রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল
Trending

এ যুগের সাহিত্যের জগতের উদীয়মান একজন লেখিকা

বই আর মানুষের সম্পর্ক জন্মের পর থেকে ওতপ্রতভাবে জড়িত। খেলার জন্য হোক, ছবি দেখার জন্য হোক ছেড়ার জন্য হোক বই সবসময় আমাদের সাথে থাকবেই।  আমরা সকলেই কোনো না কোনো বই পড়ি। এই ধরুন কেউ পাঠ্যবই পড়ি তো কেও পড়ি গল্পের বই।  এইদুই ধরনের বই এর মধ্যে রয়েছে আবার বিস্তর পার্থক্য, যেমন পাঠ্যবই পড়ার মাধ্যমে আমরা বাস্তবতাকে আঁকড়ে ধরে জীবন চলার পথে আগাতে চাই, আর গল্পের বই এর আশ্রয় নি ঐ ব্যস্ত ক্লান্তিতে ভরা জীবন থেকে কিছু সময় বিরতি নেওয়ার জন্য। একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তির জন্য  মানুষ বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায়। এক্ষেত্রে বই পড়ার অভ্যাস টা সবচেয়ে উপযোগী।  কারণ বই পড়ার মাধ্যমে পাঠকেরা বিভিন্ন ধরনের অনুভূতির সম্মুখীন হয়ে থাকে।  তবে বই এর এসব ছোট বড় অনুভূতি গুলো পাঠক মনে দাগ কাটানোর ক্ষেত্রে লেখকের ভূমিকা অপরিসীম। একজন লেখকের লিখার সার্থকতা ই হলো তা পাঠক মনে সব ধরনের অনুভূতির সঞ্চার ঘটাবে।  যুগ যুগ ধরে এমন অনেক লেখক, কবি, কথা সাহিত্যিক এসেছেন যাদের লেখা এখন পর্যন্ত পাঠক অনুভূতির সঞ্চার করে।একজন লেখকের সার্থকতা ই হলো তখন যখন পাঠক লেখকের লিখা কে অনুভব করতে পারে।কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশ্ব কবি কাজী নজরুল,  সুকুমার রায়, হুমায়ুন আহমেদ ইত্যাদি আরে অনেকে যুগ যুগ ধরে পাঠক হৃদয়ে বাসা বেঁচে আছে তাদের লিখার মাধ্যমে। 

সে যুগের লেখকদের মতো বর্তমান এই হাল ফ্যাশনের যুগে এমন অনেক লেখক আছেন যাদের লেখা পাঠক অন্তর থেকে অনুভব করতে পারেন। আজ আমরা জানব এই যুগের এমনই একজন লেখক সম্পর্কে।  তিনি হলেন ওয়াসিকা নুযহাত। তার সাহিত্যের জগতে প্রবেশ ঘটে ২০১৬ সালে “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি” উপন্যাসের মাধ্যমে।  যদিও তিনি ছোট থেকেই খুটিনাটি লিখালিখি করতেন।  তবে “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ” তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।  এই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য বিষয় ছিল লালন দর্শন ও জীবনবোধ। তার দ্বিতীয় উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে।  নাম “মাঝে মাঝে তব”। যদি তার লিখা প্রথম সম্পূর্ণ উপন্যাস ” মাঝে মাঝে তব”। এবং ধারাবাহিক ভাবে তার তৃতীয় ও চতুর্থ উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০১৮,২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে “বৃষ্টি মহল”,”মন সায়ড়ের পাড়ে” ও “অক্টোবর রেইন”।  ২০২০ সালের বইমেলায় বেস্টসেলার বই এর লিস্টে জায়গা করে নেয় তার “অক্টোবর রেইন” উপন্যাসটি। চলুন আজ বর্তমান যুগের এই লেখিকার কিছু বই সম্পর্কে ক্ষদ্র ধারণা নেওয়া যাক।  

প্রথমেই  আসি ওয়াসিকা নুযহাত এর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ” এর ক্ষুদ্র পর্যালোচনা নিয়ে। 

খাঁচার ভেতর অচিন পাখি 

“কপালের ফের নইলে কি আর

পাখিটির এমন ব্যবহার

খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার কোন খানে পালায়।

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়।”

সারসংক্ষেপঃ

———————

আত্মা নামক জিনিসটা আমাদের দেহের খাঁচায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বন্দী থাকে।  চাইলেই কেউ ইচ্ছা করে বের করে ফেলতে পারে না। কারণ হিসেবে বেশির ভাগের থাকে সৃষ্টিকর্তা ভীতি। পাশাপাশি আছে আপন মানুষের প্রতি টান, ভালোবাসার মানুষের প্রতি টান। কারো কারো কারো এসবের প্রতি টানটা না থাকলে ও থাকে প্রকৃতির সৌন্দর্য এর প্রতি টান।  কেউ কেউ কোনো পিছুটান ছাড়াই এই বিশ্ব ভ্রামান্ডে বেচে থাকতে চায় শুধু এর সৌন্দর্য দেখার জন্য।  তবে এই একই বিশ্বের কোনো স্থানে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যায় যাদের সবকিছু থাকার পর ও জীবনের প্রতি টান টা অনুভব করতে পারে না বা আপন মানুষ গুলোর প্রতি।  কোথাও একটা কিছু নেই বলে মনে হয়। “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি” এমনই একটি উপন্যাস।  যাতে লেখক দেখিয়েছেন একই বিশ্বে বসবাস করা দুটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বড় হয়ে উঠা দুজন মানুষ এর মধ্যকার আত্মার সম্পর্ক।  

এতে আছে একজন হিমু হিমু ভাব আলা সন্ন্যাসীবেশে চলাফেরা করা অয়ন কে।  যার নিজস্ব এতো আরামদায়ক জীবন থাকা সত্ত্বেও মনের কিছু ক্ষোভে সব ত্যাগ করে সন্ন্যাসী বেশে ঘুরে বেড়ায়।  আছে আহির নামের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।  যার জীবনে অর্থের অভাব থাকলেও পরিবারের ভালোবাসার অভাব নেই।  অনেক সময় প্রয়োজন পূরণ না হলেও ঐ ভালো বাসা দিয়ে প্রয়োজন কে ভুলে থাকা যায়।  এছাড়া আছে একজন ভালোবাসার মানুষ।  ভালোবাসার মানুষ বললে ঠিক হবে না। অনেকটা তেমন মানুষ ই। যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা চলার পর ও আহির সত্যিকারের ভালোবাসাকে নিজের বানানোতে যেমন খুশি হওয়ার কথা তেমন খুশি হতে পারছে না। 

উপন্যাসটির শুরু হয় অয়নের বাসে একটি হুিজড়াকে অন্যের কথা থেকে বাঁচানোর মাধ্যমে।  তারপর অয়ন নিজের মা আয়েশা বেগম এর বাসায় যেয়ে এক হুলুস্থুল কান্ড করে বসে, যে অফিসে ইন্টারভিউর জন্য গিয়েছিল আহির। আর অয়নের কান্ড দেখে ভয়ে তাড়াহুড়ায় নিজের মোবাইলটা রেখে চলে আসে।  সে মোবাইল আহিরের কাছে ফেতর দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আবার দেখা হয়। আচ্ছা আহির আর অয়ন এর কি এটা ই শেষ দেখা?  জীবনে কি আর কোনো সময় ওদের পথ এক হয়েছিল?  ওদের মধ্যে সম্পর্ক হয়েছিল কোনো? নাকি এই দেখা হওয়ার সমাপ্তি এটা ই ছিল? 

এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য পড়তে হবে বইটি।  

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ

———————–

আমি খুব কম এতো গভীর জিনিস অনুভব করি।  আর বইটা ছিলো সম্পূর্ণ অনুভবের।  সাথে বাস্তবতা ও ছিল বটে।  ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থের অভাব গুছাতে নৈতিকতা বোধ সব ভুলে যাওয়া। আরো আছে অধিক টাকা কামানোতে আপন মানুষ গুলোর দূরে সরে যাওয়ার ব্যথা। লেখকের প্রকাশিত প্রথম বই ছিল।  ভালো লাগল। 

ভালো লাগা লাইনঃ

★there is no exquisite beauty…. Without some strangeness in the proportion…. 

রেটিংঃ ⭐⭐⭐⭐

বৃষ্টিমহল

অমৃতা কেমন স্বপ্নাতুর গলায় বলল,’একটা কাচ দেওয়ালের মহল বানাব। মহলে চারিধারথাকবে আয়না দিয়ে ঘেরা।মহলের ওপরের কাচের আচ্ছাদনে আকাশ সর্বক্ষণ তার মুখখানি দেখতে পাবে।তারপর বর্ষাকালে যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে,মহলের গায়ে গায়ে বৃষ্টি তার ইচ্ছেমতন আলপনা আঁকবে আর মহলের বাসিন্দাদের মনে হবে ছাদটা আসলে কাচের নয়,আয়নার নয়,ছাদটা আসলে বৃষ্টির।” —বৃষ্টিমহল,ওয়াসিকা নুযহাত 

আমাদের সকলেরই জীবনে একটা সময় আসে যখন আমদের একদল বন্ধুবান্ধব বা ভাই-ব্রাদার্স ছাড়া চলবেই না।  আমাদের জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ সময়, সব আনন্দের সময়, সব দুঃখের সময়ে এদের  আমাদের চাই ই চাই। এরা আমাদের জীবনের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে মিশে যায়।  সব ধরনের কাল্পনিক আর উদ্ভট চিন্তা আমরা এদের সাথে মিলে রটতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।  আবার কখনো এই একটা গ্রুপের মধ্যে কোনে দুজনের মধ্যে চলে আসে প্রেমের অনুভূতি।  এ সম্পর্ক গুলো কারো সারাজীবন স্থায়ী থাকে। আবার  কারো মনের অমিলের কারণে ভেঙ্গে যায়।  বৃষ্টিমহল এমন ই একটি বন্ধুত্বের কাহিনী দিয়ে ভরপুর বই।  যাতে  আছে অমৃতা, আকাশ, সামি,হৃদি,রুদ্র আর বিভা র মতো পরস্পরের থেকে ভিন্ন একটা বন্ধুত্বের কাহিনী।  যারা একসাথে মিলে স্বপ্ন বুনছিল বৃষ্টিমহল তৈরি করার। ❤

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

————————

বন্ধুত্বের এ সুন্দর বইটি পড়ে কিছুক্ষণ এর জন্য হলেও আমার ক্লাস নাইন টেন এর জীবনে চলে গিয়েছিলাম।  যখন একদল মানুষ নিয়ে ঘুরতাম।  দূরে কোথাও না হোক।  এর বা ওর বাসায় যেয়ে এক কাপ চা আর ফুচকার মধ্যে সব আবেগ ঢেলে দিতাম।  তখন মনে হতো এরা ছাড়া আমার কি হবে? যদিও এখন মনের অমিলের কারণে অনেকেই দূর সম্পর্কের বন্ধু তে পরিণত হয়ে গেছে।  অনেকে আবার এ পোস্টের সাইলেন্ট রিডার হয়ে গেছে।  কিন্তু ঐ মুহূর্তে ওরা সব আমার ই ছিল।  হুট করেই ঐ সময়কার বেঞ্চে জট বেঁধে বসে গল্প করার সময় শিক্ষকের কাছে পানিশমেন্ট পেয়ে বেহাইয়ার মতো হাসাহাসি করা।  টিফিন নিয়ে কাড়াকাড়ি করা। ছেলে গুলোর শুধু গার্লফ্রেন্ড খুঁজার ম্যাসেজ দেওয়ার মতো ছেচড়ামি করা সবই মনে মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে বারংবার বইটি পড়ার সময়।  মনের কোনো এক জায়গায় আটকা পড়া স্মৃতিগুলো মনে করতে একদমই মন্দ লাগছে না।  যদিও বইটির শেষের দিকে সামির জন্য খারাপ লাগছিলো। দ্বিতীয় অংশের অপেক্ষায় রইলাম। ❤

ভালো লাগা কিছু লাইনঃ

★জীবন গতিশীল,পৃথিবী গতিশীল। শুধু তোর জীবন না,পুরো পৃথিবীটাই তো পাল্টাচ্ছে প্রতিনিয়ত তাই না? পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখ,পৃথিবীটা ভালো নেই একদম,সে তুলনায় তুই আমি আমরা অনেক ভালো আছি।

★দোস্ত তোকে যে ভালোবাসবে সে তোর দোষ গুণ মেনে নিয়ে সত্যিকারের ভালোবাসবে,এত কন্ডিশন দিয়ে ভালোবাসা হয় না রে!

★নীল নক্ষত্র খচিত অন্তরিক্ষের নিচে সমস্ত চেতনা সঙ্গে নিয়ে সাগর জেগে আছে। হাজার বছর ধরে জাগ্রত এ সাগর এমনিভাবেই, মহাকালকে সাক্ষী রেখে। দূর থেকে ধেয়ে আসছে সাদা ফেনিল ঢেউ। প্রচন্ড আক্রোশে আছড়ে পড়ছে বালুতটে। কি সুবিশাল এ পৃথিবী। আর এ বিশাল অস্তিত্বের সামনে মানুষ কতই না ক্ষুদ্র! 

★আবোল-তাবোল বকিস না বিভা,বন্ধু আর প্রেমিক কখনো এক হয় না,বন্ধুত্বের ফিলিংসে কখনো কামনা আসে না, শরীর আসে না।

★বন্ধুত্ব আর প্রেম যেন একই মোহনায় মিলিত দুটি নদীর নাম। যেকোনো সময় একজন আরেকজনের সাথে মিশে গিয়ে নিজ অস্তিত্ব বিলীন করতে পারে।

★সামি অদ্ভুত বিষন্নতা নিয়ে বলল,’আমার আর হবে না রে!  আগের মতো করে আর কিছুই হবে  না

রেটিংঃ ⭐⭐⭐⭐✨

অক্টোবর রেইন 

” সে স্বগতোক্তি করলো,বলো পৃথিবী! কার অক্টোবর বেশি সুন্দর?  তোমার নাকি আমার? “

★সারসংক্ষেপঃ

———————-

আমাদের সকলেরই জীবনের একটা সময় অনেক রঙিন আর অবাস্তব স্বপ্নে ভরা থাকে।  (অনেকে আবার বাস্তবের কঠোরতা কে এড়িয়ে যেতে ঐ স্বপ্নের আশ্রয় নেয়)আর সেই সাথে থাকে একটি অবাস্তব রাজ্য। যে রাজ্যের সব কিছু শুধু আমাদের একেবারে নিজস্ব থাকে। যে রাজ্যে আমি একাই রাজকুমারী, সাথে সাথে অসংখ্য প্রজা যারা সবসময় আমাদের কথা মান্য করবে, থাকে কিছু বান্ধবী সুলভ মানুষ যাদের কাছে যখন তখন মন টা খুলে দিয়ে দেওয়া যাবে আর থাকে অপেক্ষা।  হ্যাঁ একজন রাজকুমারের অপেক্ষা।  যখন তখন একাকীত্বের সময় আমরা ঐ রাজ্যের রাজকুমারী হয়ে যাই।  একে ওকে হুকুম করে বেড়াই।  এমন টা ই জীবনের কোনো না কোনো সময় সবাই কল্পনা করে থাকে।  অনেক টা রূপকথা ।  তবে তা অন্য কারো গল্পের মতো হবে না। তা হবে সম্পূর্ণ আমার নিজের। যাতে থাকবে আমার নিজের মতো একজন রাজকুমারী, কিছু লক্ষ্মী প্রজা আর আমার রাজকুমার।  যার স্বপ্ন শুধু আমি দেখেছি। অন্য কেউ নয়।। 

অক্টোবর রেইন ও এমনী এক স্বপ্নকুমারীর গল্প।  হ্যাঁ স্বপ্নকুমারী ই বটে।  তবে তার স্বপ্ন গুলো খোলাচোখে দেখা হয়। উপন্যাসটিতে আছে হরিণডাঙ্গার রাজকুমারী সকাল।  যে একা হলেই চলে যায় তার রাজ্যের কাছে।  যেখানে শেহজাদী সকাল সব কথা মন খুলে বলতে পারবে। আর সবাই তার কথা মন খুলে শুনবে।  হ্যাঁ তার কাল্পনিক জগৎ হরিণডাঙ্গা। আর আছে আরশান।  একটু নাকউঁচু, অন্যরকম স্বভাব এর এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মানুষ।  যার মা সম্পর্কে খারাপ অতীত থাকার কারণে মেয়েদের কখনও বিশ্বাস করতে চাইত না। ভালোবাসতে ভয় পেতো।  আর এদিকে শেহজাদী সকাল হলো ভালোবাসায় ভরা একজন স্বপ্নকুমারী। 

উপন্যাসটি শুরু হয়, যখন শেহজাদী সকাল নিজের প্রাণপ্রিয়  শহর ঢাকা ছেড়ে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভীর জমায়  ভার্জিনিয়ায়। তার বাবার প্রিয় বন্ধুর ছেলে ফাহাদকে দেখতে আসা।  যদিও তার এই দিকে আগ্রহ কম ছিল।  কিন্তু এজন্য তার বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা  কিভাবে ছেড়ে দেয়? যেহেতু  শেহজাদী সকালের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, সেহেতু তার  মন টা অনেক ফুরফুরে ছিলো। আর ও বেশ লাগছিলো  ভার্জিনিয়ার ছিমছাম প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে।

ভার্জিনিয়াতে পৌঁছে সে চাচার বাসায় প্রথম দেখল আরশানকে।  হ্যাঁ ঐ নাক উঁচু অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মানুষটিকে।  যাকে দেখার পর সকালে অন্যরকম অনুভুতি হতে শুরু করল।  যা তার দীর্ঘ ২৫ বছরের জীবনে কখনও হয় নি।  তবে সকাল অনেক করে ঐ অনুভূতি টা পেতে চেয়েছিলো বহু বছর ধরে।  আচ্ছা আরশানও কি তার প্রতি একদম এ রকম অনুভব করে? নাকি আরশান সকালকে অন্য দশটা নরমাল মেয়ের মতো দেখে? কীভাবে সকালে ভার্জিনিয়া ভ্রমণ সম্পন্ন হয় তা জানার জন্য অবশ্যই এই বই পড়তে হবে।

★পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

————————-

উপন্যাস পড়ার সময় আমি কল্পনার জগতে বহুনার ডুব দিয়েছি। ।  বারংবারই আমার রূপকথার গল্প পছন্দ।  এখন ও সুযোগ পেলে আমি রূপকথার গল্প নিয়ে ভাবি।  ছবি আঁকি। গল্প  লিখি।  ঠিক যেনো কল্পনায় আমার অনেক সময়ের স্বপ্ন পূরণ করার মতো।কিন্তু অক্টোবর রেইন অবশ্যই কোনো অবাস্তব স্বপ্ন পূরণ নয়। অনেকটা বাস্তব আর স্বপ্নের সংমিশ্রণ। অক্টোবর রেইন” পড়ার সময় আমি অনেকবার স্মৃতিকাতর ও হচ্ছিলাম।কারণ আমি রূপকথার গল্পের নায়িকার জায়গায় সবসময় নিজেকে কল্পনা করতাম বাচ্চা কাল থেকেই। এখন ও করি বাস্তবতা কে মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে করি।  তাই বইটি পড়ার সময় ঐ লিখা গুলো আমার কাছে অনেক আপন লাগছিল। একদম যেনো আমার মন এর মতো করে লিখা। এর স্টোরি লাইন বলতে গেলে সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস।  ফিল করার মতো অনেক কিছু আছে। বাস্তবতা আছে, কল্পনা আছে।

 আপুর বইয়ের চরিত্র গুলো কখন ও একদম পার্ফেক্ট বা উইক হয় না। বাস্তবে যেমন আমরা পার্ফেক্ট আর উইক এর সংমিশ্রণ থাকি ঠিক তেমন হয়। পড়ার সময় ঠিক মনে হবে বাস্তবে আপনার আশে পাশে কারো কথা।  আমার ও পড়ার সময় সকাল কে নিজের মতো এর মতো ওর মতো মনে হচ্ছিল।  সকালের চরিত্র টা আসলে বেশির ভাগ মেয়ের মধ্যে কম বেশি পাওয়া যায়। সবার মধ্যে একটু আকটু সকাল কে পাওয়া যায় ই।  আর আরশান… আপু ছেলে চরিত্র গুলোর মধ্যে আমার আরশান কে অন্য রকম ভালো লেগেছে।  পার্ফেক্ট না বাট কাছাকাছি। আমি তো আরশান এর জায়গায় কাউকে কল্পনা ই করতে পারি না একদম।  কিন্তু বই পড়ার পর যখন বাস্তব এ আসি তখন আরশান যে সত্যি কারী কেউ না এটা আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট  দিয়েছে।  মানে আরশানের চরিত্রের কোন জিনিস টা আমার মনে এতো ধরে গেছে এখন ও মাথায় আসে না। বই পড়ার ৩ মাস হয়ে গেছে আমি এই চরিত্র টাকে এখন ও ভুলতে পারি না। কেউ আরশানকে নিয়ে কিছু বললে ঝগড়া লেগে যাই একদম।  এতটুকু ই আরশানকে নিয়ে।  কারণ আরশানকে নিয়ে লিখা শুরু করলে আমি উপন্যাস লিখে ফেলব।   

বইটিতে বাবার প্রতি আরশান আর ফাহাদের সম্মান করার ব্যাপার টা আমার অনেক ভালো লেগেছে।  ফাহাদ এর চরিত্র টা অনেক পরিষ্কার ছিল।  রহস্য টাইপ কিছু ছিল না। নাবিলা র ব্যাপারে ফুল বর্ণনা টা ভালো ছিল। এখানে আমি মাদারকে খুব অপছন্দ করেছি প্রথম থেকে। আর বাবা কে লাস্টের দিকে।  পরিশেষে, বইটা আমার অসম্ভব প্রিয়।  আমি এই নিয়ে কথা শুরু করলে অনেক এক্সাইটেড হয়ে যাই যে কি বলি, কি লিখি বুঝি না। 

   •ভালো লাগা কিছু লাইনঃ

★অপেক্ষা জিনিসটা আরশানের পছন্দ নয়।সে চায় না তার জন্য কেউ অপেক্ষা করুক। সে নিজেও কারো জন্য অপেক্ষা করতে চায় না।অপেক্ষার ফলাফল কখনো সুমিষ্ট হয় না।

★বাবা না থাকলে তার জীবনে আর কোনো পিছুটান থাকবে না। তখন কি হবে? কি নিয়ে এবং কেনই বা বেঁচে থাকবে সে? শুধুমাত্র নিজের জন্য কি বাঁচা থাকা যায়?

★এসব বোকা মানুষদের রাগিয়ে দেয়ার একটা আলাদা মজা আছে।  চালাক মানুষেরা সহজে রাগে না।  কিংবা রাগলেও রাগ প্রকাশ করে না।  কিন্তু বোকারা সাথে সাথে রাগ প্রকাশ করে ফেলে। 

★প্রতিটা শহর আসলে এর বাসিন্দাদের কোনা না কোনা গল্প বলতে চায়। কিছু গোপন সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে চায়।

★বস্তুত,তার মনে হয় মানুষে মানুষে সম্পর্ক রচনার চাইতে ও বেশি জরুরি এবং দামি হলো পৃথিবীর সাথে সম্পর্ক রচনা করা। মানুষ আসে,মানুষ যায়। নিজের প্রয়োজন এ কাছে আসে, নিজেরই প্রয়োজনে দূরে চলে যায়। কিন্তু এ পৃথিবী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোথাও যাবে না। শুধু মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো অরি বা দুশমন তাকে এ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। 

★পিছুটান,বন্ধন,সম্পর্ক এসব মানবিক দিকগুলো প্রকৃত অর্থে মানুষকে দুর্বল করে ফেলা ছাড়া অন্য কিছুই করে না। একবার এই মায়ার ফাঁদে পা দিলে পস্তাতে হবে সারাজীবন। 

★পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ঘটনাটি হলো একজন মানুষের অন্য একজন মানুষের জন্য ভালেবাসার অশ্রুজল বিসর্জন দেওয়া। 

★মনের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শরীর হয়ে যায় পর।আগে বশে আনতে হবে মনটাকে তারপর দেহ।

★মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো সময় তার কাছ থেকে মূল্যবান কিছু বস্তু বিনা অনুমতিতে ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নিতে নিতে এক সময় গোটা মনটাকে পরিবর্তন করে দেয়।মানুষ ভুলে যায় অনেকদিন আগে তার একদম অন্যরকম একটা মন ছিল।

★Will you love me like you loved me in the October rain….?

★আমি আপনাকে ভালোবাসার চাইতেও বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। 

রেটিংঃ ⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐…………

পরিশেষে, 

ওয়াসিকা নুযহাত আপু এবং তার লিখা তিনটি বই

পাঠক হিসেবে ওয়াসিকা নুযহাত আপুর লিখা সম্পর্কে আমার অনুভূতিঃ

আমি ওয়াসিকা  আপুর লিখা পড়ি আর মুগ্ধ হই।  এতো রিলেট খুব কম করি অন্য কারো লেখার সাথে।  আপুর বই পড়ার সময় মনে হয় আমি আমার স্মতিকাতর সময় গুলো,  অবসরর সময়ের কল্পনা গুলো চোখের সামনে দেখছি। আমি সবসময় বলি যে, পাঠক যদি লেখকের লেখা পড়ার সময় প্রতিটা চিত্র চোখের সামনে কল্পনা করতে পারে।  এবং তার লিখা অনুভব করতে পারে তাহলে লেখক এর লিখা সার্থক।  সে হিসেবে ওয়াসিকা আপুর লিখা ও সার্থক।  আমার খুব কম লেখকদের লেখা এতো বেশি ফিল হয়৷ আপুর লিখার একটা বিশেষ্যত্ব হলো আমি অনেক ক্ষুদ্র অনুভূতি গুলোকে এতো সুন্দর করে বর্ণনা করে যে তা আর কোনো দিক দিয়ে ক্ষুদ্র মনে হয় না। সে সাথে আছে আপুর প্রকৃতি সম্পর্কে বর্ণনা। প্রকৃতি সম্পর্কে বর্ণনা গুলো এতো বেশি নিখুঁত হয় যেনো পাঠক ঘরে বসে ঐ দূরের জায়গার সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে।  এছাড়াও আপু লিখা থেকে হরেক রকমের পশু পাখির নাম জানা যায়। মূল কথা আপু প্রতিটা বই পুরা একটা প্যাকেজ এর মতো।  সব ধরনের অনুভূতি বিদ্যমান এতে।  আমি আপুর লিখার অনেক বড় ভক্ত হয়ে যাচ্ছি।  

টপিকঃ

Naifa Afrin Ahana

I am a student. And an armature writer. Believe in practicing. ❤️

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close