নন ফিকশন

প্রত্যাশিত নারী (পর্ব- ১)

পুরুষাঙ্গে এসিড!
তাও আবার দিনের বেলায় খোলা রাস্তায়!
এ কি করে সম্ভব!
মেয়ে হলে তাও মানা যেত কিন্তু ছেলেদের গায়ে এসিড তাও আবার এমন সেনসিটিভ পার্টে!
.
রাস্তায় পুরো মানুষ জরো হয়ে জ্যাম লেগে যায়। কে করল এই কাজ আর কেনই বা করল?
সে মানুষ নাকি আরো কিছু? এমন কাজ কেউ করে !
সবার মনে প্রশ্ন সামান্য রিক্সা চালকের সাথে এই নির্মম কাজটি করল কে? এই খেটে খাওয়া মানুষের সাথে এমন করতে একটুও খারাপ লাগলো না তার?
.
রায়ান আহমেদ এর কোনো আগা গোড়া বুঝতে পারেনা। তার ড্রাইভারের কাছে এমন কথা শুনে রিতিমত চমকে উঠলেন।
.
রায়ান সাহেব উচ্চ শ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তা। সবেমাত্র বিসিএস দিয়ে জয়েন করেছে। কিন্তু সে খুবই বুদ্ধিমান, চালাক, চতুর। স্টুডেন্ট থাকাতেও বহু কেইস সলভ করেছে। তার সৃজনশীলতা আর মেধা দেখে প্রশংসা পেয়েছে সর্বত্র সেটা স্কুল পর্যায় থেকেই।
লম্বাটে, চওড়া,বেশ ঘন চুল এবং ফর্সা রং মিলিয়ে যে কারোরই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে তাকে দেখা মাত্র,তিনি এতই সুদর্শন!
কিন্তু সে এমন খবর আজ পর্যন্ত কখনো শুনে নাই যেখানে পুরুষ নির্যাতিত!
বাংলাদেশে মেয়েদের নির্যাতন ই মানায়। ছেলেদের কেন নির্যাতিত হতে হবে? এমনই একখানা মনোভাব সবার এই নিউজ পাবলিশের পর থেকে।
কেসের হদিসের কূল-কিনারা না পেতেই পাওয়া গেল আরেকটি খবর।
কোনো এক অনার্স পড়ুয়া ছেলের দুচোখে সূঁচ ভরানো সাথে মূত্রাশয় এবং পুরুষাঙ্গে বেশ গভীর ক্ষত। কেটে ফেলার উপক্রম।
আবারও রিতিমত ধাক্কা খায় রায়ান। বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে প্রতিদিনই ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় সেখানে পুরুষের খরব কেন আসছে?
আর কেই বা করছে এসব?
অপরাধী কি একজন না ভিন্ন?
এসব ঘটনার দুদিন না পেরুতেই ৪৩ বছর বয়সী এক পুরুষের নগ্ন দেহ রাস্তার ডাস্টবিনের পাশে পাওয়া যায় ভোর সকালে। তার গালে সিগারেট দিয়ে পোড়ানো, ঠোঁটের অবস্থা এতই করুন যেন মনে হচ্ছে কুকুরে কামড়ে দিয়েছে। তার বুকের মধ্যে অজস্র আঁচড়, স্তনবৃন্ত প্রায় উচ্ছেদ, তলপেটে ভারি জিনিস দিয়ে মারার মত কালচে দাগ, এক চোখে মরিচের সস আর অন্য চোখে কিল-ঘুষির দাগ। তারও পুরুষাঙ্গের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ, মনে হচ্ছে প্রসাবের রাস্তায় মোটা কিছু ঢোকানো হয়েছিল, তাই পুরুষাঙ্গের প্রাচীর ফেটে যাবার উপক্রম!
ঠিক যেমন মেয়েদের ধর্ষণের পর যে অবস্থা হয়, এটাও তেমন মনে হচ্ছে। তবে কি এটা পুরুষ ধর্ষণ?
এসব ভাবতেই আঁতকে ওঠে মি. রায়ান!
পুরুষের খুব বড়জোর লাশ পাওয়া যায় গলাকাটা, কিন্তু পুরুষের ধর্ষণ তো কেউ জীবনে কল্পনাও করে নি, শুনা তো দূরের কথা!
.
কি হচ্ছে এসব ভেবে টেনশনে পড়ে যায় রায়ান। পরপর এমন উদ্ভট কেইস দেখে।
.
নারী নির্যাতিত দেশে পুরুষ নির্যাতন দেখে ক্ষেপে যায় জনগণ। ঐ পুরুষ গুলোও তো কারো বাপ-ভাই-ছেলে।
যে এমন করছে তার কি বাসায় বাপ-ভাই নেই?
একবারও বাঁধছে না এসব করতে?
.
পরদিন রাত ২.৪২ মিনিটে পুলিশ স্টেশনে কল আসে নাসিমা বেগমের। তার স্বামীর অবস্থা করুন। কে বা কারা যেন এসে তার স্বামীর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে চুল তুলে ফেলে রক্তাক্ত করেছে, মনে হচ্ছে যেন খুলি টা খুলে যাবে এক্ষুণি। মুখে লালা ঝড়ছে অনবরত। গায়ে বেল্টের অজস্র বাড়ি। চোখে-মুখে গরম তেলের ছিটায় ফোসকা এবং বুকের মধ্যে সিগারেটের পোড়ানো ক্ষত, হাত পা প্রায় ভাঙ্গা। একটা পা ভেঙ্গে মাথার উপরে উঠানো।
.
কনস্টেবল এর ফোনে রায়ান সাহেব দ্রুত রেডি হয়ে থানায় যায় এবং এ্যাম্বুলেন্স সহ ঐ ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে সে বাড়ির কর্তাকে বেহাল দশায় উদ্ধার করেন।
তার স্ত্রীর আহাজারিতে কেঁপে উঠছে পুরো বাড়ি।
.
ঘটনার বিবরণ শুনতে চান নাসিমা বেগমের কাছে কিন্তু বিরবণ দিতে অপরাগ হন তিনি। কারণ মাত্রই তার ঘুম ভেঙ্গেছে স্বামীর গোঙানোর আওয়াজে। স্বামীর সাথে যখন শুতে যায় তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু মাঝরাতে উঠে দেখে তার রুম লন্ড ভন্ড আর রক্তের ছিটা।
এর চেয়ে বেশি কিছু আর বলতে পারে না তিনি।
.
চিন্তায় পড়ে যায় রায়ান সাহেব। কে এই দুষ্কৃতি গুলো করছে? দিনব্যাপী যেন অত্যাচার এর উৎসব লেগেছে। কিন্তু মেয়ে না শুধু ছেলে বা পুরুষের।
একটা দিন ও শান্তুিমত ভাবার অবকাশ পাচ্ছে না মি. রায়ান। কারণ এক কেইস স্টাডি নিয়ে বসলেই সাথে সাথে অন্য কেইসের খবর আসছে। না পারছে এগুলোর রহস্য উন্মোচন করতে আর না পাচ্ছে সেগুলো দমাতে।
কি করবে আগে তা তিনি বুঝতেই পারছে না।
ঘটনা গুলো থামার জন্য তো আগে জানতে হবে কে বা কারা করছে এসব, নইলে পদক্ষেপ টা নিবে কি করে?
.
তারপর একদিন পার হয়ে যায়। এ মধ্যে তিনি কেস স্টাডিতে বসেন নি, আগের ভিক্টিমদের জন্য এক হসপিটাল থেকে অন্য হসপিটাল দৌড়ে বেরিয়েছে ভিক্টিমদের বয়ান শোনার জন্য।
কিন্তু আশ্চর্য জনক ভাবে কেউই বলার মত বা লিখার মত পরিস্থিতিতে নেই।
সবার লিখার হাত, আঙুল ভেঙ্গে দেয়া, মুখ কথা বলার অবস্থায় নেই, কি যেন করেছে সব মুখে যার কারণে হুঁশও ফেরেনি তাদের আর যার ফিরেছে সে কথা বলতে পারছে না।
.
কিন্তু আশার কথা হলো, এ পর্যন্ত কেউই মারা যায় নি। জাস্ট খুব বাজে ভাবে নির্যাতিত হয়েছে।
.
মি. রায়ান ভাবতে থাকে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে চিন্তা করে সবার আঘাতের ধরণ, ভিক্টিমের বয়স আলাদা আলাদা হলেও সবারই প্রায় বলার এবং লিখার জন্য অপরাগতা সৃষ্টি হয়েছে হোক সেটা ভিন্ন কারণে। তার মানে একটা কেইসের সাথে অন্যটা রিলেটেবল। কিন্তু যায়গাও ভিন্ন ভিন্ন।
তাও সে সিওর হয় কালপ্রিট হয়ত একজন অথবা ভিন্ন হলেও একে অপরকে চেনে।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পাচ্ছে না সে কারণ পুরুষের এমন অবস্থা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই হয়েছে।
কালপ্রিটের সামান্য ক্লু ধরতে পেরে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই সেই থানার কাউন্সিলরের ফোন আসে।
তিনি জানায় তার ছেলে সহ ছেলের কিছু বন্ধু দুদিন ধরে নিখোঁজ। এবং এতে তিনি ভীষণভাবে আতংকিত কারণ চারপাশে পুরুষের করুণ অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়েছে!
তাহলে ঘটনাটা আসলে কি?
কে ঘটাচ্ছে এমন নিচ কাজ গুলো?
ভাবতে থাকে রায়ান সহ বাকি কর্মকর্তা…
.

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close