অন্যান্য

দুনিয়ার সম্পদ আঁখিরাতে নিয়ে যেতে চান?

হ্যাঁ ঠিক প্রশ্নই দেখেছেন।
দুনিয়ার সম্পদ আঁখিরাতে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিই বলতে যাচ্ছি আজকে আপনাদের।

তবে এবার বলি কিভাবে দুনিয়ার সম্পদ আঁখিরাতে নিয়ে যেতে পারবেন।
ছদকা। ছদকা দেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার দুনিয়াবি সম্পদের সুবিধা আঁখিরাতেও ভোগ কর‍তে পারবেন। আল্লাহর রাস্তায় ছদকা দান করলে কেয়ামতের দিন এই ছদকাকৃত ধন বীজে পরিণত হবে এবং আল্লাহর রহমতে পানির বদৌলতে তা শস্যে পরিণত হবে। যারা দুনিয়ার বুকে অকাতরে আল্লাহর রাহে মুক্তহস্তে দান করবে, ধন-সম্পদ ব্যয় করবে,তারা বিরাট পন্যের অধিকারী হবে এবং বেহেশতে পরম সুখে বসবাস করবে। দুনিয়ায় অর্জিত অর্থ আল্লাহর পথে ব্যয় করলে তা ছদকায়ে জারারিয়োর কাজ করবে এবং মৃত্যুর পর সেই অর্থ বিদেহী আত্মার মাগফিরাত স্বরুপ কাজ করবে। এর ফলে তারা অন্তত শান্তি নিকেতনে বেহেশতে প্রবেশ করবে এবং চির শান্তি উপভোগ করবে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বর্ণনা করেন-
“হে উম্মতে মুহাম্মাদী! তোমরা আখিরাতের সওয়াবের আশায় দুনিয়াতে যা কিছু খরচ করবে। তার ফল তোমরা এভাবেই দেখতে পাবে। যাতে তোমরা সন্তুষ্ট হতে সক্ষম হও।”

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) যখন মেরাজে গমন করেন সেখানে তাকে যখন আলামে বারযাখ দেখানো হয় তখন তিনি প্রথমেই একটি সুন্দর সবুজ বর্ণের ক্ষেত দেখতে পান। সেখানে একদল লোক দামী পোশাক পড়ে এদিক সেদিক বিচরণ করছে এবং এক প্রকার বীজ বুনছে। বীজ বুনার সঙ্গে সঙ্গে তাতে শস্য উৎপাদিত হয়ে যাচ্ছে আবার তা পাকছেও! তারা তা কাটছে,সাথে সাথে মাড়াই করে তা বিন্যস্ত করে সাজিয়ে রাখছে। নবী করিম (সঃ) এ দৃশ্য দেখে সাথী জিবরাইল(আঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন- “ভাই জিব্রাইল এরা কারা?
উত্তরে জিবরাইল (আঃ) বললেন -” হে আল্লাহর প্রিয় নবী! এরা আপনার উম্মতের পবিত্রাত্মা। যারা আল্লাহর রাহে নিজেদের জান মাল অকাতরে দান করেছেন। তাদের আত্মাই এখানে শান্তিতে বিরাজ করছে। আপনার এই বান্দারা দুনিয়ায় দান খয়রাত করতো। আর তাদের সেই ছদকাকৃত ধনই এরুপ বীজে পরিণত হয়েছে। কেয়ামতের বিশাল ময়দানে রোপিত হয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে পানির বদৌলতে শস্যে রুপান্তরিত হয়েছে। অতঃপর তা সুবিন্যস্ত করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। আপনি এসব তরিৎ ব্যবস্থা দেখে আপনার উম্মতদের জানিয়ে দেবেন যে, যারা দুনিয়ার বুকে অকাতরে ও মুক্ত হস্তে আল্লাহর রাহে ধন সম্পদ ব্যয় করবে। তারা এরুপ বিরাট পন্যের অধিকারী হবে এবং বেহেশতে পরম সুখে ও চরম পুলকে বসবাস করবে।

এছাড়াও আনেকের ধারণা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মেরাজের রাতে আল্লাহকে দেখেছেন। কুরআন ও হাদীস উভয়ই প্রমাণ করে যে, এই দুনিয়ায় আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেছেন-
“যে লোক বিশ্বাস করবে যে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার আল্লাহকে দেখেছেন সে তার আল্লাহ সম্পর্কে একটা অতি বড় মিথ্যা কথা বলেছে। (মুসলিম শরীফ)

এক্ষেত্রে কেউ কেউ বলতে পারে কোরআন শরীফেই তো আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ” এবং নিশ্চই তিনি তাকে দেখেছেন সুস্পষ্ট প্রকাশ্য আকাশ দিগন্তে এবং তিনি তাকে দেখেছেন আর একবার ” এই আয়াতকালে দেখার কথা বলা হয়েছে “। ইমাম তায়েবী হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে এই একই প্রশ্ন করেছিলেন।
হযরত আয়েশা(রাঃ) এই প্রশ্নের জওয়াবে বলেন- ” এই উম্মতের আমিই সর্ব প্রথম রাসূলে করীম (সঃ)-কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। জওয়াবে তিনি বলেছিলেন- ” এ আয়াতদ্বয়ে তো জিব্রাইলকে দেখার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাকে যে আকার-আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। আমি তাকে সেই আকার-আকৃতিতে এই দুইবার ছাড়া কখনও দেখিনি। সে দুইবারের কথা উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে। আমি তাকে উর্ধ্বলোক থেকে নিচে নামা অবস্থায় দেখেছি। তার বিরাট দেহ আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের জায়গা জুড়ে আছে।”

এরপর হযরত আয়েশা (রাঃ) ইমাম তায়েবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ” আল্লাহকে দেখার প্রশ্নই ওঠে না। তুমি শুনতে পাওনি আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন-
“আল্লাহ কোনো মানুষের সাথে কথা বলবেন তা হতে পারে না। তবে ওহী নাযিল করে বা পর্দার আড়াল হতে আথবা কাউকে পাঠিয়ে দিয়ে বলতে পারেন।”

আশা করি এই বিষয়ে কারো মনে প্রশ্ন থেকে থাকলে তার উত্তর পেয়ে গেছেন।

টপিকঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close