গল্পসাহিত্য

গল্পঃ পরিনতি

 

বেলা সাতটা নাগাদ লুনার দেখা করার কথা ছিল রাহাতের সাথে,লুনা এবং রাহাত দুজনেই ব্যাচমেট,শুধু ব্যাচমেটই না তারা ভাল বন্ধুও,
এইতো ইয়ার ফাইনাল এক্সামটা সামনেই,এক্সামের সাজেশন নেয়ার জন্যই রাহাতের সাথে লুনার দেখা করার কথা,প্রথম বর্ষের ছাত্রী ওরা দু’জন।রাহাত এবং লুনা দুজনেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

লুনার বাড়ি চাঁদপুর,এখানে এডমিশন নিতে গিয়েও ওর কম কিছু হয়নি,বাবা নেই ওর,বছর দুয়েক আগেই মারা যান,পড়াশোনায় বেশ এগিয়ে মেয়েটা তাই কলেজে থাকাকালীন স্যাররা তার পড়ার খরচ চালাতো।এমনকি তার মায়ের বারণ শর্তেও অধ্যাপক স্যার ইন্টার রেজাল্ট বেরুনোর পর নিজের টাকা খরচ করিয়ে লুনাকে কোচিং করিয়ে এডমিশন করিয়েছে এখানে।লুনা রসায়নের উপরে চান্স পেয়ে যায়,ভাগ্য ভাল মেয়েটার।
এডমিশন টেস্টে টিকে গেল।এরপর থেকে এসে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশে একটা হোস্টেলে,এখানে তার কিছুই চেনা-জানা নেই,রাহাত নিজের করা টিউশন গুলো লুনাকে দিয়ে দেয়ার পর থেকেই লুনা মাকে কিছু টাকা পাঠায়,আর বাকি যা থাকে তা দিয়ে কোনরকমে মাস কাটায়।

আজ ঝুম বৃষ্টি নেমেছে তাই মনেহয় লুনা আসতে পারেনি,আর এই শহরের কিছুই জানেনা মেয়েটা,হোস্টেলের আঙ্গিনার পাশাপাশি এলাকাতেই ওর ২টা টিউশন করায়,এর চারপাশে ক্যাম্পাসের এলাকা অবধিই তার চেনাজানা,এখানে এসে একমাত্র বন্ধু রাহাতকেই পেল প্রথম থেকে,লুনার অভ্যেস কারো সাথে ঘেঁষে পরিচিত হতে পারেনা,রাহাত নিজেই আগ বাড়িয়ে বন্ধুত্বর হাতটা বাড়ালো।তাই জন্যই হয়তো ভাল বন্ধুত্ব ওদের।

রাহাত কুমিল্লার ছেলে,সে ও বেশি চিনেনা এই শহরের কোনকিছুই,তবু লুনার থেকে ভাল চেনে,রাহাতের বাবার টাকাপয়সার কমতি নেই,ছেলেটা ভদ্র প্রকৃতির।
রাহাত বাসায় ফিরল লুনাকে ফোন দিলো লুনা জবাবে বলল “রাহাত কাল তো অফ ডে আমাদের পরশু থেকেই তো এক্সাম,আমি বরং কাল সকালে তোমার বাসার পাশ দিয়ে রিকশায় করে যাব।তুমি যে একটা বিচে নিয়ে গিয়েছিলে সেদিন সেখানের থাকা বট গাছটার নিচে বসেই নাহয় সাজেশন গুলো নিব।”
রাহাত কথা না বাড়িয়ে বলল “আচ্ছা”।

পরেরদিন সকাল সাড়ে দশ’টা নাগাদ রাহাতের বাসার সামনে লুনা আসলো।রিক্সায় দুজন বসলো,মিনিট পাঁচেক রিক্সা যেতে না যেতেই রিক্সার সামনে এসে দাঁড়ালো শুভ।

শুভ লুনাদের ক্যাম্পাসের রসায়ন বিভাগের মনির স্যারের ছেলে।
৩য় বর্ষের ছাত্র ছেলেটা,লুনা ঠিকমতো চিনেওনা কিন্তু রাহাত চিনে ফেলল,শুভ ছেলেটা রাহাতকে বরাবরের মতো বলে দিয়েছে লুনার সাথে ওর লাইন ধরিয়ে দিতে,লুনাকে ওর ব্যপারে বলতে,শুভ ছেলেটার ক্যারেক্টর ভালনা,সিনিয়র ভাইদের মুখে শুনেছিল রাহাত,জেনেশুনে বান্ধুবিকে এমন কায়দায় ও ফেলবে না,আর লুনাও এসবে রাজি হবেনা,এই ভেবে রাহাত এই ব্যপারে লুনাকে কিছুই বলেনি।
রাহাত টপ করে রিক্সা থেকে নেমে গেল।
” লুনা তুমি এখন বাসায় যাও,ভাইয়ার সাথে আমার কিছু কাজ আছে”।
লুনার খটকা লাগলো তবু বাসায় ফিরলো।বাসায় এসে বসা না মাত্রই লুনার নাম্বারে ফোন আসলো।
“হ্যালো কে বলছেন”
লুনা “জ্বী আমি লুনা”
“নীল শার্ট পড়া একটা ছেলে এখানে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে,ডায়ালে আপনার নাম্বার প্রথমে পেলাম,আপনি কি ছেলেটাকে চিনেন?”
“হ্যাঁ চিনি ও আমার বন্ধু”।
উনাকে অচেতন অবস্থায় মেরে কিছু ছেলে চলে গেল এখন তাহলে আপনি এই ঠিকানায় এখনই আসেন।”
লুনা আর দেরি করল না,তাকে ঐ এলাকাদিন একটা হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।
লুনা দৌড়ে আসলো,এসে রিসিপশন থেকে রুগীর নাম বলে রাহাতের সিটে গেল।
দরজা খুলতেই লুনা হতভম্ব
হয়ে গেল।
“রায়ায়ায়াহায়ায়াত????
রাহাত…..
এ কি অবস্থা হলো তোমার কারা করলো এমন,কি করে হলো এসব রাহাত!বলো আমায়,বলো??

রাহাতের হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ,যেই লোকটা লুনাকে ফোন দিয়েছিল সেই লোকটা রাহাতের বাবাকেও তখন ফোন দিয়ে বলছিল,রাহাতের বাবার ফোন আসলো।
“বাবা কি হয়েছে তোর,তুই তো এমন না,ওরা কেন মারলো তোকে,আমি পথে আছি,আসছি তোর কাছে”।
এই বলে ফোনটা কেটে দিল।
” রাহাত কি হয়েছে তোমার,কখন থেকে জিজ্ঞেস করছি,কিছু তো বলো,ঐ ছেলেগুলা কারা?তুমি তো বললে তোমার বড় ভাই,তাহলে এমন অবস্থা কেন তোমার?”
“আগে তো বাড়ি যাই মহারাণী,
বরের মাথাটাও খাবে যেইভাবে জিজ্ঞেস করতেসো,উহু!
ঐ ছেলেগুলা আমার কাছে কিছু টাকা পেত,দিতে পারিনি ঠিকমতো তাই মেরেছিল খানিক।”
এইসব বলে রাহাত চুপ করে গেল।
পরের দিন লুনাদের এক্সাম,রাহাত এই শরিরেও এক্সাম দিতে আসলো।
এক্সাম শেষে লুনা বের হলো,
হঠাৎ শুভ ছেলেটা লুনার সামনে আসলো,আশেপাশে শুভর ভয়ে সবাই সরে গেল,শুধু দু’একটা ছেলে ছিল শুভর বন্ধু।
“গুড নুন লুনা,এইত্ত্য আজকে অবশেষে তোমায় পেলাম,এক্কেবারে কাছাকাছি”।
“মানে কি আপনি কে?”
“আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড,আচ্ছা অতশত জানতে হবেনা,লক্ষি মেয়ের মত বলো এক্সাম কেমন হয়েছে?
“কোথায় শিখলেন এসব আচরণ, দেখি জায়গা দিন আমি আসব।
ভদ্রভাবে কথা বলার মানসিকতা অর্জন করুন।
আমি আপনার ঘরের বউ না।”
বিরক্তির সঙ্গে শুভ বলল
“আরে যাও যাও কতদিন যেয়ে যেয়ে থাকবে আমিও দেখব,একটা ছাগলের বাচ্চার সাথে হাটতেই তো পারো,ভাল কিছু তো পারোনা”।
শুভকে তার বন্ধুদের সামনে অপমান করায় তার মারাত্মক জেদ উঠে,আর বলে,” ঐ মেয়েকে যদি আমি তোদের সামনে আমাকে জড়িয়ে না ধরিয়েছি আমার নামও শুভ না,আচ্ছা বাজি ধরলাম,ঠিক তো??”
বন্ধুরা হৈ-হুল্লোড়ের সাথে বলল “ফাক্কা”
লুনা কাঁপতে কাঁপতে গেইটের সামনে আসতেই রাহাতের সাথে দেখা,” রাহাত!ঐ ছেলেটার কাছে তুমি এই জন্য মার খেয়েছো তাইনা?আমার জন্য তুমি মার খেলে?কেন করলে এমন?”
“আচ্ছা বাদদেও সেসব,কাল ছেলেটার কাছে ক্ষমা চেয়ে এসো,নাহলে বাড়াবাড়ি করবে।”
“মানে হয়না এসবের,আমি যাব অকারণে ক্ষমা চাইতে কিসব বলো”।
পরেরদিন লুনা ক্যাম্পাসে ডুকতে না ডুকতেই দেখে মাটিতে কতগুলো গোলাপের মাঝখানে, “আই লাভ ইউ লুনা # শুভ ” লিখা লুনা না দেখার ভান ধরে ক্লাসে গেল।
কখনো গোলাপ,কখনো বেলুন পাঠানো কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে শুভ ডিস্টার্ব করা, এভাবেই চলছিল মাস দুয়েক।
এভাবে দিনদিন লুনা ভয় পেতে লাগলো,এই ছেলেটা লুনার ধার ছাড়বেনা,এমন করে কেন।একে তো প্রফেসরের ছেলে,তার উপর টাকাপয়সা ওয়ালা,লুনার কি অবস্থা হবে,এসব থেকে মুক্তি পাবে কিভাবে।
ভাবতে ভাবতে ডিপ্রেশনে ডুবে গেল লুনা,
এইভাবে চললে ওর পড়াশোনাটাই নেহাত বন্ধ হবে।
পরের দিন লুনা ক্যাম্পাসে রাহাতের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল।
এমন সময় ওদের ব্যাচমেট মিলি আসলো।
“লুনা শুন,কথা আছে!”
“কি কথা বল”
“লুনা শুভ ভাইয়াকে দেখলাম একটু আগে,কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এই চিঠিটা ধরিয়ে দিয়ে বলল,লুনাকে চিঠিটা দিও।”
চিঠিটা হাতে নিয়ে লুনা পড়া মাত্রই ক্যাম্পাস থেকে দৌড় দিল।
লুনা দৌড়ে একটা ব্রিজের সামনে আসলো,
“শুনুন!এমন করবেননা,।সুইসাইড করবেননা আপনি,প্লিজ”
“না লুনা আজ আমি ব্যর্থ তুমি ছাড়া,অনেক সহ্য করেছি,এবার চলে যাব,তোমায় একজীবনে ভাল যদি নাই বাসতে পারলাম তবে বৃথা এ জীবন।আমি চলে যাচ্ছি,এই বলে জাম্প দিবে।
শুনুন!
প্লিজ শুনুন,
আআয়ামি রাজি।”
এটাও ছিল শুভর একিটা ফন্দি,
শুভ দৌড়ে এসে বলল,সত্যি লুনা তুমি আমায় ভালবাস?
ওহ হো……আমি যে কত্ত হ্যাপি আজ,
আমার থেকে সুখী এ পৃথিবীতে কেউ নেই।”
ক্রমশ শুভর ফাদে পা দিতে লাগলো লুনা,প্রথম প্রথম শুভকে সে না দেখতে পেলেও এখন ছেলেটার জন্য ও মারাত্মক দুর্বল।
যেই ছেলেটা সুইসাইড করবে আমার জন্য,সে নিশ্চিত আমায় খুব ভালবাসে”।
কখনো তাদের রেস্টুরেন্টে দেখা করা,কখনো এদিক,সারারাত ফোনালাপ,
আজকাল লুনা পড়াশোনা আর বাড়িতে থাকা মা কে, বেস্টফ্রেন্ড রাহাত কে সে এক দিকে রাখলো।
আর একদিকে তার শুভর সাথে প্রেম,দিনদিন প্রেম প্রেম খেলতে লাগলো,
রাহাত এই ব্যপারে কিছুই জানেনা,তবে চালচলন দেখে হাটাচলা দেখে ক্যাম্পাসে রাহাত আজকাল বুজে নিলো,এটা সন্দেহজনক।
আজকাল লুনা রাহাতকেও সময় দেয়না,দিনরাত ফোনে কাটায় লুনা।
শুভর জ্বর ছিল ২-৩দিন লুনাকে ফোনে বলছিল শুভ।
শুভর সাথে আজ লুনা দেখা করবে।
“কি হলো শুভ?এমন মন খারাপ কেন তোমার?
” লুনার হাতে হাত রেখে বলল লুনা আমি হেরে গেছি,সত্যি হেরে গেছি।
আজ আমার বন্ধুগুলো বলল তুমি আমায় ভালবাসনা,এসব অভিনয় করছো।
কাল পথেঘাটে মানুষ বলবে,কিভাবে সইবো বলো”
এই বলে কান্নার ভান ধরলো শুভ।
“কি করতে হবে আমার শুভ”
“কিচ্ছুনা শুধু আমার ঐ ৩-৪বন্ধুর সামনে আমায় একটু জড়িয়ে ধরে বলবে,ভালবাসিই।”
লুনা অনেক্ষণ চুপ করে থেকে শেষে রাজি হলো।
“আচ্ছা বলব আমি”
“লাভ ইউ বেবি”
পরের দিন ক্যাম্পাসে লুনা আসল,শুভর বন্ধুদের সামনে।
কি বলবে আজ লুনা??
লুনার আশপাশে কি আছে সে দেখছেনা,শুধু সামনে দেখছে শুভর ২-৩জন ফ্রেন্ডকে।
ভীষণ ঘামাচ্ছে লুনাকে।
“কি হলো লুনা বলো তুমি যা বলবে আমায়”
লুনা কাঁপছে ভীষণ,আর চুপ করে থাকলো।
“বলো লুনা বলো”

লুনা চোঁখ বন্ধ করে জোর গলায় চিৎকার করে বলে উঠলো
“আমি ভালবাসি তোমায় শুভ,হ্যাঁ আমি ভালবাসি শুভকে।”
চোঁখ মেলতেই দেখে তার জন্য শতশত শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হাসছে,আশপাশে সব ছেলেমেয়েরা বুকে হাত দিয়ে যেন লুনার তামাশা দেখছে।
লুনা চারপাশটায় তাকাচ্ছে আর কেন জানি খুব কাঁদছে।
শুভ বলে উঠলো,
এই দেখলি তোরা,দেখলি??
লুনা মেয়েটা আমায় ভালবাসি বলল,চিৎকার করে জোর গলায় বলল দেখো তোমরা এই সেই লুনা,যে আমাকে ধিক্কার দিয়ে বলেছিল সে কি আমার ঘরের বউ নাকি।
আজ প্রমাণ হয়ে গেল,সে আমার পিছনে ঘুরে।
আমি ঘুরিনা,আমার বাবার টাকা আছে দেখে আমার পিছনে লাগছে।
এই তার প্রমাণ,তোর মত ক্ষ্যাত,গেঁয়ো একটা মেয়েকে ভালবাসব আমি?
অসম্ভব,সেটা কাল্পনিক বাস্তব নয়।”
লুনা চোঁখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে শুধু চোঁখের পানি ঝরাচ্ছে।
“শুভ তুমি না আমায় ভালবাসো”?
” ভালবাসা না ছাই আমি এসব ভালবাসতে জানিনা।”
কিরে এই গেঁয়োটা তো এবার কান্নাকাটি শুরু করছে তোরাও বল কিছু বন্ধু।”
বন্ধুরা হাসতে হাসতে বলল কিছু টাকার জন্য তোমার সাথে ও এমন করছে।
শুভ বলে উঠল,”আসতে পারো লুনা”।
চারপাশের স্টুডেন্টদের ভীড়ে৷ রাহাতও দাঁড়িয়ে।
রাহাত লুনার হাত ধরে বলল “চলো লুনা বাসায় চলো,”
লুনা রাহাতের হাত ঝাড়ি মেরে ফেলে দিল।
দৌড়ে চলে আসল হোস্টেলে।
দরজা বন্ধ করার শব্দ নিচ থেকে শুনল রাহাত।খোলার চেষ্টা করল লাভ হলোনা।
পরের দিন,এরপরের দিন এভাবে ২-৩দিন হয়ে গেল লুনার রুম বন্ধ থাকে,ফোনও বন্ধ থাকে।এরপর রাহাত আসলো লুনার বাসায় হোস্টেলের পাশের রুমের একটা মেয়ে বলল “লুনা আজ খুব ভোরে ব্যাগ গুছিয়ে চলে যায়।”
আজকাল শুভ দেখতে চাচ্ছিল লুনার মুখ,মেয়েটা এখন আর ক্যাম্পাসে আসেনা,প্রায় সপ্তাহ খানেক।
রাহাতকে ডেকে নিয়ে শুভ জিজ্ঞাসা করল।
লুনাকে দেখেছে কিনা,কেন আসেনা।
উত্তরে রাহাত “জানিনা”
বলা ছাড়া কিছুই বললনা।
আসলে শুভ নিজেও জানেনা।।
ভালবাসার নাটকের অজান্তেই ও লুনাকে ভালবেসে ফেলল।
বহু চেষ্টা করেও মাসখানেক ধরে লুনার কোন খোঁজ পায়নি,শুভও আর রাহাতও।
শুভ নিজেই ক্যাম্পাস থেকে লুনার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা এরেঞ্জ করলো।
আর বন্ধুদের বলল।
“আমি লুনাকে সত্যিই ভালবাসি রে,ওরে আমার খুঁজে পেতেই হবে,আমার ক্ষমা চাওয়া বাকি,ভালবাসি বলা বাকি”।
কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
লুনার গ্রামের বাড়িতে শুভ আর তার বন্ধু আসলো।
বাড়িতে ভাঙ্গাচোরা একটা ঘর আছে,তালা দেওয়া সব।
তবে লুনার কি হলো।
বাড়ির পাশে একজনকে জিজ্ঞেস করল ওরা কোথায়।
বলল
“গেরামের মেয়ে পড়ালেখা করবে ভালকথা,ছেলেদের সাথে ডলাডলি করাতে নাকি লুনাকে কলেজ থিকা বের করে দিছে,এই চুনকালি মুখে নিয়ে মা,মেয়ে দু’জনেরই হদিস নেই মাস দুয়েক।”
এভাবে লুনাকে হারাবে শুভ ভাবেনি,অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েও তার আত্মীয়রা লুনাকে বের করতে পারেনি।
শেষে ব্যর্থ হয়ে শুভ নিজেই রাহাতের কাছে আসলো।
“রাহাত তুমি তো আমার ছোট ভাই,অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমায়,প্লিজ আমার লুনাকে বের করে দেও।”
“লুনার এই সবকিছুর জন্য আপনি দায়ী,আমি নিজেই আজ লুনাকে হারিয়ে ঠিক হতে পারিনি।”
এভাবে দিন যায়,মাস যায় শুভ এখন আর বন্ধু আড্ডায় নামেনা,কোন মেয়ের দিকে তাকায়না,বাবা-মাকে একটাই কথা তার লুনাকে এনে দিতে হবে।
আজ প্রায় দেড় বছর হলো লুনার সাথে হওয়া ঘটনার।
শুভ আজও লুনাকে ভালবাসে।
কিন্তু যখন লুনা ভালবাসলো তখন মূল্য দেয়নি।
শুভর বন্ধু মিরাজের আজ জন্মদিন,ওর বাড়ি রাজশাহীর একটা গ্রাম্য এলাকায়।শুভ সবসময় মন খারাপ করে থাকে,তাই গ্রামের বাড়িতে যাবে আজ বন্ধুরা সাথে শুভকেও নিবে।
এখানে এসে দেখে মিরাজের বাবা গ্রামের মোড়ল,উনার চোঁখেমুখে আগুন।
শুভরা বাড়িতে ডুকা মাত্রই।
“তোমরা খেয়ে বিশ্রাম নেও,বিকেলে বেরুবো আমি সহ।”
কথামত বিকেলে ওরা বেরুলো।
এক শিশু আশ্রমে এসে উঠলো।
প্রতিবছর মিরাজের জন্মদিনে ওর বাবা এখানে ছোট ছেলেমেয়ে গুলোকে পায়েশ দেয়।
মিরাজ,শুভ আর বন্ধুরা সবাই দাঁড়িয়ে আছে,একটা মেয়ের পেছন থেকে দেখা যাচ্ছে,নীল রঙ্গের শাড়ি পড়া,বেনুনি গাঁথা,বোধহয় চশমা পড়া।
শিরনি দেয়া শেষ যেই মেয়েটা এদিকে তাকালো।
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।
ও আর কেউ নয়,লুনা।
শুভ দৌড়ে এসে লুনার কাধে হাত রাখলো।হাসছে আর কাঁদছে….
“কই ছিলে তুমি লুনা,কেন করলে এমন,কোথায় হারিয়ে গেলে????তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবনা”
মেয়েটা কাধ থেকে হাত নামিয়ে বলছে “কে আপনি?চিনিনা আপনাকে,এই বলে সোজা গিয়ে ওদের বরাবর একটা রুমে ডুকে পড়ল।”
শিশু আশ্রমের বৃদ্ধ লোকটি ওদের কাছে এসে বলল,ওর স্মৃতিশক্তি নেই বাবা।
ওর খালার বাড়ি এখানে,ওদের বাড়ি চাঁদপুর।
একটা ঘটনার পর এখানে চলে আসে,কিছুদিন পর ওর মা মারা যায়।
ও আত্মহত্যা করতে যায়,সেখান থেকে মাথায় আঘাত পায়।
এখন ওর খালা ওকে এখানে রাখছে,যেন ছেলেমেয়েদের সাথে থেকে কিছুটা ব্যস্ত থাকে।
এটা ডাক্তারের পরামর্শ।।।
[সংক্ষিপ্ত] [এভাবে ছলনা করে ভালবাসার পরিনতির সামিল লুনা হলো।
কাল আমরাও হতে পারি,যদি এভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগী।
জীবন অনেক সুন্দর।
তাই পথ চলতে নিজকে চিনতে হবে আমাদের।এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের নিজেদের উপর সচেষ্ট থাকতে হবে।] মূল্যবান সময় নষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।❤

টপিকঃ

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close