ফিকশনসায়েন্স ফিকশন

টাইম ট্র্যাভেল!! কতটুকু সত্য?

এক্সিডেন্টে দেখা মিললো টাইম ট্রাভেলে ভ্রমণ করা ৩৮ বছর পূর্বের এক যুবকের।”
কফি খেতে খেতে পেপারের হেডলাইন পড়ছিলো পল জোসেফ। কিন্তু সকাল সকাল এমন অপ্রত্যাশিত খবর সে আশা করে নি। টাইম ট্রাভেল সংক্রান্ত ঘটনা যে সে শুনে নাই এমন না, কিন্তু এই ঘটনা তার কাছে শুধু হাস্যকর এবং কল্পনার মনে হয়। তবে ইদানিং যা সব ঘটছে এই সময় ভ্রমণকে ঘিরে, এবার একটু বেশিই ঘাবড়াচ্ছে পল।
পল জোসেফ একজন ব্যবসায়ী। আমেরিকার ব্রিটল হোমে স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে নিয়ে এক ভাড়া বাসায় তার বসবাস। স্ত্রীর নাম লোরা স্ট্রোভা এবং সে সংসারের পাশাপাশি একটি অফিসে জব করে। ছেলের নাম টম হকিন্স এবং মেয়ের নাম জেনি স্যাভার্ট।
একরাশ বিরক্তি নিয়ে পল খবরের কাগজ ছুড়ে মারলো সোফায়। কফি হাতে একদৃষ্টিতে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে সে। হঠাৎ লোরার প্রবেশঃ
“কি ব্যাপার পল, সেই কখন তুমি কিচেন থেকে কফিমগ নিয়ে আসলে, এখনোও খাওয়া শেষ হয়নি তোমার?”
“না মানে খাচ্ছিলাম তো!” চিন্তিত মনে লোরাকে একথা বললো পল।
“আচ্ছা শুনো, আমার অফিসের যাওয়ার সময় হয়ে আসছে। আমি এখনই বের হবো। বাচ্চা দুটোকে আমি স্কুলে দিয়ে যাবো। ছুটির পর তুমি ওদের নিয়ে আসবে। কেমন?” ব্যাগ গোছাতে গোছাতে লোরা
“হুম” অন্যমনস্ক হয়ে।
হুম কথা শোনার সাথে সাথে লোরা একবার পলের দিকে তাকালো। পলের মুখে এখনো চিন্তার ছাপ। সে যতই টাইম ট্রাভেলের ব্যাপারটা অবিশ্বাস করতে চাইছে, ঘটনাগুলো তত দ্রুতই তাকে বিশ্বাসের জন্য ধরা দিচ্ছে।
হঠাৎ লোরার কথায় হুশ ফিরলো পলের।
“তুমি কি কোনো কারণে চিন্তিত পল?”
“না তেমন কিছুই না, আসলে…….”
“দেখো পল, কোনো সমস্যা হলে তুমি আমাকে বলতে পারো। আজ তোমাকে একটু বেশিই হতাশ মনে হচ্ছে।”
“একটা কথা জিজ্ঞেস করবো লোরা?” লোরার দিকে তাকিয়ে পল।
“হুম, অবশ্যই।”
“আচ্ছা তুমি কি টাইম ট্রাভেলের বিশ্বাসী? মানে আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে, সময় ভ্রমণ করে ভবিষ্যৎ যাওয়া সম্ভব-একথা কি তুমি বিশ্বাস করো?”
“ওহ্, এই ব্যাপার! দেখো পল, আজকাল সময় ভ্রমণ নিয়ে যা সব ঘটনা ঘটছে তাতে তো অবিশ্বাসের কিছু নেই। ভালো কথা, তোমার সেই বিজ্ঞানী বন্ধু গতকাল ফোন করেছিলো, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তাই বলেছে ফোন ব্যাক করতে।”
“কে? সিরিন নাকি?”
“হ্যাঁ, আচ্ছা আমি তাহলে বের হই। দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
“হুম, আচ্ছা সাবধানে!”
পল বুঝতে পারলো ঐ যুবকের সাথে ঘটে যাওয়া টাইম ট্রাভেল সম্পর্কেই আলোচনা করতে চায় সিরিন।
রবার্ট সিরিন পলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সিরিন বর্তমানে নাসার একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী। টাইম ট্রাভেল নিয়ে বেশ কিছু বছর যাবত সে গবেষণা করছিলো। সমসাময়িক ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়েও সে মহাকাশে টাইম ট্রাভেল করার উপায় বের করতে চাচ্ছে। সিরিন মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, আলোর গতির চেয়েও বেশি গতিতে চলতে পারলে টাইম ট্রাভেল সম্ভব। কিন্তু তারই বন্ধু পলকে কোনো ভাবেই এই বিষয়কে বিশ্বাস করাতে পারছে না।
” হ্যালো সিরিন, আমি পল বলছি!”
” ওহ্ বন্ধু! কেমন আছো? কি খবর তোমার?”
“হ্যাঁ, বেশ ভালোই! আচ্ছা সিরিন শুনো আজকের খবরে যা দেখলাম তা কি সত্য?”
” কি? সময় ভ্রমণ? “
” হ্যাঁ!”
“ছোটবেলায় আমি এরকম একজনের হারিয়ে যাওয়ার কথা শুনেছি! এখন সেই ব্যক্তি কিনা তা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
“আচ্ছা, কোনো খবর হলে আমাকে বলো”
“কি ব্যাপার পল! তুমি কি সময় ভ্রমণকে বিশ্বাস করতে চাচ্ছো?” কিছুটা অবাক হয়ে সিরিন
“জানিনা সিরিন! আচ্ছা রাখি, পরে কথা হবে”
অন্য কোনো দিন পল কোনো বিষয় নিয়ে এতো চিন্তা করতো না। কিন্তু আজ কোনোভাবেই ওই যুবকের কথা মাথা থেকে ঝাড়তে পারছে না।
দেখতে দেখতে দুপুর ১ঃ০০ টা বেজে গেলো। পল বেরিয়ে পড়লো বাচ্চা দুটোকে স্কুল থেকে আনার জন্য। টম এবং জেনি দুজনই তাদের বাবার দু হাত ধরে বাসায় পৌঁছালো। বাসা থেকে স্কুল কাছে, তাই তারা হেটে হেটেই যাওয়া আসা করে।
লাঞ্চ করার সময় পল, টম এবং জেনি গল্প করতে লাগলো। হঠাৎ টম বলে উঠলো
“বাবা জানো, আমাদের টিচার আজ অনেক সুন্দর একটা ঘটনা বলেছে!”
“কি ঘটনা টম?” অবাক হয়ে পল
“৩৮ বছর আগের একজন লোক নাকি ভবিষ্যতে এসে এক্সিডেন্টে মারা গেছে”, জেনি বলে উঠলো
পল বুঝতে পারলো শুধুমাত্র তার স্ত্রী নয়, তার সন্তানরাও ইতোমধ্যে সময় ভ্রমণকে বিশ্বাস করা শুরু করেছে। পল আর ওদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বাড়াতে চাইলো না।
“আচ্ছা তোমরা খাওয়া শেষ করো। বিকেলে তোমাদের ঘুরতে নিয়ে যাবো।” খেতে খেতে পল
“ওকে বাবা!” টম ও জেনি একসাথে
বিকেলে পল, টম এবং জেনিকে নিয়ে স্কটহ্যাট পার্কে ঘুরতে গেলো। ঘুরতে ঘুরতে একসময় বিশ্রামের জন্য এক গাছের নিচে তারা বসলো।
“আচ্ছা, সুজা যদি এমন হতো ওই ব্যক্তির মতো আমরাও সময় ভ্রমণ করে ভবিষ্যৎ একটু ঘুরে আসতাম, কেমন হতো তাহলে?”
পলের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একথা বললো।
কথাটা যে পলের কান পর্যন্ত পৌছায় নি এমন না, শোনার সাথে সাথে পল তার দুই বাচ্চাকে নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলো।
বাসায় আসার পর থেকেই পল আরো চিন্তায় পরে আছে। তার মনে কথা একটাই, সময় ভ্রমণ!! কি করে সম্ভব! আর একজন মানুষ কিভাবে নিজেকে ভবিষ্যতে খুজে পাবে। একজনই বা দুইজন হয় কি করে??
রাতে খাবারের পর পল কারোর সাথেই তেমন একটা কথা বলে নাই। বেডে গিয়ে শুতেই সে আজ গভীর ঘুমে মগ্ন। কিন্তু এই ঘুমেই যে এতো কিছু ঘটবে তা তার জানা ছিলো না।
ঘুমের মধ্যেই সারাদিনের চিন্তা ভাবনা স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। সারাদিনের চিন্তা ধারা সব একসাথে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ তার ঘুম ভেঙে যায়। পানি খাওয়ার জন্য জগে হাত দিয়ে দেখে জগে পানি নেই। তাই সে ডাইনিং রুমে যায় পানি আনতে।
ডাইনিং রুমে পানি খাওয়ার সময় পল খেয়াল করলো ঘরের এক কোণা থেকে অনেক আলো নিঃসৃত হচ্ছে। পল সেই কোণা বরাবর যেতেই দেখতে পেলো সোজা বরাবর একটা পথ সামনে চলে গিয়েছে। পল সেই পথেই এক পা রাখার সাথে সাথে আলোর গতির চেয়েও অনেক বেশি দ্রুত গতিতে ঐ পথে পৌঁছালো। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সে যা দেখলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।
পল দেখতে পেলো একটা পার্কে অনেকগুলো বাচ্চা খেলাধুলা করছে। সাথে ছিলো তাদের পিতা মাতা। আধুনিক প্রায় সব ধরণের খেলনা সেখানে ছিলো। মানুষের মধ্যে পোশাকেরও পরিবর্তন ছিলো। পলের বুঝতে বাকি রইলো না সে সময় ভ্রমণ করে ভবিষ্যতে পৌঁছে গেছে। হঠাৎ একজনের ডাকে পল পিছনে ফিরলো।
পল যার ডাকে পিছনে ফিরলো সে আর কেউ না, ৭০ বছর বয়সী পল নিজেই। সাথে ছিলো তার ভবিষ্যতের স্ত্রী।
ভবিষ্যতের পলঃ “হাই! কেমন আছো তুমি?” ভবিষ্যতের পল বললো
“জি হ্যা ভালোই! তুমি দেখতে আমার মতোই প্রায়!” বর্তমান পল বললো
“তুমি বুঝতে পারছো না? তুমি ভবিষ্যতে পৌঁছে গেছো!!”
“সত্ত্যিই! আমি নিজেই নিজেকে দেখে অবাক হচ্ছি! আচ্ছা আমার হাতে কনুইয়ের দিকে একটা বড় কাটা দাগ আছে। তোমার হাতেও কি সেই কাটা দাগটা আছে?”
বর্তমানের পল ভবিষ্যতের পলের হাত মিলিয়ে দেখলো সেইম কাটা দাগ দুজনের হাতের কনুইয়ের দিকে আছে। তারা আরো কিছুক্ষণ নিজেদের নিয়ে কথা বলে। এরপর পল একই রাস্তা দিয়ে তার পূর্বের স্থানে আবার ফিরে আসে।
ঘরে ফেরার পর পল বুঝতে পারলো টাইম ট্রাভেল করে ভবিষ্যতে যাওয়ার ব্যাপারটা তাহলে সত্যি। ৭০ বছর বয়সে নিজেকে দেখার সময় সে যতটা না অবাক হয়েছিল, তার থেকে এখন সে অনেক বেশি ভয় পাচ্ছে। তার শুধু এটাই মনে হচ্ছে, ৭০ বছর বয়সে সে নিজের হয়েই নিজের চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। এসময় লোরার কথায় পলের ধ্যান ভাঙে।
“কি ব্যাপার পল! তুমি এতো রাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? আর এতো ঘামছোই বা কেনো? কি হয়েছে তোমার?”
“তু….তুমি এখানে? না…না আমার কিছু হয় নি। কিছু হয় নি!” ঘাবড়ে গিয়ে পল একথা বললো লোরাকে।
বলতে বলতে পল নিজের বেডে কাথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো। সে চায় না তার এই ভ্রমণ সম্পর্কে কেউ জানুক। কিন্তু একজনকে না বললে পল শান্তি পাবে না, সে হচ্ছে সিরিন।
সকাল হতেই পল বেরিয়ে পড়লো তার বন্ধু সিরিনের সাথে দেখা করার জন্য। সময় ভ্রমণ নিয়ে তার সাথে যা ঘটলো, পলের আশা সিরিন নিশ্চয়ই এর একটা বিহিত করতে পারবে।
চা-বিস্কুট খেতে খেতে সিরিনকে সব কথা খুলে বললো পল। পলের কথা শুনে সিরিনও বেশ উৎসাহিত। পলের কথা শুনে সিরিন একটু হলেও মজা পাচ্ছে কারণ, যে পল সময় ভ্রমণকে ঘূর্ণাক্ষরেও বিশ্বাস করতো না, অথচ সেই পল সময় ভ্রমণ করেই এক রাতে নিজের ৭০ বছর বয়সীর রূপ দেখে আসলো।
“আমি বুঝতে পারছি পল, তুমি অনেক ঘাবড়ে গিয়েছো। ঘাবড়ানোটা স্বাভাবিক, এমন হুটহাট ঘটনা!! তবে তুমি চিন্তা করো না, ভয়ের কিছুই নেই এখানে।” সিরিন বললো।
” তুমি বুঝতে পারছো না সিরিন! নিজের ৭০ বছর বয়সী রূপ দেখার পর এখন যার তার চেহারায় আমি ঐ রূপটাই দেখতে পাই। তুমি জানো আমি এমনেতেই একটু ভীতু প্রকৃতির। তার মধ্যে আবার এসব!!” ভয়ার্ত চেহারায় পল
“তুমি এসব নিয়ে একটু বেশিই ভেবে ফেলছো! যার কারণে তুমি সবার মাঝে নিজের ৭০ বছর বয়সের রূপ দেখতে পাও। নিজেকে অন্য কাজে মনোনিবেশ করো, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে,” পলের কাধে হাত রেখে সিরিন।
“আচ্ছা!”
সিরিনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর পলের মনে পড়লো টাইম ট্রাভেল করে যাওয়া সেই পার্কের কথা। পার্কের এক কোণার এক বোর্ডের উপর পার্কের নাম লেখা ছিলো এবং স্পষ্টত পার্কের নামও পলের মনে ছিলো। পার্কের নাম ছিলো “Stratford Children’s Park”. স্ট্রার্টফোর্ড জায়গাটি পলের অপরিচিত নয়, তবে সিরিনের বাসা থেকে পার্কটির দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। পল নিজেই সিদ্ধান্ত নিলো যে সে ওই জায়গাটিতে যাবে। একটা ট্যাক্সি করে স্ট্রার্টফোর্ড জায়গায় পৌঁছায় পল। কিন্তু ওখানে গিয়ে যা দেখলো তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।
জায়গাটি ভুতুড়ে ছিলো। জনমানবহীন এলাকা। ঘন ঘন গাছপালা আর পরিত্যক্ত মাঠ ছিলো। পল ভাবতেই অবাক হচ্ছে, সে টাইম ট্রাভেল করেই এখানে এসেছিলো। অথচ কতো পার্থক্য বর্তমান আর ভবিষ্যতের মাঝে!!
আর কিছু না ভেবে পল সোজা বাড়ি ফিরলো এবার।
রুমে ঢুকতেই লোরা প্রশ্ন করলো, “পল! তোমার ফোন কোথায়?”
“কেনো আমার কাছেই আছে”
” তাহলে ফোন দিচ্ছিলাম, ধরছিলে না কেনো?”
পল তার প্যান্টের পকেট হাত দিয়ে দেখে তার ফোন নেই। সে পুরো রুমে যখন ফোন খুজতে যাবে তখন মনে পড়লো টাইম ট্রাভেল করার সময় ফোন তার হাতে ছিলো এবং সেটা ভবিষ্যতেই পড়ে আছে।
“লোরা! সম্ভবত আমার ফোন চুরি হয়ে গেছে। আমি না হয় একটা কিনে নিবো,” ইতস্তত হয়ে পল।
পল মনে করলো এ বাড়িতে থাকলে হয়তো আরো অদ্ভুত কিছু তার সাথে ঘটবে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো এ বাড়িতে আর থাকবে না। এক রাতের সময় ভ্রমণের ঘটনা যেনো তাকে অন্য পারে দাড় করিয়েছে। তার এই সিদ্ধান্তের মূল রহস্য তার স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে না জানলেও তারা বাসা পরিবর্তনে অমত প্রকাশ করে নি।
দেখতে দেখতে পল প্রায় ৭০ বছরে পা দিলো। অন্য এক বাসায় তারা বেশ সুখেই ছিলো। তাদের ছেলে-মেয়েরও বিয়ে হয়েছে এবং তারাও অন্য একটা বাসায় নিজেদের সংসার নিয়ে সুখেই ছিলো। এর মধ্যে পলের সাথে ঘটে যাওয়ার ঘটনা পল প্রায় ভুলতে বসেছিলো। কিন্তু একদিন ঠিক আবার ঘটনা এসে নিজ থেকে সাড়া দিলো।
একদিন পল এবং তার স্ত্রী একটা পার্কে নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলো। মনোরম পরিবেশ আর বাচ্চাদের খেলাধুলা নিয়েই তারা ব্যস্ত ছিলো। এমন সময় পল হাটতে হাটতে তার পায়ের কাছে একটা শক্ত পদার্থ অনুভব করে।
পল তাকিয়ে দেখে একটা ফোন পরে আছে। সে ফোন হাত দিয়ে উঠিয়ে দেখে অনেক আগের এবং পুরোনো ফোন। সে যখন ফেলে দিতে চাইলো ঠিক তখন একটা বোর্ডের উপর তার নজর যায়। বোর্ডের উপর পার্কের নাম ছিলো এবং এই দুই ঘটনার পর পলের সবকিছু আবার মনে পড়তে থাকে। সেইদিন যেই অবস্থায় পল নিজের ৭০ বছর বয়সী রূপ দেখেছিলো আজও পল সব ঠিক একই রকম দেখতে পাচ্ছে। সে ভাবছে, কতো বিচিত্র এই জগৎ-সংসার।
তবে এবার সে ভয় পায়নি। ঘটনাগুলো মনে পড়ে একরকম হেসেই দিয়েছে। তার হাসি দেখে লোরা প্রশ্ন করলো,
” কি ব্যাপার এভাবে হাসছো যে”
“জানো লোরা, আমার বয়স যখন ৩৬ তখনই আমি তোমার এই ৭০ বছর বয়সের রূপ দেখেছিলাম। তুমি তখনো সুন্দর ছিলে, এখনোও আছো!!” লোরার দিকে তাকিয়ে পল।
“মানে!” অবাক হয়ে লোরা
“কিছু না” হেসে দিয়ে পল
পল ও লোরা বাসায় চলে আসলো। সিরিনকে ফোন দিয়ে পল বললো, “বন্ধু সময় ভ্রমণে অইদিন যা ঘটেছিল, আজও আমার সাথে একই কাহিনি
ঘটেছে।”
“এবার তাহলে বিশ্বাস হয় আমার কথা? তবে তোমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সাথে সাথেই আমি রিসার্চ করেছিলাম এবং এটাও প্রমাণ করতে পেরেছি সময় ভ্রমণ আসলেই সম্ভব। তবে এবার আমি চেষ্টা করছি, মহাকাশে কিভাবে সময় ভ্রমণ করা যায় সেই পদ্ধতি বের করার। ভালো থেকো বন্ধু।” একগাল হেসে সিরিন
“তোমার ইচ্ছা সত্যি একদিন পূর্ণ হবে। তুমিও ভালো থেকো!” খুশি হয়ে পল

Sadia Rahman

Student Learner

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close