কবিতাসাহিত্য

এ যেনো আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন ভুলে যেতে লাগলাম!

কবিতাঃ (১)

সুহাসিনী নীলা

একদিন এক শুকনো পাতায় ঘেরা ভেজা রাস্তায়,

নীল রঙের শাড়ী পড়ে হেঁটে যাচ্ছিলে তুমি।

তখন রাস্তার এক পাশে বসে আমার কবিতার খাতায় ছন্দ মেলানোতে ব্যস্ত থাকা আমি,

হঠাৎ চোখ পড়ে যায় তোমার নীল রঙের শাড়িটির দিকে।

এ যেনো আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে

তিনশো পঁয়ষট্টি দিন ভুলে যেতে লাগলাম!

কি আশ্চর্য! নীল রঙের শাড়ীর দিকে তাকালে কি প্রেম হয়ে যায় বলছো?

যখন তোমার কাজল কালো চোখের দিকে আমার চোখ পড়ে গেলো তখন?

তখন তোমার ঐ চোখ দুটো আমায় মুগ্ধ করে বলে দেয় “প্রেমে পড়া নয় তো বারন!”

আমার চোখের ইশারাও এটি বুঝে

তোমায় বলে দেয় “প্রেমেরও তো আছে কত কারন!”

তা শুনে তখন তুমি হয়তো অন্যদিকে তাকিয়ে হাসছো,

গোলাপী ঠোঁটের একচিলতে হাসি দিয়ে।সেই সময় যেনো মৃদু বাতাসে তোমার খোলার চুলের মন মাতানো সুগন্ধীর ঢেউ,

আমায় মাতাল করার বায়না করেছিলো হয়তো!

আমি কবি, কাব্যের ভাষায় যদি তোমার একটা নাম দিই,

সুহাসিনী নীলা কাব্যের ভাষা তুমি বুঝবে কি?

যদি এমনও দিন আসে শত প্রেমের কাব্যের অক্ষরগুলোর বসে মেলা ,

তুমি কি হবে আমার প্রেমের কাব্যের সুহাসিনী নীলা?

 

কবিতাঃ (২)

রোজ কিংবা একদিন 

আমি বলবো না তোমায় রোজ আকাশে জোৎস্না দেখা হয় না,

শুধু বলবো একদিন জোৎস্না রাতে তোমায় নিয়ে জোৎস্না দেখার বায়না! 

আমি বলবো না তোমায় রোজ শাড়ীতে তোমায় দেখতে দারুন লাগে,

শুধু বলবো একদিন শাড়ীতে তোমায় 

দেখে যেনো মুগ্ধতার প্রেম জাগে! 

আমি বলবো না তোমায় রোজ দুচোখে কাজল দিলে তোমায় বড্ড লাগে খুব,

শুধু বলবো একদিন তোমার দুচোখের

কাজলটুকু গাঢ় করে দিও,প্রেমে সাগরে না হয় দিবো তবেই ডুব! 

আমি বলবো না তোমায় রোজ খোলা চুলের সুগন্ধ আমার কত ভালো লাগে,

শুধু বলবো একদিন তোমার চুলের সুগন্ধে মাতাল হওয়ার শখ জাগে ! 

আমি বলবো না তোমায় রোজ চায়ের কাপে তোমার ঠোঁট ভেজানো দেখবো,

শুধু বলবো একদিন চায়ের কাপে তোমার ঠোঁট ভেজানোর ছবি আঁকবো! 

আমি বলবো না তোমায় রোজ বিকেলে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন মেঘে ভাসো,

শুধু বলবো একদিন তোমায় সেই নীল আকাশের রংধনু একটু ছুঁয়ে আসো! 

আমি বলবো না তোমায় রোজ “বাড়িয়ে দাও তোমার হাত,আমি আবার তোমার আঙুল ধরতে চাই”

শুধু বলবো একদিন তোমায় হাতের আঙুল ধরে সারাটি পথ হেঁটে যেতে চাই!

আমি বলবো না তোমায় রোজ বর্ষায় তোমায় নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে চাই,

শুধু বলবো একদিন তোমায় নিয়ে সেই বৃষ্টি ধারায় তোমার হাসির শ্রাবন ফিরে পাই!

আমি বলবো না তোমায় রোজ একাকিত্বে নিজের অস্তিত্ব খুঁজো! 

শুধু বলবো একদিন কিংবা আজ তোমার তুমি হয়েই থেকো।।

 

কবিতাঃ (৩)

তোমায় ভেবে লেখা

তোমায় ভেবে লেখা

আমার সকল কবিতার ছন্দ,

আজ মিলিত হয়েছে

তোমাকে নিয়ে লিখবে বলে।

 

তোমার কল্পনায় রোজ

আমার আগমন হয়,

আর আমার কল্পনায়

তোমার আগমনে ভরে উঠে

আমার হৃদয়।

 

তোমায় ভেবে লেখা

আমার ভালোবাসার কাব্য,

কখনও নাকি শেষ হবে না

বলেছে কাব্যের প্রতিটি অক্ষর।

 

তোমায় ভেবে লেখা

আমার প্রেমরোগের চিকিৎসা

আজও তুমি করছো। 

 

তাই,তোমায় ভেবে লেখা

আমার সকল কবিতার ছন্দে

তোমার জন্য করেছি উৎসর্গিত।

 

কবিতাঃ (৪)

“ভালোবাসি ভালোবাসি”

 

ভালোবাসি, ভালোবাসি

শুধু তোমায় ভালোবাসি।

আমার কল্পনা জুড়ে তোমার বসবাস,

আমার শত অনুভূতির দেয়ালে 

যেনো তোমায় নিয়ে লেখা।

তাই ভালোবাসি,ভালোবাসি।

 

আমার মনের আঙ্গিনায় শুধু তুমি,

যদি ভালোবাসার রংধনু আঁকা যায়,

আমার ভালোবাসার জল তুলিতে,

তোমার কাজল কালো চোখের মায়ায়,

যেনো মুগ্ধতার জল ছবি হবে।

তাই ভালোবাসি, ভালোবাসি।

 

তোমার ঠোঁটের কোনে 

এক চিলতে হাসি দেখে,

 মনভোলা আমি হারিয়ে

যাই অন্য এক রাজ্যে,

অন্য এক জগতে।

 

বসন্তের সেই ফাগুন হাওয়ায় 

তোমার হলদে রঙের শাড়িতে,

তুমি অপরুপা, তুমিই মায়াবতী!

তবুও, ভালোবাসি ভালোবাসি।

 

ভালোবাসি শুধু তোমায় ভালোবাসি,

কাছে কিংবা দূরে,

হও নীল আকাশ,

আমি মেঘ হয়ে যাবো তোমার।

 

সমুদ্রের বিশালতার সীমা ছাড়িয়ে,

আমার মনের বিশালতা তোমাকে ঘিরে,

তাই ভালোবাসার শতবর্ষে আমি,

উৎসর্গ করেছি আমার, হাজারো কবিতা এলোমেলো ছন্দে!

কারন??

ভালোবাসি, ভালোবাসি।

 

কবিতাঃ (৫)

যদি কখনো

যদি কখনো প্রেমে পড়তে বাধ্য হই,

তবে তোমার মনের কোনে আমায় একটু জায়গা দিও,

আমি না হয় বুড়ো বয়সেও সেই জায়গাটুকু আগলে রেখে, 

তোমার প্রেমে পড়তে আবারও বাধ্য হবো!

 

যদি কখনো প্রেমে পড়তে বাধ্য হই,

তবে তোমার দুচোখে কাজলটুকু গাঢ় করে দিও,

আমি না হয় বুড়ো বয়সেও সেই কাজলকালো চোখের মায়ায়,

তোমার প্রেমে পড়তে আবারো বাধ্য হবো!

 

যদি কখনো প্রেমে পড়তে বাধ্য হই,

তবে তোমার মন পত্রটুকু আমার ঠিকানায় দিও,

আমি না হয় বুড়ো বয়সেও সেই 

পত্রের উত্তর দিয়ে তবেই মরবো!

 

যদি কখনো প্রেমে পড়তে বাধ্য হই,

তবে তোমার ভালোবাসা শুধু আমার জন্য রেখো,

আমি না হয় বুড়ো বয়সেও সেই ভালোবাসার পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবো!

 

যদি কখনো প্রেমে পড়তে বাধ্য হই,

তবে তোমার অভিমানগুলো আমার জন্যেই রেখো,

আমি না হয় বুড়ো বয়সেও সেই অভিমানগুলো ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করবো!

জানি,বুড়ো বয়সেও প্রেমে পড়তে নেই বারন, 

তবুও তোমার কল্পনায় আমি আসার এই একটাই কারন!

 

কবিতাঃ (৬)

ভালোবাসার অভ্যাস

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

রোজ সকালে সূর্যোদয়ের মতো,

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

জোৎস্না রাতে চাঁদ দেখার মতো।

 

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস   

রোজ তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখার মতো,

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

রোজ তোমায় নিয়ে কল্পনা করার মতো।

 

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

রোজ তোমায় নিয়ে কাব্য লেখার মতো,

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

রোজ তোমায় দেখতে চাওয়ার মতো।

 

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

রোজ তোমাকে “ভালোবাসি” বলার মতো,

তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

রোজ তোমার সাথে প্রেম করার মতো।

 

তাই তোমাকে ভালোবাসার অভ্যাস

তোমাকে উৎসর্গ এই গানে বলে যাই

“আমার ভিতর ও বাহিরে

অন্তরে অন্তরে আছো তুমি হৃদয়জুড়ে।”

লিখেছেনঃ কামরান চৌধুরী

 

টপিকঃ

Kamran Chy

Junior Content Writer

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close