রাইটার্স ক্লাব স্পেশাল

আত্মহত্যার পেঁছনে।

গল্প: আত্মহত্যার পেঁছনে।
লেখা: রূপসীনা খুকু
.
.
“আহা মেয়েটা কত ভালো ছিল”-

“ঠিক বলেছেন ভাবি।
এমন করে কেউ? কেবল তো জীবনের শুরু ছিল,এখনও জীবনের কত কিছু করার বাকি ছিল তার!
কেন যে এমন করতে গেল!”

এদিকে গোল হয়ে বসে থাকা মহিলাদের আরেকজন কানে ফিসফিসিয়ে বলল, “নিশ্চয়ই কোনো গড়বড় আছে ভাবি বুঝলেন তো। এমনেই কেউ মরে?
খোঁজ নিয়ে দেখেন কার সাথে পিরিত করে পেট ভারী করছে, এখন মনে হয় পোলা মানে না সেইজন্যই কুকাম ঢাকতে আত্মহত্যা করল!”
কিছু কিছু মহিলা আবার সায় দিয়ে “হু, হা, হ হ ঠিকে কইছেন” বলল।

অনেক পুরুষরা আবার বলছে, “আহা, মাইয়াটা ইশকুলে, কলেজে যাইত, কি সুন্দর পরীর নাহাল লাগত, এমন কইরা কেউ মরে?”

আবার কিছু কিশোরী, যুবতীরা কাঁদছে আর কিছু আলগা পিরিতি যুক্ত কথা বলছে।

পাড়ার কিছু ছেলেরা বলাবলি করছে, “আহ রে, বইন টা কত ভদ্র ছিল, এমন ভালো মেয়ে যে এমন করবে কে জানত?”

তরীর লাশের খাঁটিয়া রাখা উঠোনে উক্ত মন্তব্য করছিল কিছু হৃদয়বান ব্যক্তি, যেমনটা সচারচর হয় প্রত্যেকটি মরা বাড়িতে!

সবাই কথা গুলো বলার পর হঠাৎ দমকা হাওয়া বইতে লাগল, কিছু সময় পর সব শুনশান।
এতক্ষণ যারা এইসব কথা বলে হা-হুতাশ করছিল, তারা প্রত্যেকেই গলা ধরে গোঙাচ্ছে, কারো কারো জিহ্বা বের হয়ে আছে, কারো আবার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, কারো আবার এসবের সাথে নাক-কান দিয়েও রক্ত বেরুচ্ছে!
সবাই প্রাণপণে গলা থেকে কিছু একটা ছুটাবার চেষ্টা করছে কিন্তু প্রত্যেকেই ব্যার্থ হচ্ছে, তাদের চোখ দিয়ে কান্নার সাথে রক্তও বেরুচ্ছে!

হুট করে একজনের পর অন্যজন বলছে,

“আমি তরীরে সব সময় কইতাম তুই ভালা না দেখতে, তর ত বিয়া হওন মুশকিল”

“আমি এখন যতই বলি ভালো, আমি নিজে তরীকে বলেছি সে খারাপ”

“আমি তরীর নামে এমনিতেই দুর্নাম ছড়িয়েছিলাম,শুধু তার নাম খারাপ করার জন্য”

“আমরা নিজে তরীর ইশকুল বন্ধের জন্য ওর বাপরে মিথ্যা কথা কইছিলাম”

“বয়ফ্রেন্ড নিয়ে আমরা ছিলাম ব্যাস্ত, তরীকে সময় দেইনি কখনও”

“আমরা কত না বাজে টিজ করছি তরীরে”
.
.
খাঁটিয়ার তরী শুধু সবাইকে জানিয়ে দিল কেন সে আত্মহত্যা করল!

রূপসীনা খুকু

আসসালামু আলাইকুম, আমি খুকু, অদক্ষ হাতে হাবিজাবি লিখি আর সেটাই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে! আশা করি ভালো লাগবে! :-D

এই রকম আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close