ডিজিটাল মার্কেটিংপ্রযুক্তিব্যবসা ও উদ্যোগস্কিল ডেভলপমেন্ট

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং

ফেসবুকের মতো ইন্সটাগ্রামও বেশ জনপ্রিয় একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সুন্দর সুন্দর গ্ল্যামারাস ছবির জন্য খুব বিখ্যাত এটা। তাছাড়া বড় বড় সেলিব্রিটিরা আজকাল ফেসবুকের তুলনায় ইন্সটাগ্রামে বেশী সক্রিয় থাকে। তাই বহু মানুষ এখন ফেসবুক ছেড়ে ইন্সটাগ্রামের দিকে ছুটছে। তাছাড়া এমনিতেও টিন এজ খোকা – খুকি এবং গ্ল্যামারাস আপু ভাইয়ারা ইন্সটাগ্রামটাকে ফেসবুকের তুলনায় একটু বেশীই পছন্দ করেন৷

সে যাই হোক, ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং ফেসবুকের তুলনায় বেশী সহজ মনে হলো আমার। ঠিকঠাকমতো প্রোফাইল সাজালে এবং টেকনিক মেনে কাজ করতে পারলে বেশ ভালো রকমের টাকা আয় করা সম্ভব। আজকের এই পোস্টে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং এর কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো৷ ইন্সটাগ্রাম নিয়ে অনেক কিছু জানার আছে, তাই ভাবছি কয়েক পার্বে ভাগ করে লিখবো এ বিষয়টি নিয়ে।

কাদের জন্য ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং বেশী উপকারী?

ইন্সটাগ্রাম হলো একটা গ্ল্যামারাস জায়গা। এখানে যদি আপনি নিজের ব্র্যান্ডটিকে গ্ল্যামারসভাবে প্রেজেন্ট করতে পারেন, তাহলে খুব সহজেই যে কোন সেক্টর নিয়ে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং করে ভালো কিছু করতে পারবেন। তবে ফুড বিজনেস, ফ্যাশন রিলেটেড জিনিস, গহন, মেকআপ, ড্রেস, ফ্যান্সি স্টেশনারি এসবের জন্য ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং বেশী উপকারী। তাছাড়া আজকাল বুক রিভিউ, বুক ফটোগ্রাফি বেশ পপুলার ইনস্টাগ্রামে। সুন্দর একটা নামও আছে এটার – ” বুকস্টাগ্রাম “! আপনি চাইলে বই বিক্রির ব্যবসা করেও ভালো সফলতা অর্জন করতে পারবেন। তাছাড়া বিউটি ব্লগিং, ইন্সটাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার,রান্না -বান্না, নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি, কোন বিশেষ স্কিল, ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটের মার্কেটিং, আপনার লেখা ব্লগ এর প্রমোশনের জন্যও ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং বেশ উপকারী৷

চলুন এবার জেনে নেই ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং এর কিছু দরকারী তথ্য –

আপনার প্রোডাক্ট কিংবা প্রতিষ্ঠান অথবা নিজেকে ইন্সটাগ্রামে ব্র্যান্ডিং করতে চাইলে প্রথমেই যা দরকার পড়বে, তা হলো সুন্দর একটা প্রফেশনাল প্রোফাইল খুলে ফেলতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি দিয়ে প্রোফাইলটিকে সাজিয়ে গুছিয়ে নেবেন। এ সম্পর্কে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও আছে, চাইলে দেখে নিতে পারেন। খুব কাজে আসবে।

প্রোফাইল সাজানোর পর আপনার প্রতিষ্ঠান / প্রোডাক্ট / আপনার কিছু ভালো এবং আকর্ষণীয় ছবি আপলোড দিন। ইন্সটাগ্রামের নানান রকম ফ্রি ট্যুল আছে, ওসব ব্যবহার করুন। আপনার প্রোডাক্ট রিলেটেড ট্রেন্ডি এবং ফানি কিছু পোস্ট ক্রিয়েট করুন। পোস্টগুলোর সাথে যেনো পাবলিক সহজেই নিজেকে রিলেট করতে পারে, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন।

এবার কিছু টাকা খসান পকেট থেকে। অর্থাৎ স্পন্সরড এড দিয়ে নিজের প্রোফাইলটিকে প্রমোট করুন। ফেসবুকে আপনার ইন্সটা প্রোফাইলটিকে প্রমোট করুন। নিয়মিত ইন্সটা স্টোরি দিন।

এছাড়াও যা করবেন –

১. ইন্সটাগ্রামের বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার, বিজনেস প্রোফাইল এর সাথে যোগাযোগ করুন, তাদের সাথে পার্টনারশিপে যান। কোলাবোরেট করুন। তাদের সাথে মিলে নানান রকম ট্রেন্ডি কন্টেন্ট / প্রোডাক্ট ক্রিয়েট করুন, অভিনব কিছু করে মানুষকে চমকে দেয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে খুব সহজে এবং অল্প সময়ের মধ্যে আপনি / আপনার প্রতিষ্ঠানটি মানুষের নজরে আসবে।ভালো প্রচার হবে। এবং ফলোয়ার্সও খুব দ্রুত বাড়বে।

২. কাস্টমারদের প্রোডাক্ট রিভিউ, আপনার প্রোডাক্ট এর সাথে তাদের তোলা ছবি ইন্সটা প্রোফাইলে আপলোড দিন। তাদের ট্যাগ করুন৷ ধন্যবাদ জানান। তাদের আপলোডকৃত ছবিতে কমেন্ট করুন৷ট্রাস্ট মি, আপনার ব্র্যান্ডের সুনাম বৃদ্ধিতে এবং ফলোয়ার্স বাড়াতে ব্যাপারটা বেশ কাজে দিবে।

৩. অতিরিক্ত পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। এতে মানুষ বিরক্ত হয়। প্রতিদিন দু’টো পোস্ট যথেষ্ট।

৪. কিছু কিছু নির্দিষ্ট সময় এবং দিনে অধিক সংখ্যক মানুষ অনলাইনে একটিভ থাকে। আপনার ফলোয়ার্সরা কোন সময়টাতে বেশী একটিভ থাকে, ওটা খুঁজে বের করুন এবং সে সময়টাতে পোস্ট করুন। এতে রেসপন্স বেশী ভালো পাবেন।

৫. নিয়ম করে লাইভে যান৷ ফলোয়ার্সদের সাথে কানেক্টেড থাকুন।

৬. সব সময় ইউনিক ক্যাপশন দেয়ার চেষ্টা করবেন।

৭. ভিডিও আপলোড দিন মাঝে মাঝে।

৮. আপনার অডিয়েন্সকে বোঝার চেষ্টা করুন, তাদের পছন্দ -অপছন্দ অবজার্ভ করে সে অনুযায়ী কাজ করুন।
৯. হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন ইনস্টাগ্রামের সমস্ত এলগোরিদমই চলে হ্যাশট্যাগ দিয়ে। সঠিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে খুব অল্প সময়েই অধিক ফলোয়ার্স পেয়ে যাবেন আপনি।

১০. আপনার কম্পিটিটর কী করছে দেখুন। তার কাজ করার ধরণ,পোস্ট করা কন্টেন্ট হতে শুরু করে সমস্ত কিছু অবজার্ভ করুন। তুলনামূলক বিশ্লেষণ করুন। এবং তার থেকে বেটার এবং ইউনিক কিছু করার চেষ্টা করুন।

১১. ফলোয়ার্সদের প্রতিটি কমেন্টের উত্তর দিন।

১২. আপনার পোস্টে যারা লাইক দিবে, তাদের ফলো করুন৷ তারাও ফলো ব্যাক দিবে। এবং এভাবেই ফলোয়ার্স বাড়বে।

১৩. প্রতিদিন অধিক সংখ্যক মানুষকে ফলো করুন। তারা ও ফলো ব্যাক দিবে।এভাবেই প্রচার হবে। ( এটা ছ্যাচড়ামি বুদ্ধি )

১৪. পোস্ট শেয়ারের সময় লোকেশন শেয়ার করুন। এতেও ফলোয়ার্স বাড়ে,কারন লোকেশন শেয়ার করলে আশেপাশের অনেকের কাছেই আপনার পোস্ট সাজেশন হিসেবে যায়।

১৫. আপনার প্রোডাক্ট / ব্র্যান্ড সম্পর্কিত অন্য পপুলার ইন্সটা প্রোফাইলগুলোকে আপনার পোস্টে নিয়মিত ট্যাগ করুন। এতে খুব দ্রুত প্রচার হবে আপনার।

১৬. টিম মেম্বারদের কাজের ছবি আপলোড করুন। এতে আপনার ব্র্যান্ডিং হবে।

১৭. সুন্দর একটা বায়ো এবং আকর্ষণীয় ডিপি দিন।

১৮. নানান রকম কন্টেস্ট এবং গিভওয়ে এর আয়োজন করুন।

আজকের মতো এতোটুকুই। কাল ইন্সটা মার্কেটিং এর আরও খুঁটিনাটি নিয়ে আসবো।

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং – পর্ব (২) দেখতে এখানে ক্লিক করুন

টপিকঃ

Neela Moni Goshwami

জন্ম ২৭ ডিসেম্বর , ১৯৯৬, কুমিল্লা। ভীষন হাসিখুশী আর খানিকটা পাগল টাইপের এই মেয়েটা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে খুব। তার প্রিয় শখ বই পড়া, লেখালেখি করা আর ছবি আঁকা এবং প্রিয় স্বপ্ন নিজের লেখা একগাদা বই হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো! ভবিষ্যতে সে একজন সত্যিকারের ভালো লেখিকা হতে চায়। আর কাজ করতে চায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু আর আশ্রয়হীন বৃদ্ধদের জন্য। বর্তমানে সে ন্যাশনাল কলেজ অফ হোম ইকোনমিক্স থেকে শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছে। লেখিকার " তাকে ভালোবেসে ", " কঙ্কাল সরোবর " এবং " এটিকুয়েটা " নামে তিনটি বই আছে।।তাছাড়া তিনি " রাইটার্স ক্ল্যাব বিডি " প্রজেক্টটির ফাউন্ডার।

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close