রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

চমৎকার টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিল

Excellent Time Management Skill

টাইম ম্যানেজমেন্ট! এটি এমন একটি সফট স্কিল যেটা কিনা আমাদের জীবনে আজীবন প্রয়োজন হবে | কথিত এক বাক্য আছে যে, “সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না” কথাটির যথাযথ প্রমাণ সর্বকালীন প্রবাহমান | তো সময়কে বেধে রাখা সম্ভব নয় তবে সময়কে বেধে না রাখলেও সময় কে চাইলেই আমরা ব্যবস্থাপনা করতে পারি | সময়কে ব্যবস্থাপনা করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে সব কিছু করতে পারবো | সময় ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের দরকার কিছু টেকনিক যা আপনি পাবেন এই আর্টিকেলে | আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা সময় নিয়ে অজুহাত দেখান মূলত তাদের জন্য এই আর্টিকেল |

১. প্রিপারেশনঃ প্রতিটা কাজের পূর্বে আপনি অবশ্যই ৫-১০মিনিট কাজের বিষয় অগ্রিম পরিকল্পনা করে নিবেন | এই দশ মিনিট চাইলে আপনি সকালে অথবা আগের দিন রাতে এই দশ মিনিট নিয়ে অগ্রিম পরিকল্পনা করতে পারেন সারাদিন কি কি করবেন | সারাদিনের কাজের একটি লিস্ট বানাতে পারেন এবং কাজ শেষে সেটা টিক মার্ক দিয়ে ওয়ার্ক ডান হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন |

তো এরপর যখনই কোনো কাজ করতে যাবেন তার আগে থেকে আপনি কাজটির জন্য যা যা উপকরণ বা প্রয়োজন টা আগে থেকেই গুছিয়ে নিবেন | পড়াশুনার জন্য হলে টেবিল সাজানো আর অফিসের কাজের জন্য অফিস এলিমেন্ট গুলো সাজিয়ে নিবেন তবেই কাজের সময় আপনাকে কোনো প্রয়োজনের জন্য বার বার উঠে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না | আপনি তবে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত সময়ে |

দৈনন্দিন জীবনের সেরা ৯টি স্কিল যা আপনাকে বাঁচবে প্রতিকূল পরিবেশে

২. প্রায়টাইজেশনঃ যদি আপনার কাছে অনেক গুলো কাজ থাকে তবে আপনি সেগুলোর মধ্যে একটা প্রায়টাইজেশন সেট করতে পারেন | আগে সেই কাজ গুলোর একটা প্রায়োরিটি লিস্ট বানান এবং এর মধ্যে বেশি প্রায়োরিটির যেই কাজ রাখবেন সেই কাজ গুলো আগে করুন | আপনি যদি এভাবে কাজকে প্রায়টাইজেশন করতে পারেন তবে আপনার অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার কাঙ্ক্ষিত কাজ গুলো করে ফেলতে পারবেন |

আপনি শুধু আপনার বেশি প্রায়োরিটির কাজ গুলো করবেন | যে গুলো কম প্রায়োরিটির কাজ সে গুলো আপনি চাইলে অন্যকাউকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন এতে আপনার সময় সুন্দর ভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে | সব কাজ শেষ করে আপনার কাছে অনেক সময় থাকবে | প্রায়টাইজেশন এর এই ব্যাপার টা চাইলে আরো সহজ ভাবেও করতে পারেন সেটা হলো এবিসিডি পদ্ধতি |

ধরুন আপনার কাছে অনেক গুলো কাজ আছে তবে আপনি কাজ গুলোর উপর এবিসিডি ক্রমিক সেট করে দিন | এরপর সবার আগে এ কাজটি করুন | তারপর বি হচ্ছে এমন কাজ যা আপনি চাইলে পরে করে নিলেও আপনার সমস্যা নেই | তারপর সি এটি চাইলে আপনি পরেরদিন বা যেকোনো সময় করতে পারবেন এমন কাজ | ডি লেভেল এর কাজটি চাইলে আপনি অন্য কাউকে দিয়ে করাতে পারবেন |

আমাদের দৈনন্দিন লাইফে প্রতি একশ শতাংশ কাজের মধ্যে ২০শতাংশ কাজ গুরুত্বপূর্ণ যা করতে পারলে আপনার বাকি ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে যায় | অথবা ৮০শতাংশ কাজ করলে দেখবেন ২০শতাংশ কাজ হয়েছে মাত্র | এটাকে আমরা ৮০/২০ বিধি রূলস ও বলতে পারি | তো আপনাকে শুধু সেই ২০% শতাংশ কাজ খুঁজে বের করে দ্রুত করে ফেলতে হবে যার মাধ্যমে আপনার ৮০% শতাংশ কাজ হয়ে যাবে |

৩. পরিকল্পনা ও গোল সেটঃ আমরা যখনই কোনো কাজ করি সেই কাজ এর পরিকল্পনা না করেই আমরা কাজে নেমে পরি ফলাফল হিসেবে আমরা সময় মত কাজ শেষ করতে পারি না | তাই এরপর থেকে যখনি আমরা কোনো কাজ করতে যাবো আগে গোল সেট করে নিবো | কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে আমরা কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিবো এবং প্রত্যেক অংশে সময় নির্ধারণ করে রাখবো |

আবার ধরুন টার্গেট নিয়ে কাজ করা যায় যে এই সময় এর মধ্যে এই কাজ শেষ করতেই হবে | পুরো কাজটার জন্য ও সময় নির্ধারণ করা হবে | সম্পূর্ণ কাজটায় সময় নির্ধারণ করলেই সেটা একটা গোল বা লক্ষে পরিণত হবে | প্রত্যেকবার গোল বা লক্ষ অর্জন হলেই আমরা নিজেদের রিওয়ার্ড বা নিজেদের পুরস্কৃত করবো অথবা আমাদের সফলতাকে আমরা সেলিব্রেশন করতে পারি | মনে রাখবেন প্রত্যেকবার সেলিব্রেশনের কারণেই পরেরবার কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবেন নিজে থেকেই | তাই এখনি সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে পরুন এবং করে ফেলুন আপনার সময় ব্যবস্থাপনা |

৬টি কাজ আপনাকে বাঁচাবে জীবনের সকল ব্যর্থতা থেকে |

৪. এনের্জি মর্নিং- আমার দেখা অভিজ্ঞতা অনুযায় সময়ের সদ্য ব্যবহার করতে না পারা ব্যর্থ মানুষ গুলো প্রায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন | আমাদের মধ্যে এটা একটি অতি কমন ব্যাপার তবে আমরা কি জানি শুধু মাত্র এই ছোট একটি অভ্যাস আমাদের জীবনে কি রকম বাজে প্রভাব ফেলছে? বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব সফল মানুষ গুলোই খুব সকালে বা ভোরে ওঠেন |

মেডিকেল সাইন্সে অনুযায় প্রতিটা ভোর বা প্রভাত মুহূর্তে আমাদের শরীরে একটা আলাদা এনার্জি থাকে | তখন আমাদের ব্রেইন খুব তীক্ষ্ণ বা শার্প কাজ করে | এই সময় আমরা চাইলে প্রার্থনা, স্টাডি অথবা কাজ করে সফল হতে পারি | আপনি যদি ভোর ৫ টার আগে উঠেন বা ফরযের সালাতের পূর্বে উঠেন তবে আপনি অনেক সময় পাবেন আপনার নিজের জন্য |

আপনি চাইলে এই সময় নিজে নিজে সেল্ফ স্টাডি করতে পারবেন অথবা নিজের শরীরের জন্য মেডিটেশন বা ব্যায়াম করে সুস্থ থাকতে পারবেন | তার মানে একটি ভোরের সকাল মানেই সফলতার একটি নতুন সুযোগ | আর মানুষ তো একটি সুযোগ এর জন্যই বেচেঁ থাকে তবে আর সময়ের বিলম্ব না করে উঠে পরি আর শুভ্র প্রভাতে উপভোগ করি এনার্জি মর্নিং |

৫. পোমোডোরো টেকনিকঃ পোমোডোরো টেকনিক এমন এক ধরনের টেকনিক যার প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি যেকোনো কাজে ফোকাস থাকতে পারবেন | তাই দেরি না করেই শিখে ফেলি এই টেকনিক? পোমোডোরো টেকনিক এর বর্ননা অনলাইনে পেয়ে যাবেন আমি সংক্ষিপ্ত বলি |

আপনাকে প্রথমে এক টানা ২৫ মিনিট কাজ করতে হবে এরপর ৫ মিনিটের ব্রেক নিয়ে আবার ২৫ মিনিট কাজ | এভাবেই ৪×২৫= ১০০ মিনিট ওয়ার্ক টাইম এবং ৪×৫=২০ মিনিট ব্রেক টাইম | তো এখন আপনার ১০০+২০=১২০ মিনিট বা ২ ঘন্টায় এক পোমোডোরো সার্কেল হবে | এভাবে করে আপনি সারাদিন যতো খুশি ততবার পোমোডোরো টেকনিক কাজে লাগিয়ে কাজের প্রতি ফোকাস থাকতে পারেন |

পোমোডোরো টেকনিক প্রয়োগের সময় আপনার মোবাইল ফোন ধরা যাবে না, আপনার ডিস্টার্ব হয় এমন সব কিছু থেকে দূরে থাকতে হবে, যদি কেউ মরেও যায় তবেও পোমোডোরো সার্কেল শেষ না করে ওঠা যাবে না | কাজ শেষ না করে উঠতে মন চাইলে এই কথাটি মনে রাখবেন “কখনোই কোনো কাজ কালকের জন্য ছেড়ে যাবেন না, যে কাজটি আপনি আজকে করতে পারবেন” সো স্টে ফোকাসড ইন ইউর ওয়ার্ক |

সর্বশেষে এটাই বলবো যে এত টেকনিক এত গাইডলাইন দিয়ে কিছুই হয় না সব কিছুর জন্য আগে দরকার আমাদের মনের আগ্রহ | আমরা যদি কোনো কাজে আগ্রহ প্রকাশ না করি তবে টেকনিক মাথার মধ্যেই থেকে যাবে কাজে প্রয়োগ অসম্ভব | স্টিফেন হকিং বলেছিলেন যদি আমাদের এই বর্তমান আমিটা অতীতে যেতে পারত তবে আর কোনোদিন বর্তমান আমিটা আর কখনো সময় নষ্ট করতো না | আমাদের সর্বদা এন্ডি ওয়ারহোল এর কথাটি মনে রাখা দরকার “তারা সব সময় চিন্তা করতো সময় সব কিছু বদলে দিবে কিন্তু আসলে বস্তুত এটাই যে তাদের নিজেদের পরিবর্তন করলেই সময়ের পরিবর্তন আসবে” |

টপিকঃ

Imran Matubber

রাইটার্স ক্লাব বিডি টিমের হেড অফ কনটেন্ট রাইটিং পদে নিয়জিত স্বপ্ন পিপাসু এই ছেলেটি, স্বপ্ন দেখে এই দেশকে নিয়ে অবিরত | ১৮টি সংগঠনে সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টায় তিনি এই দেশের জন্য নতুন কিছু করার জন্য বিভোর | পাগল টাইপের এই ছেলেটা গল্প করতে আর ঘুরতে খুব পছন্দ করে | সম্পর্কের ব্যাপারে সে খুব সেনসিটিভ একবার যদি কোনো সম্পর্ক হয়ে যায় তবে সে প্রাণপনে সম্পর্ক রক্ষা করতে প্রস্তুত | ছোট বেলা থেকে তার একটাই ইচ্ছা সোনার বাংলা গড়ার কারিগর হতে চায় সে |

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close