রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

ঘুঘু

ভায়োলেন্স_এ্যালার্ট!!!

১.
‌ ‌ ‌ ‌ ‌খপ করে চার বছরের ঘুমন্ত মেয়েটার পা দুটো ধরে উল্টে পেছন থেকে ঘুরিয়ে সামনে ফ্লোরে একটা আছাড় দিলাম কাপড় কাঁচার মতো করে। মাথাটা কট করে উঠলো ফ্লোরে বাড়ি লেগেই। এক বাড়িতেই মেয়েটা জেগে গেছে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে। চিৎকার করে উঠলো জেগে। দ্রুত আবার মেয়েটাকে মাথার পেছন দিক থেকে ঘুড়িয়ে আরেকটা আছাড় মারলাম ফ্লোরে খিঁচে। এবারও মাথাটা কটমট করে উঠলো ফ্লোরে বাড়ি খেয়ে। মেয়েটার কান্না বন্ধ হয়ে গেছে। চিৎকার করতে গিয়ে এবার হিটকা লেগে গেছে। মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না আর। মুখ হা হয়ে আছে। চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার মাথা ফেটে গেছে। হিমোগ্লোবিনের লাল রং বের হচ্ছে চুল বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় চুইয়ে চুইয়ে। চকচকে পরিষ্কার সাদা ফ্লোরে হিমোগ্লোবিনের লাল রং কি সুন্দরই না দেখাচ্ছে। ফোঁটায় ফোঁটায় হিমোগ্লোবিনের লাল রং গুলো জড়ো হতে শুরু করেছে। বাহ্! লাল রং চুইয়ে পড়ে পড়ে কালচে লাল হতে শুরু করেছে। কি সুন্দর!!!
‌ ‌
‌ ‌ ঘাড় বাম পাশে কাত করে দেখছি তাকিয়ে তাকিয়ে। কাপড় কাঁচার মতো দিলাম আরো কয়েকটা বাড়ি ইচ্ছে মতো ফ্লোরে। মেয়েটার মাথার হাড় কয়টা আস্ত আছে। কে জানে? এতো জানার প্রয়োজন নেই!
আমার তো মজাই লাগছে! কাপড় কাঁচার মতো করে একটা চার বছরের বাচ্চা মেয়ের মাথা কাঁচছি! সেটা আবার ফ্লোরে বাড়ি লেগেই কটমট কটমট করে! দারুণ না!

‌ ‌ ‌ এবার দৌঁড়ো গিয়ে স্টোর রুম থেকে ছোট ভাই এর বড় ক্রিকেট ব্যাটটা আর ফল কাটার সব থেকে বড় ধারালো ছুড়িটা এলাম নিয়ে। আজ ঐ ক্রিকেট ব্যাটটা দিয়ে আমিও খেলবো। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে খেলে বল মারে। আর আমি মানুষের বাচ্চার মাথা দিয়ে খেলবো! বাচ্চাটাকে মানুষের বাচ্চা বলে মনে হচ্ছে না আমার কাছে। ও মানুষের বাচ্চা হলে এমনটা করতো না।
সে যাই হোক, ইচ্ছে মতো উড়াধুড়া উথাল-পাতাল বাড়ি মেরে মেরে খেললাম বাচ্চাটার মাথা দিয়ে। লাল রং এ ফ্লোর মাখামাখো হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত বাড়ি দিতে দিতে মাথা পুরোটাই ফেটে গেছে। খিঁচে শেষ বাড়িটা দিতেই কিছু একটা ছিঁটকে আমার চোখে-মুখে এসে লাগায়, মুখ ডান দিকে ঘুরিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি। আবার ঝটপট তাকিয়ে দেখি চোখ মেলে। মাথার হাড় ফেটে চৌচির হয়ে দু’ভাগ হয়ে ক্রিকেট ব্যাটটা সোজা ঘিলুতে গিয়ে লাগেছে। কি সুন্দর পিচ্চি লাল রং এ মাখামাখি একটা টগবগে ঘিলু! ঘিলুটা মাথার থলির ভেতর থেকে নিয়ে হাতের মুঠোয় তুলে কচলে দিই দু’হাতে। ক্যাঁতক্যাঁত করে ঘিলুটা আমার হাতের মুঠো থেকে ভাগ ভাগ হয়ে আঙ্গুলের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে ফ্লোরে গড়িয়ে পড়ে। ফ্লোর থেকে ভাগ ভাগ হয়ে যাওয়া ঘিলু আবার মুঠোয় ভরে নিয়ে কচলে দিই দু’হাতে। পরপর আরো তিন-চারবার একই কাজ করায় ঘিলু এবার আঠালো আঠালো হয়ে গেছে। সব আঠালো ঘিলু এবার মুঠোয় তুলে ছুড়ে মারি। আঠালো ঘিলু এদিক ওদিক ছিটকে ফ্লোরে আর দেয়ালে গিয়ে লাগে। ধুর! পেইন্টিং করা দেয়ালে আঠালো ঘিলু লেগে এখন বেখাপ্পা লাগছে। লাগুক! তাতে আমার কী?

‌ ‌ ‌ ‌ ছুড়িটা নিলাম ডান হাতে তুলে। ঘেঁচ করে ছুড়িটা মেয়েটার গলায় দিলাম বিঁধিয়ে। ছুড়িটা গলা থেকে তুলে আবার ঘেঁচ করে গলায় বিঁধাই, আবার তুলি, আবার বিঁধাই, আবার তুলি, আবার বিঁধাই। মজা তো! এবার ছুড়িটা দিয়ে গলার নাসিকা কেটে দিই। ফিনকি দিয়ে গলগল করে লাল রং বের হচ্ছে। হিমোগ্লোবিনের লাল রং এ আমার হাতদুটো মাখোমাখো হয়ে গেছে, সেই সাথে পড়নের জামা কাপড় সহ ফ্লোর। হোক! তাতে কী?
ছুড়িটা থেকে টপটপ করে লাল রং গড়িয়ে ফ্লোরে পড়ছে। এবার বুকের উপর ফতুয়াটা কেটে বুকের বাম পাশ বরাবর খিঁচে ছুড়িটা বসিয়ে দিয়েছি। বিঁধে যাওয়া ছুড়িটা তুলে পেটের উপর কয়েকবার বিঁধিয়ে দিই এলোপাতাড়ি । ছুড়ি পেটে বিঁধিয়ে টেনে টেনে গলা পর্যন্ত এনে ছিঁড়ে ফেলি মেয়েটার নাদুসনুদুস নরম তুলতুলে শরীরটা। বাচ্চাদের শরীর এতো তুলতুলে হয় কী করে? খিঁচে একটা টানেই ঘেঁচ ঘেঁচ করে শরীরের চামড়া দু’ভাগ হয়ে গেছে। দু’হাতে দু’দিক থেকে চামড়া টান দিতে পেট থেকে গলা পর্যন্ত আলগা হয়ে হা হয়ে গেছে। পেটের ভেতরে ঘ্যাঁত করে দুহাত ঢুকিয়ে টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে সব নাড়িভুড়ি বের করে নেই। এবার পেট থেকে একটু উপরের দিকে হাত ঢুকিয়ে হাতড়ে হাতড়ে এগিয়ে যাই বুকের ভেতর থাকা ধুকপুক ধুকপুক করা হৃৎপিন্ডের দিকে। বাম হাতে হৃৎপিণ্ডটা ধরে ডান হাতে ছুড়িটা দিয়ে পরপর দুটো টান দিতেই আস্ত হৃৎপিণ্ডটা আমার হাতে চলে আসে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো কিলবিল কিলবিল করে হৃৎপিণ্ডটা এখনও ডিপডিপ ডিপডিপ করে নড়ছে! কিছুক্ষণ তাকিয়ে তাকিয়ে হৃৎপিণ্ডের লাফানো দেখার পর যখন দেখি না হৃৎপিণ্ডের কিলবিল করে লাফানো কমছে না তখন দু’হাতের মুঠোয় দিয়ে খামচে কচলে ধরি। হৃৎপিন্ডটা কয়েকবার খামচে কষে কচলে ধরতেই কিলবিল করে লাফানো বন্ধ হয়ে গেলো। আর হৃৎপিন্ডের ভেতর থেকে হিমোগ্লোবিনের লাল রং আমার হাত বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে ফ্লোরে গড়িয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডটা ফ্লোরে রেখে ছুড়ি দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ছুঁড়ে ফেলে দিই। টুকরো টুকরো হৃৎপিন্ড এদিকে ওদিকে ছিটকে পড়ে ফ্লোরে লুটোপুটি খাচ্ছে।

‌ ‌ ‌ ‌ হঠাৎ কলিংবেল বেজে ওঠে। কেউ হয়তো এসেছে। ধীর পায়ে হেঁটে দিয়ে দরজার লক খুলে দিই। দরজার ওপাশে থাকা মাদার ইন্ডিয়া বিকট একটা চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলো। আরে! আমাকে দেখে এভাবে চিৎকার করার কী আছে? আমি কি বাঘ নাকি ভাল্লুক যে তাকে খেয়ে ফেলবো? যত্তোসব আদিখ্যেতা!

২.

‌ ‌ ‌ আমি ক্ষতবিক্ষত বাচ্চাটার শরীরের দিকে অপলক আছি তাকিয়ে।
এ অবস্থায়ও বাচ্চাটাকে কি সুন্দরই না দেখতে লাগছে! এক কথায় যাকে বলে একদম ঝাক্কাস!
‌ ‌ ‌ পাশের রুমে বড় আপু বিলাপ করে করে চিৎকার করে কাঁদছে আর ফিট হয়ে বারবার অজ্ঞান হচ্ছে। আসলে কাঁদবেই না কেন? ওর একমাত্র মেয়েটাকেই তো নিজ হাতে ১ ঘন্টা আগে টুকরো টুকরো করে কেটেছি। বড় আপুর বোঝা উচিত প্রিয় জিনিস নষ্ট হয়ে গেলে কেমন লাগে? আমারও তো ওমনই কষ্ট লেগেছে। আমার প্রিয় জিনিস দুটো বড় আপুর বাচ্চা মেয়েটা কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। তাই আমিও বড় আপুর ঐ বাচ্চাটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নষ্ট করে দিয়েছি। তো কি হয়েছে? এভাবে বিলাপ করে কাঁদার কি আছে? আশ্চর্য!

কয়েকজন লোক হুড়মুড় করে আমার রুমে এসে ঢুকলো। একটা মহিলা আমার হাতে হাতকড়ি পড়াতে শুরু করেছে। ঘাড় বাম দিকে কাত করে ঢ্যাবঢ্যাব করে দেখছি সব তাকিয়ে তাকিয়ে। একজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক হঠাৎ আৎকে উত্তেজিত হয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো,
-” একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে এভাবে কেউ মেরে! কেন মারলেন বাচ্চাকে? “
‌ ‌ ‌ ‌ ‌ ‌ আমি আমার রুমের বারান্দার দিকে ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল তাক করে বলি ওঠি,

  • “যেন কতযুগ পর মিলছি যুগলে যুগলে
    ‌ ‌ ‌ কতব্যথা ক্ষয়ে মনোরম এই শব্দ যোজনা
    ‌ ‌ মন আর দেহ পাশাপাশি কথা ক’য়, বলে ঘুঘু
    ‌ বলে চলো ঘুরে আসি, চল দেখি স্বর্গ সুষমা।

আমি বাচ্চাটাকে কেটে নষ্ট করে দিয়েছি কারণ বাচ্চাটা আমার ঘুঘুর দু’টো বাচ্চা কেটে নষ্ট করে দিয়েছে!”

~ নীলাদ্রি মেহেজাবীন নীল

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close