উদ্ভট

দে জা ভ্যুঃ

প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক শংকর আচার্য বলেছিলেন,”ব্রহ্মই সত্য,জগত মিথ্যা।জগতের সবই মায়া।”

ধরুন যদি আপনাকে বলা হয় যে আপনি জীবনে কখনো না কখনো আপনার নিকট ভবিষ্যত দেখতে পারবেন,এটা কি আপনি বিশ্বাস করবেন?হয়তো ৮০ শতাংশ লোক বলবে, “না! বিশ্বাস করি না” বাকি ১৮ শতাংশ লোক হয়তো বলবে,”হ্যাঁ, হতে পারে।”আরে সেইইইই বাকি ২ শতাংশ লোক হয়তো বলবে,”জ্বি,বিশ্বাস করি।”

এখন,আপনি যদি ৬০ শতাংশ লোকের দলে পড়েন তাহলে বলব আপনার ধারণা ৯৫% ভুল, আর যদি আপনি ১৮ শতাংশ লোকের দলে পড়েন তাহলে বলব আপনি ৩% ভুল, আর আপনি যদি সেই ২ শতাংশ লোকের দলে পড়েন তাহলে বলব আপনার ধারণা ঠিক ২% ই ভুল। কেননা,সাউদার্ন মেথোডিস্ট ইউনিভার্সিটি র একজন মনোবিজ্ঞানী এলান এস.ব্রাউন ২০০৩ খ্রিষ্টাবে একটি অনুসন্ধানে দেখেছেন যে,

       জগতের ৬০ শতাংশ মানুষের জীবনে এমন একটি পরিস্থিতি আসে যাতে সে তার নিকট ভবিষ্যত দেখতে পায়।

কিন্তু আমাদের অবচেতন মন মনে করে এই ঘটনা তার সাথে আগেও ঘটেছে।কিন্তু ঘটনাটা সম্পূর্ণ উল্টো ঘটে।অর্থাৎ আপনি আপনার ভবিষ্যত দেখতে পান,কিন্তু আমাদের মন জানিয়ে দেয় যে এই ঘটনাটা আমাদের সাথে অতীতে কখনো ঘটেছিল।

মনের অগোচরে অনেক সময় এরকম অনেক কিছুই উপলদ্ধি করি কিন্তু তা কাউকে বলতে পারিনা। হতে পারে চক্ষু লজ্জা বা অন্য কোনো কারণ । তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো এই রকম উদ্ভট পরিস্থিতি।বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় “দে জা ভ্যু” বা Déjà vu ! দে জা ভু (ইংরেজি: Déjà vu; ইংরেজি উচ্চারণ: /ˈdeɪʒɑː ˈvuː/ (অসমর্থিত টেমপ্লেট) DAY-zhah VOO; ফরাসি : [deʒa vy] অর্থ “ইতোমধ্যে দেখেছে”। একে পারামনেসিয়া বলাও হয়ে থাকে, গ্রিক παρα “para” অর্থ “নিকটে, বিপক্ষে, পরিপন্থী” + μνήμη “mēmē”, অর্থ “স্মৃতি”)।

একজন ফরাসী মানসিক গবেষক এমিল বোইরেক (১৮৫১–১৯১৭), তার “L’Avenir des sciences psychiques” (লাভনির ডেস সন্স সিসিক বা মানসিক বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ) নামক বইতে একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ লিখেছিল যেখানে এই শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

এই দে জা ভ্যু ব্যাপারটি সচরাচর ঘটে থাকে। আগেই বলেছি যে,সাউদার্ন মেথোডিস্ট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অ্যালান এস. ব্রাউন ২০০৩ খৃস্টাব্দের একটি অনুসন্ধানে দেখেছেন যে, ৬০ শতাংশ মানুষের জীবনে একবার হলেও ডেজা ভ্যু জাতীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাহলে হয়তো এই দে জা ভ্যু নিয়ে এতক্ষণে একটু হলেও বুঝতে পেরেছেন। কী?তাই না!!!!!

তাহলে চলুন একে আরেকটি বিস্তারিত করা যাক-

দে জা ভ্যু প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনেই কমপক্ষে একবার করে ঘটে থাকা একটি ঘটনা। কোথাও গিয়ে মনে হল যে এমন কোথাও আপনি আগেও এসেছেন, কিংবা কোন একটি ঘটনা দেখার পর মনে হল ঠিক এমনটাই যেন এর আগেও দেখেছেন আপনি। অথচ বাস্তবে সেটি সত্যি নয়। মোটেও এই স্থানে আসেননি আপনি, এমন কোন ঘটনার মুখোমুখিও হননি।

তাহলে এই যে মনে হওয়া? এই যে বিচ্ছিন্ন স্মৃতি? সেটা কী? এটাকেই বলা হয় দেজা ভু। কিন্তু কেন হয় এমনটা? ঠিকঠাক কারণ না জানতে পারলেও এখন অব্দি অনেকেই চেষ্টা করেছেন এর পেছনে থাকা রহস্যকে খুঁজে বের করতে। দিয়েছেন নানারকম মজার মজার তত্ত্ব।

কম্পিউটারকে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মস্তিষ্কের সাথে তুলনা করা হয়। মানুষের মস্তিকের প্রতি সেকেন্ডে ১০১৫ টি হিসাব করার ক্ষমতা আছে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৭০০০০ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা আজও মানুষের ব্রেনের ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা নির্ণয় করতে সক্ষম হননি। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনি যদি ৩০ লাখ ঘণ্টা বা ৩৪২ বছর একনাগাড়ে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডে সারাক্ষণ ভিডিও ধারণ করেন, তাতেও আপনার মস্তিষ্ক নামের সুপার কম্পিউটারের মেমোরি স্পেস পূরণ হবে না।কিন্তু

হিউম্যান ব্রেইন কম্পিউটারের মত এক্সাক্টলি সব ইনফো সেভ করে রাখতে পারেনা । মেমোরির একটা অংশ ভালভাবে সেভ করে, আরেকটা অংশ অস্পষ্ট হয় বা মুছে যায় । কোনো একটা বিশেষ স্মৃতির কিছু অংশ দেখলে আমাদের ব্রেইনের টেম্পোরাল লোব উত্তেজিত হয়ে পড়ে । যদি পুরা মেমোরিটা সে রিকল করতে পারে, তখন কোন সমস্যা নেই । কিন্তু মেমোরির অর্ধেকটা বিকল করতে পারছে, বাকি অর্ধেক পারছেনা – এই রকম সিচুয়েশনে ব্রেইন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে । এই সিচুয়েশনই দে জা ভ্যু নামে পরিচিত ।

মনে করুন,আপনি একটি কাজ করছেন,সেখানে একজন অপরিচিত এসে আপনার সাথে কথা বলে চলে গেল।কিন্তু আচমকা আপনার মনে হল এই ঘটানাটি আপনার সাথে একইভাবে আগেও ঘটেছে।তখন যে পরিস্থিতিটার উদ্ভব ঘটে সেটাই সেই দে জা ভ্যু।

যেখানে আপনি মনে করছেন আপনার সাথে ঘটনাটি আগেই ঘটেছে কিন্তু সম্পূর্ণ মনে করতে পারছেন না।আপনার কনশাস মাইন্ড সেটআপ সেটাকে মনে করতে দিচ্ছে না।কেননা আসলে এরকম কোনো ঘটনাই আপনার সাথে আগে ঘটেনি।বরং আপনার মস্তিষ্কে নিউরনে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে আপনি আপনারই নিকট ভবিষ্যত দেখে ফেলেছিলেন। অতীতের ঘটনা যেখানে সম্পূর্ণ অর্থহীন।

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close