভেতরে যেতে চাইলে অনেক অনুনয় বিননয় করে রায়ান সাহেব বললেন তার মেয়ের সাথে কথা বলতে চান।
রহমত স্যার স্রেফ না করে দিলেন।
তখন বাধ্য হয়েই রায়ান সাহেব বললেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আপনারা বাধ্য কথা বলতে।
রহমত স্যার বললেন, “হ্যাঁ, আমাদের চাইলে আপনারা মারতেও পারেন, আমরা সবই জানি।”
মাইশা বলে, “দেখুন আমরা একটু বাঁচতে চাই, আর আমিও চাই না আপুর মত লাঞ্ছিত মৃত্যু। আপনি যদি দয়া করে আমাদের ছাড়তে তাহলে আমরা কৃতার্থ থাকতাম।”
এর উত্তরে রায়ান সাহেব তাকে অভয় দিয়ে বলে, “তুমি আমার ছোট বোনের মত, আর একজন ভাই চাইবে না কখনো তার বোন বিপদে পড়ুক, কেইসের স্বার্থে তুমি যদি তোমার এই বড় ভাইকে সাহায্য করতে তাহলে তোমার এই ভাইয়া তোমার ওপর কৃতার্থ থাকত।”
বড় ভাই নেই বলে মাইশা একটু আবেগে পড়ে যায়, কেউ প্রথমবার তাকে ভাই হিসেবে মানতে বলছে।তাও সে বলতে চাচ্ছে না কোনো কথা। কারণ সে চায় না তাকে হারিয়ে তার বাবা মা মরে যাক।
এমনিই তাদের যা ঝড় গেছে তা প্রতিরাতে দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে।
এক পর্যায়ে রায়ান সাহেব বলেন, “মাইশা জান্নাত ভাইরাল হয়ে যাওয়া আইডি টা তোমার না?”
চমকে যায় সে কারণ তার বাবার কড়া নিষেধ এসবে হাত দেয়ার।
রেগে গিয়ে রহমত স্যার বলেন, “মাইশা তুমি আবার ফেসবুকে হাত দিয়েছ?”
মাইশা মাথা নিঁচু করে সম্মতি জানাতেই ঠাস করে একটা চড় দিয়ে চোখের জল ফেলে ভেতরে চলে যান।
এমন পরিস্থিতির জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না রায়ান সাহেব।
মেয়েটি নিঁচু হয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলে।
তার মা এসে বলে, “এখন কি তোরও মরার শখ হয়েছে মুখপুড়ি? তুই মরে গেলে আমরা কি নিয়ে বাঁচব? হাজার মানা স্বত্বেও তুই আবার ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছিস! এক কাজ কর, আমাদের বিষ দিয়ে মেরে ফেল,যাতে দ্বিতীয় বার তোর ওমন মৃত্যু যেন দেখতে না হয়!”
এই বলেই মুখে শাড়ির আঁচল গুঁজে ভেতরে চলে যায়।
কিছুক্ষণ নিরব থেকে রায়ান সাহেব মাইশা কে বলল, “আপু, ওনারা এমন রিয়্যাক্ট কেন করল?”

কেন মজা পান নি?
আপনারা সমাজের মানুষ আর পারেনই বা কি?
শুধু তো পারেন অসহায়দের সাথে মজা নিতে(রাগে চিল্লিয়ে মাইশা কথা গুলো বলে উঠে)
রায়ান সাহেব উঠে মাইশার মাথায় হাত দিয়ে বলে

আমাকে একবার বড় ভাইয়া মনে করে বলেই দেখ না, একবার বিশ্বাস কর। তোমার ভাইটা টা যে খুব বিপাকে পড়েছে, এখন তুমি যদি না বল কিছু আমি জানব কোথা থেকে?

জানেন এই প্রথমবার কেউ আমাকে ভাইয়া বলতে বলল। আমার না কোনো ভাই নেই। থাকলে হয়ত ঐ দানবগুলোর থেকে আমাদের বাঁচাতে পারত।
কি শুনতে চান বলুন(কান্না থামিয়ে)
-তোমার আপুর সাথে যা হয়েছে এবং কেন হয়েছে, কারা করেছে সবটা বল।

আপুর নাম রাইশা জান্নাত। আমরা আগে প্রিন্সদের পাড়ায় ছিলাম, প্রিন্স বাজে বখাটে ছেলে। সব সময় মেয়েদের উত্যাক্ত করত। খুব অশ্লীলতা বজায় রাখত তার ব্যাবহারে। সাথে তার বন্ধুদের রাখত। তার বাবা কাউন্সিলর এজন্য পার পেয়ে যেত সব সময়। কেউ তাদের বিরুদ্ধে বলে না কখনো। পাড়ার আর সব মুরব্বী ব্যাক্তিরা তার চাটুকারিতা করত, যার জন্য সে আরো বেশি আশকারা পেয়ে যায়। আমার বাবা সেই এলাকার স্কুল শিক্ষক ছিলেন। আমরা দুইবোন ঐ স্কুলেই পড়তাম। যাওয়া আসা বাবার সাথেই করতাম বলে বেঁচে থাকতাম সেই সময়। কিন্তু আর সব ছাত্রীর তো আর গার্ডিয়ান নিয়ে আসা সম্ভব হত না। তাই একা পেয়ে খুব বাজে ব্যবহার করত তাদের সাথে। অনেকেই বাদ দিয়েছিল স্কুল। আর যারা নিয়মিত আসত তারা স্কুল কতৃপক্ষকে জানালেও তারা মাথা ঘামায়নি কারণ ঐ এলাকার কাউন্সিলর ছিল প্রিন্সের বাবা।
কিন্তু আমার বাবার তা সহ্য হয়নি, আর ছাত্রীরা ও তার কাছে তার মেয়েদের মত ছিল। তাই তিনি এর প্রতিবাদ করেন। ভালো করে প্রিন্সদের বাবা সোনা বলে বুঝায় কিন্তু তারা বাবাকে বলেন ওদের ব্যাপারে নাক না গলাতে।
আপু স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়। বেশ ভালো যাচ্ছিল আমাদের দিন। আপু ইন্টার প্রথম বর্ষ পেরোনোর পর থেকেই তাকে ও বিরক্ত শুরু করে কারণ সে একা কলেজে যেত। তার বান্ধবি সহ যখন যেত আসত তখন একদিন ভালোকরে আপু বলেছিল ভাইয়া আমরা আপনার ছোট বোনের মত। আপনি যদি এমন করেন তবে বাকি এলাকার ছেলেরা কেমন ব্যবহার করবে। এই কথার পর তারা ভালো না হয়ে উল্টো আরো বিগড়ে যায়। বলে তোর মত নেত্রীই তো লাগবে আমার।
আপু রেগে ওখান থেকে চলে আসে। তার কলেজে বলে কিন্তু তারা কোনো আমলেই নেন নি।আপু দ্বিতীয় বর্ষে খুব বেশি পড়ালেখা করত, কারণ তার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে ছিল, যার কারণে ভালো রেজাল্টের নেশা তাকে তাড়িয়ে বেড়াত।
একদিন আবারও বাজে ইভটিজিং এর স্বীকার হয় আপু। সে এর প্রতিবাদ করে ফেসবুকে একটা স্টাটাস দেয়।
পরের দিন হুমকি দেয় প্রিন্স যাতে সে বাড়াবাড়ি না করে। আপু বলে প্রয়োজনে পুলিশে যাবে। সেদিনই আপু বাবাকে নিয়ে যায় ইভটিজিং এর জিডি করতে কিন্তু পুলিশরা কোনো জিডি করতে রাজি হয় না,তারা বলেন কাউন্সিলরের সাথে মিমাংশা করতে।
বাবা কাউন্সিলরের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন ছেলেরা এই বয়সে এমন একটু করে।
এবং এ বিষয় নিয়ে বেশি ঘাটতে মানা করেন। কিন্তু আপু তার সেই স্টাটাস ডিলিট করে নি আর তাই আপুকে প্রিন্সের বন্ধুরা তুলে নিয়ে যায়। আপুকে খুঁজে না পাওয়া গেলে বাবা আবার থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশরা মশকরা করে বলে আপু নাকি ছেলে নিয়ে পালিয়ে গেছে। আর দুদিন যাক তারপর তারা জিডি লিখবে। বাবা প্রচন্ড রেগে যান। শুধুমাত্র কাউন্সিলরের ছেলে জন্য তার বিরুদ্ধে জিডি নেয়া যাবে না!
তবে পুলিশরা বলে তারা খুঁজে দেখবে।
আমরা দিনরাত সবাই আপুকে খুঁজতে লাগলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না। আপুর বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করলে তারা কিছু জানেনা বলে জানায়।
দুদিন পর এলাকার ঝোপের ঝারে আপুর বিবস্ত্র ক্ষত বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। দুদিন ধরে গণধর্ষণ করার পর তাকে হত্যা করা হয়।যে আপু আমার ডাক্তার হতে চেয়েছিল, তাকেই লাশ হয়ে মর্গে যেতে হয়েছিল। আপুর এত ভালো রেজাল্ট, এত কষ্ট সব শেষ হয়ে গেছিল, কষ্ট লাঞ্ছনায় আমাদের মূর্ছা যেতে হয়েছিল। সবাই জানত এমনটা কে করেছে কিন্তু কেউ একটুও টু শব্দটুকুও করে নি। আমার বাবা ভিক্ষুকের মত সবার কাছে হাত পেতেছিল যাতে প্রিন্সের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়, কিন্তু কেউ দেয়নি। আপুর সেই বেঈমান বান্ধবীরাও না! জেলে গেলে পুলিশরা বলে ওর বয়ফ্রেন্ড হয়ত এমন করেছে। মেয়েটা নামে এমন কথা শুনতে না পেরে বাবা ঐ অফিসারকে চড় দেয়। পরে আমাদের পরিবার সহ আমাদের ঐ এলাকা থেকে বের করে দেয়, আপুর বিচার তো করেই নি উল্টো আমাকে নিয়ে শাঁশিয়েছে।
জীবনে প্রথমবার সেদিন বাবা-মা অাফসোস করেছিল আজ যদি তাদের বড় একটা ছেলে থাকত তাহলে এমন হত না হয়ত।
শুধুমাত্র একটা ফেসবুক স্টাটাস কাল হয়ে দাড়িয়েছিল আমাদের উপর। অবশ্য এসব ব্যাপার না। ফেসবুকে স্টাটাস দিলেও এদেশের মানুষ দের মরতে হয় সেটাও বা নতুন কি!
অনেকেই জানেন, মুখ বুঝে থাকেন!
তারপর থেকে বাবা দুবার স্ট্রোক করেন। আমি বন্ধ করেছিলাম সামাজিক সব যোগাযোগ।
কিন্তু এত দিন পর এত ভালো খবর পেয়ে আমি আর বসে থাকতে পারিনি। স্টাটাস দিয়েছি। আমার বিশ্বাস এবার যদি আমার সাথে এমনটা ঘটে তবে আমি আইনের কাছে, সমাজেরর কাছে বিচার না পেলেও যে এই কাজ গুলো করছে সে হয়ত আমার শোধ টা নিবে।
জানেন ভাইয়া আপু আমাকে সব সময় সব বিষয়ে সাহায্য করত, এখন আমি দিনরাতের কোনো তফাৎ বুঝতে পারিনা। আমি যে বেঁচে আছি সেটা অনুভব করতে পারি না। সব সময় আপুর চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে। জানেন আমি রোজ আপুর বই খাতা ছুঁয়ে কাঁদি। আমি আর পড়াশুনা করতে পারি না…
এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে কাঁদতে থাকে মাইশা।
তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে রায়ান সাহেব কথা বলতে গেলে বুঝতে পারে তার গলাটা ধরে গেছে আর চোখের কোণে পানি চলে এসেছে।
রায়ান সাহেব আর কিছু না বলে মাইশার মাথায় হাত দিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিয়ে ওখান থেকে চলে যায়।
ভাতৃস্নেহ পেয়ে মাইশা আপ্লুত হয়ে ভাবে এবার যদি বিচারটা পেতাম!
.

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close