প্রিয় ব্যাক্তিত্ব / জীবনীবিনোদন

পঞ্চমবর্ষে টোয়াইস(Twice)

পঞ্চমবর্ষেটোয়াইস(Twice)

শোবিজ জগৎ বা কেপপ নিয়ে যাদের আগ্রহ প্রচুর এবং অবসরে ইউটিউবে পছন্দের মিউসিশিয়ান বা ব্যান্ড দলের মিউসিক ভিভিও স্ট্রীম করে থাকেন তাদের কাছে Twice(트와이스) নামটি খুবই পরিচিত এবং জনপ্রিয়। Twice, নয়জন সদস্যের একটি কেপপ গার্ল গ্রুপ যারা ২০১৫ সালে জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট এর অধীনে সিক্সটিন রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে তাদের যাত্রার সূচনা করে। নয়জন সদস্যের এই কেপপ গার্ল গ্রুপটিতে রয়েছেন পার্ক জীহিয়ো, ইম নাইয়ন, ইউ জংইয়ন, হিরাই মোমো, মিনাতোযাকি সানা, মিওই মিনা, কিম দাহিয়ুন, সন চেইয়ং, চউ যুয়ু। দলটির নাম টোয়াইস রাখার কারণ; দলটি দুইভাবে মানুষের হৃদয় জয় করবে, প্রথমত গান দিয়ে এবং দ্বিতীয়ত পারফরমেন্স দিয়ে। শুরু থেকেই দলটির লক্ষ্য ছিলো টপ গার্ল গ্রুপগুলোর একটি হবার। ২০২০ সাল টোয়াইসের জন্য পঞ্চম বর্ষ। কতটা রোমাঞ্চকর ছিল তাদের জন্য এই পাঁচটি বছর? থাকছে তারই বিস্তারিত।

কঠোর অনুশীলন, কঠিন একক ও দলগত পরীক্ষা, অডিয়েন্স চোয়েস এবং বিচারকের সূক্ষ্ম যাচাই বাছাই এর মধ্য দিয়ে আসা টোয়াইসের ডেব্যু হয় অক্টোবার ২০, ২০১৫ তে। পার্ক জীহিয়ো গ্রুপটির দলনেত্রী। নাগরিকত্বের দিক থেকে জীহিয়ো, নাইয়ন, জংইয়ন, দাহিয়ুন, চেইয়ং সাউথ কোরিয়ার নাগরিক এবং মোমো, সানা ও মিনা জাপানের নাগরিক, শুধুমাত্র যুয়ু তাইওয়ানের নাগরিক। গ্রুপের জেষ্ঠ্য সদস্য ইম নাইয়ন ও কনিষ্ঠ সদস্য চউ যুয়ু। টোয়াইস গ্রুপের ভক্তকে ওয়ান্স (Once) বলা হয়। 

টোয়াইসের ডেব্যু গান ‘লাইক ওহ আহ‘ গোল্ডেন ডিস্ক আওয়ার্ডে নোমিনেশন অর্জন করে ২০১৬ সালে। যা ছিলো তাদের প্রথম মিনি অ্যালবাম ‘দ্যা স্টোরি বিগিনস’ এর অন্তর্ভুক্ত গান। আর এর মাধ্যমেই তাদের পথচলা শুরু হয়। টোয়াইস সং অব দি ইয়ার অ্যাওয়ার্ড (MAMA SOTY award) এর মতো পুরস্কার অর্জন করে ২০১৬ সালে তাদের ‘চিয়ার আপ‘ গানের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ২০১৭ তে ‘সিগনাল’ গানের জন্য এবং ২০১৮ তে ‘হোয়াট ইজ লাভ?’ এর জন্য টোয়াইসকে একই অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কৃত করা হয়। কোরিয়াতে অ্যালবাম অব দি ইয়ার, আর্টিস্ট অব দি ইয়ার ও সং অব দি ইয়ার অ্যাওয়ার্ডগুলোকে সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়। কেপপ গার্ল গ্রুপের  মধ্যে টোয়াইসই প্রথম পরপর তিনবার এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে ইতিহাস রচনা করে। তাদের প্রতিটি গানেই রয়েছে প্রফুল্লতা যা মনকে নিমেষেই ভালো করে দিতে পারে এবং কোরিওগ্রাফি ও কনসেপ্টে রয়েছে  অনন্যতা যা তাদের মিউসিক ভিডিওগুলোকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ করে।

ভক্তদের ভালোবাসাও তাদের প্রতি কিছু কম নয়। যার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় সামাজিক মাধ্যম টুইটারে। টোয়াইস প্রথম কেপপ গার্ল গ্রুপ যাদের টুইটার ফলোয়ার সংখ্যা পাঁচ মিলিয়নের অধিক(বর্তমানে ছয় মিলিয়ন) এবং ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় পনেরো মিলিয়ন। ২০১৮ সালে টোয়াইসের ‘লাইকি’  রিলিজ পাবার পর কোরিয়াসহ সারা বিশ্বে আলোড়ন ছড়ায়। যা অল্প সময়ের মধ্যেই বিলবোর্ড ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল সং লিস্টে জায়গা করে নেয়। এছাড়াও তাদের টোয়াইস্টাগ্রাম  অ্যালবাম বিলবোর্ড ওয়ার্ল্ড অ্যালবাম চার্টে ডেব্যু করে। 

এছাড়াও ২০১৮ সালের জুন মাসে টোয়াইসের ‘হোয়াট ইজ লাভ?’  অর্জন করে গাওন প্লাটিনাম সার্টিফিকেশন যা কোনো অ্যালবামের ২৫০,০০০ কপি সেল হবার পর দেওয়া হয়। কেপপ গার্ল গ্রুপের ইতিহাসে টোয়াইসই প্রথম গ্রুপ যাদের জাপান ডোম ট্যুর এর কনসার্ট টিকেট সোল্ড আউট করার সফলতা অর্জন করেছে। এই ডোম ট্যুরটি করা হয়েছিল জাপানের ওসাকা, টোকিও ও নাগোয়াতে। সম্প্রতি গ্রুপটির রিলিজ পাওয়া মিনি অ্যালবাম ‘মোর এন্ড মোর’ ২৪ ঘন্টায় ২৭০,০০০ কপি সেল করে রেকর্ড গড়ে।

টোয়াইসের সদ্য আয়োজিত কনসার্ট টোয়াইসলাইটস দুর্ভাগ্যবশত করোনা মহামারীর জন্য স্থগিত হওয়ার কারনে দলটি অনলাইন কনসার্ট টোয়াইস: ওয়ার্ল্ড ইন আ ডে এর আয়োজন করে। যার ১০০,০০০ টিকেট থেকে আয় হয় ২.৮৩ মিলিয়ন ইউএসডি ডলার এবং তৃতীয় মোস্ট ভিউড অনলাইন কনসার্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও টোয়াইসের অসংখ্য মিউসিক শো উইনস ও অ্যাওয়ার্ড অর্জন তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাইলফলক হিসেবে কোরিয়ান মিউসিক ইন্ডাস্ট্রিতে আলোড়ন ফেলে। কেন এত আলোড়ন? কি আসে তাদের গানে?

সাফল্যের গল্প যেমনই হোক, অন্তরালে রয়ে যায় কিছু অকপট মুহুর্তের গল্প যার প্রকাশ্য নজির পাওয়া যায় কর্মে। টোয়াইসের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে। প্রতিটি অ্যালবাম ও মিউসিক ভিডিওতে টোয়াইসের সদস্যরা তাদের সবটুকু দিয়ে খুব ভালো কিছু দেবার চেষ্টা করে। তাদের প্রতিটি গানে থাকে কিছু নতুনত্ব। গানের কথা ও সুর রচনা ও কণ্ঠে তোলার সাথে সাথে কোরিওগ্রাফি ও পারফরমেন্সের মাধ্যমে তাদের আবেগ ও ব্যক্তিত্ব সহজ ও সাবলীলভাবে প্রকাশ করে টোয়াইস। বিগত ২৬শে অক্টোবার টোয়াইসের নতুন অ্যালবাম ‘আইস ওয়াইড ওপেন‘ রিলিজ পায়। যার মধ্যে ‘আই কান্ট স্টপ মি‘ ছিল সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের একটি মিউসিক ভিডিও।

কিন্তু পথচলার সকল মুহুর্ত সবসময় সহজ হয় না। ট্রেইনি থাকাকালীন সময় থেকেই কঠোর অনুশীলন ও রুটিনমাফিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলতে হয়েছে তাদের। ডেব্যুকালীন সময়েও টোয়াইসকে আলোচনা ও সমালচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও টোয়াইস তাদের পথচলা বহাল রেখেছে। সদস্যদের মধ্যেও রয়েছে অটুট এক হৃদ্যতা যার পরিচয় মেলে তাদের বন্ধুত্বে ও স্বভাবে। টোয়াইসের পুরো টিম তাদের কাছে দ্বিতীয় পরিবারের মতো। ভিন্ন জাতিসত্তা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়া স্বত্তেও সদস্যদের কেউ যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় অন্যরা চেষ্টা করে পাশে থেকে সমাধান করবার। টোয়াইসের ডকুমেন্ট সিরিজ ‘সিইজ দ্যা লাইট’ এ পাওয়া যায় সেসব মুহুর্তের গল্প। তাদের দলগত প্রচেষ্টা ও ভালোবাসা একসাথে সব বাধা পেরোবার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে সবসময়।

টোয়াইস তাদের গান ও পারফরমেন্স দিয়ে নিজেদের ইচ্ছা, আকাঙ্খা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করে। দলটির সদস্যরা অন্য যেকোনো আর্টিস্ট ও কেপপ দলকে সমানভাবে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। নিজেদের টিমের সকল স্টাফদের প্রতি তারা শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা পোষণ করে। টোয়াইস এমন একটি কেপপ গ্রুপ যারা নিজেরাই নিজেদের প্রেরণা। গ্ল্যাম লাইফের ব্যস্ততা, হাসি-ঠাট্টার মাঝেও কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে টোয়াইস সদস্যরা একসাথে তা সমাধান করে। সর্বোপরি টোয়াইস এমন একটি কেপপ গার্ল গ্রুপ যারা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সুযোগ্য। ভক্ত হিসেবে শুভকামনা রইল টোয়াইসের প্রতি, আগামীর পথে তারা এগিয়ে যাক সাফল্যের সাথে, টোয়াইসের প্রতিটি সদস্যদের জীবন হোক আরো সুন্দর ও রঙিন।

নেইম অব সোর্স: কোরিয়াবু, কেপ্রফাইল, সিইজ দ্যা লাইট ডকুসিরিজ। 

Maleka Juthi

I'm an ordinary person and that's my Extra-ordinary introduction. I feel myself when I write down my thoughts.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close