প্রিয় ব্যাক্তিত্ব / জীবনী

আয়রন লেডী “মুনিবা মাজারি” এর হার না মানা জীবনের কাহিনী

আয়রন লেডী “মুনিবা মাজারি” এর হার না মানা জীবনের কাহিনী

বিশ্বে “আয়রন লেডি” নামে খ্যাত মুনিবা মাজারি এর জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩রা মার্চ। পেশায় তিনি একজন আর্টিস্ট, গায়িকা, মোটিভেশনাল স্পীকার, সমাজসেবী ও মডেল। তাঁর জন্মস্থান মূলত দক্ষিণ পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খান জেলায়। এরপর পড়ালেখা আর্মি পাবলিক স্কুলে; যদিও তিনি পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি- তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে।

মুনিবা

মুনিবা মাজারি এর এই বিয়ে, তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় । এই কাহিনী হয়তো অনেকেই জানেন; আবার অনেকের কাছেই এটি অজানা। যাইহোক, সবার উদ্দেশ্যেই লেখছি-

 

১৮ বছর বয়সেই এই নারীর বিয়ে হয়ে যায় একজন সাবেক এয়ারফোরস পাইলটের (খুররাম শাহজাদ) সাথে। আসলে তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছিলেন বলে সেই সময়ে বাবার এই বিয়ের সিদ্ধান্তে না করেননি । বিয়ের ঠিক ২বছর পরেই অকস্মাৎ এক ঝড়ে যেন সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায় ।

তিনি স্বামীর সাথে গাড়িতে যাচ্ছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে গাড়িটি এক্সিডেন্ট করে।  মুনিবা মাজারি স্পাইন ইঞ্জুরির কারণে তখন প্যারালাইজড হয়ে যান । উনার মতে এই ঘটনা তাঁর জীবন ১৮০° এঙ্গেলে ঘুরিয়ে দেয়।

জীবনকে নতুন করে দেখা, নতুন করে ভাবা সবকিছু নিয়ে এরপর থেকেই শুরু মুনিবার।

হসপিটালে থাকাকালীন সময়ে ডাক্তার একদিন তাকে জানান যে তিনি আর কোনোদিন পেইন্ট করতে পারবেন না, না পারবেন হাঁটতে আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি মা হতেও পারবেন না ।

এইসব কথা শুনে ঐ মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। একটাই প্রশ্ন ছিল তাঁর মনে, ‘কেন আমি? কেন সবসময় আমি?’ অতঃপর তিনি ভাবতে ভাবতে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেন – সৃষ্টিকর্তা হয়তো চান সে কিছু করুক।

এই কথা বারবার চিন্তা করে তিনি নিজেকে মোটিভেট করেন, নিজেকে কাজের জগতে ফিরিয়ে আনেন।

এভাবে দুই বছর কাটে তাঁর সেই হসপিটালের বদ্ধ রুমে। একসময় তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী আরেকটি বিয়ে করছে। কিন্তু এটা জেনেও তিনি সবাভাবিক থাকেন।

কারণ তাঁর মনোবল এতই দৃঢ় ছিল যে কোনকিছুই সেই টাইমে আর ভয় মনে হতো না।

কিন্তু তারপরেও তাঁর মনে একটা কষ্ট ছিল যে তিনি আর মা হতে পারবেন না কোনোদিন। বাট সেই পেইনও আয়রন লেডী ওভারকাম করেন; একটি বাচ্চা অ্যাডোপ্ট করে।

যার বয়স এখন ৮ বছর। মুনিবা মাজারি সবসময় মনে করেন আমরা একা সফল হতে পারিনা । আমাদের সবার সফলতার পেছনে একজন আছে, একজন ত্থাকে। হয়তো সামনে সে/তারা আসে না।

মুনিবার মাজারির জন্য সেই মানুষটি ছিলেন তাঁর মা। যে তাকে অলয়েজ সাপোর্ট করে গেছেন।

muniba

মুনিবা মাজারি একটি কথা  বারবার বলেন, টাকা ইনকাম করে নিজে ভালো থাকাই জীবন না।

মানুষের জন্য কিছু করে যাতে পারা, যাদের সাহায্য দরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবা করাই আল্টিমেট সাক্সেস।

muniba

 

একনজরে মুনিবা মাজারির এ্যাওয়ার্ড/অর্জনঃ

  • ইউএনওমেনে এ পাকিস্তানের প্রথম শুভেচ্ছাদূত ।
  • ১৫ ডিসেম্বর,২০১৭ -এ “কানাডা গ্লোবাল কনসাল্টিং অ্যান্ড ট্রেনিন্ট সেন্টার লিমিটেড (সিজিসি)” দ্বারা “গো এক্সেলেন্স ট্রেনার প্রশংসাপত্র” দিয়ে ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে।
  • সার্বিয়ার বেলগ্রেডে “দ্য কার্ক ব্রাদার্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৭” দ্বারা “দ্য হিউম্যানিট্রেটিস প্রাইজ” পেয়েছেন।
  • মিডিয়া এবং মার্কেটিং এ ২০১৬ এর ফোর্বস 30 আন্ডার ০ পদে ভূষিত হয়েছেন।
  • ২০১৫ তে বিবিসির শীর্ষ ১০০ মহিলা নির্বাচিত হন।
  • ডাব্লুসিসিআই লাহোর বিভাগ দ্বারা প্রাপ্ত লরেলস অনার অ্যাওয়ার্ড পান ২০১৫ তে।
  • মুনিবা মাজারি তরুণ প্রেরণাদায়ী স্পিকার হিসাবে এনপিসির শাহীন পুরষ্কার ২০১৫ গ্রহণ করেছেন।

 

মুনিবা মাজারির কিছু  অনুপ্রেরণামূলক উক্তি দিয়ে শেষ করছি-

 

‘You are the hero of your own life story and heroes Never Give Up!’

“Pray for those who see their failure in your success!”

“I could not find a hero in my life so I became one.”

“We are all keen to gain but how many of us are willing to the loser? Always remember there are no major gains without major losses!”

“Words have the power to heal. So choose wisely!”

“I don’t know how my story will end, but nowhere in my text you’ll ever read I gave up.”

“Always love your mother because you will never get another.”

“When you share your story and it doesn’t make you cry, that means you are healed.”

“Happiness; a place between too much and too little!”

“Celebrate Your Life, Live it. Don’t Die Before Your Death, We all Die!”

“When you accept yourself the way you are, the world recognizes you.”

“I don’t know how my story will end, but nowhere in my text you’ll ever read ‘i gave up’!”

“Be grateful for what you have, and trust me you’ll have more.”

“We are all perfectly imperfect and that’s perfectly alright.”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close